রাজশাহীর বাঘায় চিরকুট লিখে রাতের আঁধারে ৯ চাষির ফসল নষ্ট করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (৫ নভেম্বর) রাতের কোনো এক সময় উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের টলটলিপাড়া মাঠে এমন ঘটনা ঘটে। পরে রোববার সকালে ক্ষেত দেখতে গিয়ে সেখানে হাতে লেখা চিরকুট পান চাষিরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের টলটলিপাড়া মাঠে ৯ কৃষক কেউ নিজের জমিতে আবার কেউ অন্যের জমি লিজ নিয়ে পেয়ারা ও আম বাগান এবং মরিচ, হলুদ ও বেগুন চাষ করেন। এসব জমির কিছু গাছ কেটে নষ্ট করা হয়েছে, আবার কিছু গাছ উপড়ে রাখা হয়েছে। নষ্ট করা হয়েছে খেজুর গাছের রস সংগ্রহের পাত্রও। এসব জমিতে পলিথিনে মোড়ানো চিরকুট রাখা হয়েছে। তাতে হাতে লেখা, 'মনি রতন শরিফুল শাকিম মেম্বার গাড়ি চাই'।
সরেজমিনে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত চাষি আবুল কালামের ১৪টি ও সাহাবুদ্দিনের সাতটি পেয়ারা গাছ, শাহিন আলমের ২৫টি এবং মুনসাদ আলীর ৫০টি মরিচ গাছ, বাবুল হোসেনের সাতটি মেহগনি গাছ, ইনছার আলীর ১০টি বেগুন ও পাঁচটি পেঁপে গাছ, আমিরুল ইসলামের খেজুর গাছের রস সংগ্রহের ২০টি মাটির পাত্র, আব্দুল মান্নানের একটি আমগাছ এবং সইদুল ইসলামের এক কাঠা হলুদের খেত নষ্ট করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সইদুল ইসলাম বলেন, কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা নেই, কে বা কারা এমন কাজ করেছে ভাবতে পারছি না। এই মাঠে গত বছরও কয়েকজন কৃষকের জমিতে চিরকুট লিখে এ ধরনের ক্ষতি করা হয়েছিল।
টলটলিপাড়া মাঠে প্রতিবিঘা ২০ হাজার টাকা দরে পাঁচ বিঘা জমি পাঁচ বছরের জন্য পাঁচ লাখ টাকায় লিজ নিয়ে পেয়ারার বাগান করেছেন আবুল কালাম। তার ১৪টি পেয়ারার গাছ কেটে নষ্ট করা হয়েছে। তিনি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এই আবাদ করেছেন। এতে তার অনেক ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলার বাউসা ভেড়ালীপাড়া গ্রামের মরিচ চাষি মুনসাদ আলী বলেন, ময়েন উদ্দিনের কাছে থেকে এক বিঘা জমি লিজ নিয়ে মরিচ চাষ করেছি। কে বা কারা রাতে সেই জমির ৫০টি গাছ উপড়ে দিয়েছে। আমি এর বিচার দাবি করছি।
বাউসা ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য শাকিম উদ্দিন বলেন, চিরকুটে আমার নাম লিখে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে রেখে আসা হয়েছে। ঘটনাটি দুঃখজনক। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
বাউসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ তুফান বলেন, বিষয়টি চাষিরা আমাকে জানিয়েছেন। পাশাপাশি চিরকুট দেখিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, কৃষকরা এ বিষয়ে মোবাইলফোনে জানিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জমি পরিদর্শন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বিষয়টি জেনেছি। তদন্ত করে অপরাধীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমআরআর/জিকেএস





মন্তব্য
(০)