সরকারি হিসাবে কৃষি বাংলাদেশে উচ্চ অগ্রাধিকার পায়—মোট সরকারি ব্যয়ের প্রায় ১০ শতাংশ যায় এ খাতে। তবু খাতটির প্রবৃদ্ধি ধীর হয়েছে, উৎপাদনশীলতার অগ্রগতি দুর্বল হয়েছে। ঢাকায় প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনের বক্তব্য, সমস্যাটা কত টাকা খরচ হচ্ছে তা নয়—কোথায় খরচ হচ্ছে তা।
‘রিপারপাজিং অ্যাগ্রিকালচারাল পাবলিক স্পেন্ডিং ফর কোয়ালিটি গ্রোথ অ্যান্ড জবস ইন বাংলাদেশ’স অ্যাগ্রিফুড সিস্টেম’ শিরোনামের প্রতিবেদনটি বলছে, বড় অংশ যাচ্ছে ভর্তুকি ও ধানসংশ্লিষ্ট সহায়তায়; অথচ খামারের উৎপাদনশীলতা ও কৃষকের আয় বাড়ানোর জন্য যা সবচেয়ে জরুরি—গবেষণা, পরামর্শ সেবা, সেচ, বাজারে প্রবেশাধিকার ও জলবায়ু সহনশীলতা—সেগুলো তহবিলবঞ্চিত থেকে যাচ্ছে।
সহায়তার সবচেয়ে বড় রূপটি সার ভর্তুকি, যা কৃষি মন্ত্রণালয়ের বাজেটের প্রায় ৮০ শতাংশ। এই ভর্তুকি উৎপাদন ধরে রাখতে ও দাম স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করেছে। কিন্তু ভর্তুকিটি যেহেতু কেনা সারের পরিমাণের সঙ্গে যুক্ত, জমি যত বেশি সুবিধাও তত বেশি।
সার ব্যবহারে ভারসাম্যও নেই। মাত্র ৫ শতাংশ কৃষক সুপারিশ করা মাত্রার মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ পুষ্টি-মিশ্রণ প্রয়োগ করেন। প্রতিবেদনটি একে চিহ্নিত করেছে বাড়তি খরচ ছাড়াই ফলন বাড়ানোর সবচেয়ে বড় সুযোগগুলোর একটি হিসেবে।
ধানের দিকে ঝুঁকে পড়াও একই দিকে টানে। আবাদি জমির প্রায় ৭২ শতাংশ ধানের দখলে এবং ভর্তুকির প্রায় ৮০ শতাংশ সুবিধা যায় সেখানেই—যদিও লাইভস্টক, মৎস্য, শাকসবজি ও কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণে প্রতিদান ও কর্মসংস্থান দুটোই বেশি। এই কেন্দ্রীভবন বৈচিত্র্যকে নিরুৎসাহিত করে।
প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, “বাংলাদেশের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনের কেন্দ্রে রয়েছে কৃষি। কিন্তু জলবায়ু ঝুঁকি, ভোগের ধরন বদল, সংকুচিত রাজস্ব সক্ষমতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে সারের দাম ও সরবরাহে বিঘ্ন—সব মিলিয়ে নীতি ও ব্যয়ের ফাঁকগুলো সামনে চলে আসছে।”
সুপারিশগুলো আকস্মিক নয়, ধাপে ধাপে সাজানো। স্বল্পমেয়াদে প্রতিবেদনটি বলছে মাটি পরীক্ষার পরিসর বাড়াতে, কৃষক পরামর্শ সেবা শক্তিশালী করতে এবং কৃষক কার্ড ও ই-ভাউচার চালু করতে—যাতে সহায়তা দরিদ্র ও জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পৌঁছায়। বিতরণ ভালো হলে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য অর্থ বেরিয়ে আসবে বলেই যুক্তি।
বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ও প্রতিবেদনের সহ-লেখক মনসুর আহমেদ বলেন, “সার ভর্তুকির নকশা ও বিতরণ আধুনিক করা মানে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, মাটির স্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং যাঁদের সবচেয়ে বেশি দরকার সেই কৃষকের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার বড় সুযোগ।”
সূত্র: বিশ্বব্যাংক





মন্তব্য
(০)