কুড়িগ্রামের চর রলাকাটার পাটচাষি গাটু শেখ বলছেন, এবার তাদের এলাকায় পাটের ফলন বেশ ভালো হয়েছে এবং তিনিসহ চাষিরা ভালো আয়ের আশা করছেন। কিন্তু জেলার কিছু এলাকায় বাজারে পাটের সরবরাহ হঠাৎ কমে গেছে, আর তাতেই জেলার সবচেয়ে বড় পাটের বাজার যাত্রাপুর হাটে বিক্রি কমে গেছে বলে স্থানীয়রা জানাচ্ছেন।
যাত্রাপুর হাটে সম্প্রতি মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, নদীপথে পার্শ্ববর্তী দেশে পাট পাচার হয়ে যাচ্ছে এবং সে কারণেই হাটে পাটের আমদানি কম। সীমান্ত এলাকায় মধ্যস্বত্বভোগীরা হাটের চেয়ে বেশি দামে পাট কিনে ভারতে নিয়ে যাচ্ছেন — এমন অভিযোগও উঠছে।
দামের ব্যবধানই মূল টান বলে মনে করছেন চাষিরা। একজন কৃষকের ভাষায়, যাত্রাপুর বাজারে বিক্রি করলে এখন চার হাজার টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়, কিন্তু ভারতের বাজারে সেটি পাঁচ-ছয় হাজার; এজন্যই ফড়িয়ারা বাজারের চেয়ে বেশি দাম দিয়ে কৃষকের কাছ থেকে পাট কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
সব অভিযোগ মানছেন না সরকারি কর্মকর্তারা। কুড়িগ্রামের মুখ্য পাট পরিদর্শক এটিএম খায়রুল হক, যিনি তিনটি জেলার দায়িত্বে আছেন, বলেন, "উত্তরবঙ্গের পাটের আঁশ একটু শক্ত হওয়ায় এর বাজার ভালো। স্থানীয় বাজারে এখন ৪৪শ টাকা রেট পাচ্ছে কৃষক। কৃষকরা পাট পাচার করে না।" ঢাকায় পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মোঃ নূরুল বাসির জানিয়েছেন, অভিযোগটি কয়েক মাস আগেই তারা পেয়েছেন এবং মন্ত্রণালয় থেকে বর্ডার গার্ডকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
সীমান্তে জব্দের ঘটনাও ঘটেছে। গত মাসের শেষ সপ্তাহে আদিতমারী সীমান্ত দিয়ে পাচারের সময় ৪৬০ কেজি পাট জব্দ করে বিজিবি; এর আগে ২৩শে অগাস্ট পাটগ্রামে জব্দ করা হয় আরও চারশ কেজি পাট।
নীতির দিকটিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ থেকে ভারতে কাঁচা পাট রপ্তানি নিষিদ্ধ, ফলে ব্যবসায়ীরা সরাসরি রপ্তানি করতে পারছেন না, অথচ ভারতের পাটকলগুলোয় বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের শক্ত আঁশের পাটের চাহিদা ভালো। দেশের সবচেয়ে বেশি পাট উৎপাদন হয় ফরিদপুর জেলায়, মোট উৎপাদনের প্রায় ৩০ শতাংশ, কিন্তু কর্মকর্তাদের মতে ফরিদপুরের পাটের আঁশ তুলনামূলক নরম।
বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান খন্দকার আলমগীর কবির বলছেন, কাঁচাপাট রপ্তানি বন্ধ থাকায় বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে পাচারের খবর তারা পাচ্ছেন। "উদ্বৃত্ত কাঁচা পাট রপ্তানির সুযোগ থাকলে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হতো, পাশাপাশি পাচার অভিযোগ আসতো না," বলেন তিনি। পাট উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে এবং সরকারি হিসাবে দেশে প্রায় ৯০ লাখ বেল পাট উৎপাদিত হয়।
সূত্র: বিবিসি বাংলা





মন্তব্য
(০)