শিমকেন্তে সদ্য সংস্কার করা খালের পাশে দাঁড়িয়ে কৃষক আতাবেক কোজাবেকভ নিজের ফলনের হিসাব দিলেন। “এ বছর আমরা তুলা লাগিয়েছি। চারার সংখ্যা বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় উৎপাদনশীলতা ৫০ শতাংশ বেশি।” এখন প্রতি হেক্টর থেকে তিনি পাচ্ছেন ৬ হাজার ৫০০ কেজি তুলা।
তাঁর জমিটি দক্ষিণ কাজাখস্তানের সেই লাখো জমির একটি, যেগুলো বদলে দিয়েছে ‘সেকেন্ড ইরিগেশন অ্যান্ড ড্রেনেজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট’ (আইডিআইপি-২)। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় সরকার এর আওতায় সেচ ও নিষ্কাশন অবকাঠামো সংস্কার ও আধুনিক করেছে।
কাজের পরিসর ছোট নয়। কিজিলোর্দা, ঝাম্বিল, তুর্কিস্তান ও আলমাতি অঞ্চলে প্রকল্পটি ৮১২ দশমিক ৬ কিলোমিটার খাল নতুন করে আস্তরণ দিয়েছে, ২ হাজার ৩২৫ কিলোমিটার মাটির শাখা খাল পুনর্গঠন করেছে এবং ২৮ হাজার ৮০০-র বেশি জলকাঠামো মেরামত করেছে। ১ লাখ হেক্টরের বেশি কৃষিজমিতে সেচ ও নিষ্কাশন সেবা উন্নত হয়েছে।
পরিবর্তনের কিছুটা কংক্রিটে নয়, যন্ত্রে। কিজিলকুমের এক সাইটে আকেলিক গ্রুপের পাভেল গ্রাসমিক ট্যাবলেট বের করে দেখালেন দূরনিয়ন্ত্রিত পাম্প—এক দশক আগেও যা এখানে ভাবা যেত না। পানির স্তর ও চাপের সেন্সর থেকে তথ্য যাচ্ছে কেন্দ্রীয় সার্ভারে, অবিরাম।
শুধু ওই সাইটেই ১৪৭ কিলোমিটার খালে হাতে-কলমে প্রতিক্রিয়াশীল ব্যবস্থাপনার জায়গা নিয়েছে রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ। সমস্যা আসার আগেই ব্যবস্থাটি আঁচ করতে পারে, কর্মীরা অন্য কাজের জন্য সময় পান, আর যে পানি আগে অলক্ষ্যে নষ্ট হতো তা তাৎক্ষণিকভাবে ধরা পড়ে।
সব সমাধান উচ্চপ্রযুক্তির নয়। যেখানে খাল বসতির কাছ ঘেঁষে গেছে এবং ভারী যন্ত্র পৌঁছাতে পারে না, প্রকৌশলীরা ব্যবহার করেছেন বিটুমিন জিওমেমব্রেন আস্তরণ—কয়েক ঘণ্টায় বসানো যায়, টেকে বছরের পর বছর।
প্রকল্পটি কাজও তৈরি করেছে। পানি নিয়মিত আসতে শুরু করায় খাল নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে এবং আশপাশের কৃষি-ব্যবসায় নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে। নিষ্কাশন অবকাঠামো ও পাম্প স্টেশন নির্মাণে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের নুরকেনবায় বলেন, “আমরা এই গ্রামের বিশেষজ্ঞ আর বাইরের তরুণ শ্রমিকদের নিয়োগ দিয়েছি। তাঁরা ভালো কাজ করেছেন, ফল দিয়েছেন এবং মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।”
ফলাফলগুলো কাজাখস্তানের বৃহত্তর পানি-কর্মসূচির সঙ্গেও মিলে যায়—নতুন পানি আইন, ‘পানিসম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা ধারণা ২০২৪–২০৩০’ এবং সবুজ অর্থনীতিতে উত্তরণের পরিকল্পনা। এ কারণেই সরকার আইডিআইপি-২-কে এককালীন মেরামত নয়, বরং পুনরাবৃত্তিযোগ্য মডেল হিসেবে দেখছে।
সূত্র: বিশ্বব্যাংক





মন্তব্য
(০)