উজানের ঢলে পাবনা অঞ্চলে পদ্মা ও যমুনার পানি দ্রুত বাড়ছে। পদ্মার পানি বিপৎসীমার মাত্র ৭৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি বাড়ায় পাবনা ও কুষ্টিয়ার চরাঞ্চলে ফসলের মাঠ প্লাবিত হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা, মহানন্দা ও পুনর্ভবার পানি কমতে শুরু করলেও এখনও পানিবন্দি প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ।
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা, ডিগ্রীর চর, দাদাপুর, চর কুড়ুলিয়াসহ বিভিন্ন চর এবং সদর উপজেলার চর ভবানিপুর ও শানিকদিয়া এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে পানি ঢুকেছে। কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমর পানি জমেছে; আগাম জাতের ফসল, সবজি ও অন্যান্য আবাদ তলিয়ে গেছে।
পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানির উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক শূন্য ৬ মিটার, সেখানে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। আরিচা পয়েন্টে যমুনার পানি ছিল ৭ দশমিক ৮৩ মিটার, বিপৎসীমা ৮ দশমিক ৯৫ মিটার। জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম জানান, প্রায় ১০০ টন জিআর চাল, ৩০০ প্যাকেট শুকনো খাবার ও নগদ সহায়তার বরাদ্দ রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁচ ইউনিয়ন— নারায়ণপুর, আলাতুলি, পাঁকা, উজিরপুর ও দুর্লভপুরের নিম্নাঞ্চলের প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ পানিবন্দি। অনেক পরিবার উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে; উঠান, ঘর ও গোয়ালঘরে পানি ঢুকেছে এবং গবাদি পশু সরিয়ে নিতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন বাসিন্দারা। পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক জানান, তাঁর ইউনিয়নেই প্রায় দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি এবং চারটি প্রাথমিক ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাবে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ ও গোমস্তাপুরে ২০৬ দশমিক ৪ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে আউশ ১১৩ হেক্টর, শাকসবজি ৪০ হেক্টর, কলা ২৮ হেক্টর, মাষকলাই ১০ দশমিক ৬ হেক্টর, আমন পাঁচ হেক্টর, হলুদ চার হেক্টর, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের বীজতলা ৩ দশমিক ৪ হেক্টর, মরিচ তিন হেক্টর ও পেঁপে দুই হেক্টর। উপপরিচালক কৃষিবিদ আতিকুল ইসলাম বলেন, পানি কতদিন স্থায়ী হয় তার ওপরই চূড়ান্ত ক্ষতি নির্ভর করবে।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে উপজেলা কৃষি অফিসের প্রাথমিক হিসাবে এক হাজার ৫০ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে— রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নে ৫১৯, ফিলিপনগরে ২২৮, চিলমারীতে ১৬৫ এবং মরিচা ইউনিয়নে ৯৫ হেক্টর। কৃষকদের দাবি, ক্ষতির পরিমাণ কৃষি বিভাগের হিসাবের চেয়ে বেশি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন বলেন, পানি দ্রুত নেমে গেলে কিছু ফসল রক্ষা করা সম্ভব হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।
সূত্র: সমকাল (সমকাল প্রতিবেদক)





মন্তব্য
(০)