উত্তরাঞ্চলে বাড়ছে খরা, নিচে নেমে যাচ্ছে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলে শুরু হয়েছে বিনা চাষে ধান উৎপাদন। কৃষক বলছেন, এ পদ্ধতিতে ধান আবাদের ব্যয় নেমে এসেছে অর্ধেকে। কৃষক পর্যায়ে এ পদ্ধতিগুলো ছাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি খরাসহিষ্ণু জাতের ধান আবাদেরও তাগিদ দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।
পদ্ধতিটি একেবারেই নতুন। তাই রাজশাহীর গোদাগাড়ি উপজেলার বিজয়নগরের তরুণ কৃষক কালুর কথা শুনে গ্রামের কৃষক নয় শুধু, অবাক হওয়ার কথা অনেকেরেই।
রাজশাহী গোদাগাড়ি বিজয়নগরের কৃষক শফিকুল ইসলাম কালু বলেন, যখন আমি প্রথমে ধান লাগাই তখন সবাই আমাকে বলেছিল পাগল। এটা কি লাগালি। ধান লাগানো শেষে আমার মা এসেছিল বলল ধান লাগাবা না, আমি বললাম ধান লাগানো তো শেষ, চাষ সারা ধান লাগিয়েছি। যখন ধান লাগিয়েছিলাম ছোট ছিল দেখা যেত না।
কৃষকের হিসেবে এ পদ্ধতি অনুসরণে ধান আবাদের ব্যয় নেমে এসছে অর্ধেকে। বিজয় নগরের আরেক কৃষক আবুল খায়ের বলেন, চাষের জমিতে বিঘায় সাড় ছয় হাজার টাকা খরচ হবে আর বিনা চাষের টায় খরচ হবে সাড়ে তিন হাজার। কৃষক কালু বলেন, বিনা চাষে ধান উৎপাদনে খরচ কম হচ্ছে এবং ফলনটা সমান পাচ্ছি।
চাষের প্রয়োজন না থাকলেও এ পদ্ধতিতে কিছু কৌশল অনুসরণের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানাচ্ছেন কৃষক।
কৃষক কালু বলেন, প্রথমে ঘাস মারা যাওয়ার বিষ স্প্রে করেছি, ঘাস মরে গেছে, পরে ডিপ টিউবওয়েল থেকে পানি ছেড়ে দিছি। পানি ছেড়ে দেওয়ার একদিন পর মাটি যখন নরম হয়ে গেছে তখন শ্রমিক দিয়ে দড়ি দিয়ে লাইন করে ধান লাগিয়ে দিয়েছি। কোন চাষ ছাড়াই এ কাজ হয়ে গেছে। মই পর্যন্ত লাগেনি।
তারা বলছেন বিনা চাষ পদ্ধতির জন্য খরা সহিষ্ণু ব্রি ধান-৫৬ বা ব্রি ধান ৫৭ এর উপযোগিতার কথাও।
কৃষক কালু বলেন আমরা দুই বছর ধরে এই ধান লাগাচ্ছি ব্রি ধান ৫৭।
সম্পদ কম ব্যবহার করে ফসল আবাদের এই কৌশল খরাপ্রবণ অঞ্চলগুলিতে ছড়িয়ে দেয়া সময়ের দাবি বলে জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।
রাজশাহীর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডক্টর ইলিয়াস হোসেন বলেন, আমাদের গবেষণায় এসেছে ধানের চারা লাগানোর আগেই জমিতে ছয় হাজার লিটার পানি লাগে। এখানে চাষ না দিয়ে আমাদের দু’হাজার লিটার পানি লাগতেছে। সেক্ষেত্রে আমরা শুধু একদিন আগে ভিজিয়ে রাখছি আর পরে চারা লাগাচ্ছি।
উপকরণ ব্যয় আর শ্রমিক খরচ যখন ধান আবাদে কৃষককে করছে হতাশ তখন বিনা চাষে ধান আবাদের এই পদ্ধতি কৃষকের জন্য নতুন এক শুভ বার্তা।
দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই পদ্ধতিটি অনুসরণ করলে অন্যান্য ফসলের মতো ধান আবাদও কৃষকের জন্যে হতে পারে লাভজনক।





মন্তব্য
(০)