চারণভূমি ও মরু ভূদৃশ্য পুনরুদ্ধার খাদ্য নিরাপত্তা, জীবিকা ও সহনশীল গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য—উলানবাটারে জাতিসংঘ মরুকরণবিরোধী কনভেনশনের ১৭তম সম্মেলনে (কপ১৭) এ কথা বলেছেন এফএওর উপমহাপরিচালক বেথ বেকডল।
তাঁর যুক্তির ভিত্তি একটি সহজ হিসাব। অটেকসই ভূমি ব্যবহারে অবক্ষয়িত ১৬৬ কোটি হেক্টর জমির প্রায় ৬০ শতাংশই কৃষিজমি—আবাদি জমি ও চারণভূমিসহ। এফএওর হিসাব বলছে, এই অবক্ষয়ের মাত্র ১০ শতাংশ ফিরিয়ে আনতে পারলেই প্রতিবছর বাড়তি ১৫ কোটি ৪০ লাখ মানুষের খাবার জোগানো সম্ভব।
ভূমি অবক্ষয় নিরপেক্ষতার লক্ষ্যে বিনিয়োগ বাড়াতে চালু হওয়া ‘র্যাঞ্জল্যান্ডস ফ্ল্যাগশিপ ইনিশিয়েটিভ’-এর উদ্বোধনী বক্তৃতায় বেকডল এমন একটি পার্থক্যের ওপর জোর দেন, যা যেকোনো পশুপালকের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “পুনরুদ্ধার মানে কেবল অবক্ষয়িত জমিকে আবার সবুজ করে তোলা নয়। কী জন্মাচ্ছে সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। ঘাস, গোখাদ্য ও অন্যান্য উদ্ভিদের বৈচিত্র্য ও মান গুরুত্বপূর্ণ—গবাদিপশুর জন্য, জীববৈচিত্র্যের জন্য এবং এই বাস্তুতন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদনশীলতা ও স্বাস্থ্যের জন্য।”
চারণভূমির ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধারে পশুপালকদের অংশীদার, নেতা ও সিদ্ধান্তগ্রহণকারী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ওপরও তিনি জোর দেন—অন্য কোথাও তৈরি পরিকল্পনার সুবিধাভোগী হিসেবে নয়। উদ্যোগটির তিনটি স্তম্ভকে স্বাগত জানিয়েছে এফএও: অভিন্ন জ্ঞান-কর্মসূচি, সরকারি ও বেসরকারি অর্থায়ন জোগাড়ের বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম এবং চারণভূমি ও পশুপালকদের নিয়ে একটি জোট।
‘আন্তর্জাতিক চারণভূমি ও পশুপালক বর্ষ ২০২৬’-এর নেতৃত্ব দিয়েছে এফএও। বেকডল বলেন, এতে উল্লেখযোগ্য দৃশ্যমানতা ও গতি তৈরি হয়েছে; এখন সেই গতিকে বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্বে রূপ দিতে হবে, যা চারণভূমির বাস্তুতন্ত্র ও পশুপালক জনগোষ্ঠীর জন্য বাস্তব ফল আনবে।
একই দিনে আগে উপমহাপরিচালক আফ্রিকার ভূদৃশ্য পুনরুদ্ধার নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব-আয়োজনে অংশ নেন, যেখানে মূল আলোচনা ছিল সাহেল অঞ্চলজুড়ে ‘গ্রেট গ্রিন ওয়াল’ উদ্যোগের সম্প্রসারণ—২০০৭ সাল থেকে মাঠপর্যায়ে যেখানে কাজ করছে এফএও।
তিনি তুলে ধরেন এফএওর নেতৃত্বাধীন ‘ওপেন ডিল—ডেটা ফর এনভায়রনমেন্ট, অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড ল্যান্ড’ কর্মসূচি, যা আফ্রিকায় ভূমি ব্যবহারের প্রথম মহাদেশীয় পর্যায়ের জীবপদার্থগত ভিত্তিমূল্যায়ন। অতি উচ্চ রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ছবি ব্যবহার করে ৩ লাখেরও বেশি নমুনা বিন্দু বিশ্লেষণ করে সাহেলের গ্রেট গ্রিন ওয়াল এলাকায় ১৬ কোটি ২০ লাখ হেক্টর অবক্ষয়িত জমি চিহ্নিত হয়েছে, যেগুলোর পুনরুদ্ধার দরকার। প্যান-আফ্রিকান এজেন্সি অব দ্য গ্রেট গ্রিন ওয়ালসহ অংশীদারদের সঙ্গে মিলে একটি সমন্বিত পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন ব্যবস্থা গড়ছে এফএও, যার তথ্য সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
বেকডল বলেন, শেষ বিচারে বাস্তবায়ন নির্ভর করে অর্থায়নের ওপর; তবে অর্থায়নের সিদ্ধান্ত হওয়ার আগেই কারিগরি ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা যায়। তাঁর ভাষায়, এফএওর কাজ “এমন পরিস্থিতি তৈরি করা, যাতে পুঁজি আসার সম্ভাবনা বাড়ে—এবং এলে সফল হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ে।”
সূত্র: এফএও নিউজরুম





মন্তব্য
(০)