সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৭°মূলত পরিষ্কারআর্দ্রতা ৮৭%বাতাস কিমি/ঘ

প্রযুক্তি কতটা প্রতিরোধ করতে পারবে বজ্রপাত?

দেশে বজ্রপাতের ঘটনা আগের চেয়ে অনেকটাই বেড়েছে। বজ্রপাতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার ফলে বাড়ছে প্রাণহানির ঘটনা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের প্রায় সর্বত্রই তালগাছসহ বড় গাছের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কমে এসেছে। বজ্রপাত এক ধরনের বিদ্যুৎ রশ্মি। জনমনে প্রচলিত আছে, আগে বজ্রপাত হলে তা তালগাছ বা অন্য বড় গাছের ওপর পড়তো। বজ

এগ্রোটেক

দেশে বজ্রপাতের ঘটনা আগের চেয়ে অনেকটাই বেড়েছে। বজ্রপাতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার ফলে বাড়ছে প্রাণহানির ঘটনা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের প্রায় সর্বত্রই তালগাছসহ বড় গাছের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কমে এসেছে। বজ্রপাত এক ধরনের বিদ্যুৎ রশ্মি। জনমনে প্রচলিত আছে, আগে বজ্রপাত হলে তা তালগাছ বা অন্য বড় গাছের ওপর পড়তো। বজ্রপাতের ওই রশ্মি গাছ হয়ে তা মাটিতে চলে যেত। ফলে জনমানুষের তেমন ক্ষতি হতো না।

দেশব্যাপী বনায়ন হলেও তা আকারের দিক থেকে বড় হয়ে ওঠেনি। মূলত এ কারণে বজ্রপাতে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই এ দুর্যোগ থেকে সাধারণ মানুষ যেন রেহাই পায় সেজন্য দেশব্যাপী তালগাছের চারা রোপণের উদ্যোগ নেওয়া দরকার। ফলে আগামী ২০-৩০ বছরে তালগাছে ভরে যাবে দেশ। ফলস্বরূপ বজ্রপাতের কারণে প্রাণহানি ঘটবে না বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। কারণ তালগাছ সব বজ্রপাত প্রতিহত করবে।

তালগাছ অন্যসব বৃক্ষের চেয়ে উঁচু থাকে বলে এর ওপর বজ্রপাত হয়। এই জ্ঞান একটি লোকায়াত অভিজ্ঞতা। দীর্ঘদিন পরিবেশে বসবাসের মাধ্যমে এটি অর্জন করেছে মানুষ। আধুনিক সময়ে একে 'সিটিজেন সায়েন্স' বলা হয়। এমন একটি সুন্দর জ্ঞান বা বিজ্ঞানের মধ্যে একটু শুভঙ্করের ফাঁকি আছে। তালগাছ বড় হতে অর্থাৎ বজ্রপাত ধরার মতো বড় হতে তালের জাত ও স্থানভেদে ২০-৩০ বছর সময় লাগবে। এই ২০-৩০ বছর সময়ে যে বজ্রপাত হবে এবং যে প্রাণহানি বা সম্পদহানি ঘটবে তার কী হবে?

বর্তমান সময়ে যারা বসবাস করছেন তারা কি বজ্রপাত থেকে রক্ষা পাওয়ার অধিকার রাখেন না? এই প্রশ্ন কিন্তু কেউ করছেন না। তাহলে কি বজ্রপাত প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়? কোনো লোকায়ত জ্ঞান যখন কোনো বিশেষ কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছে বা দ্রুত করতে পারেনি, তখনই নতুন জ্ঞান বা প্রযুক্তির উদ্ভব ঘটেছে। আধুনিককালে প্রযুক্তির মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করা হচ্ছে। একইভাবে বজ্রপাতও প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। বিজ্ঞানী বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন ১৭৪৯-১৭৫২ সালের মধ্যে প্রথম লাইটনিং রড ব্যবহার করে বজ্রপাত প্রতিরোধের পদ্ধতি আবিষ্কার করেন।

১৭৭২ সালে ঘুড়ি উড়িয়ে তিনি প্রমাণ করেছিলেন-মেঘের বিদ্যুতই বজ্রপাতের কারণ। পরবর্তী সময়ে চেকোস্লোভাকিয়ার বিজ্ঞানী ডম প্রোকোপ ডিভিস ও.প্রায়েম ১৭৫৪ সালে বজ্রনিরোধক যন্ত্রটিকে উন্নত করেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ তাদের আবহাওয়ার উপযোগী করে প্রয়োজন মতো বিভিন্ন বজ্রনিরোধক যন্ত্র বা ব্যবস্থা তৈরির পর তা ব্যবহার করে আসছে। সবচেয়ে শক্তিশালী বজ্রনিরোধক ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয় উড়োজাহাজে।

আমাদের দেশে বজ্রনিরোধক যন্ত্র বা ব্যবস্থা ব্যবহার করে বজ্রপাতের ফলে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। প্রয়োজন মতো গবেষণা করে দেশের আবহাওয়া উপযোগী লাইটনিং অ্যারেস্টার বা বজ্র নিরোধক যন্ত্র তৈরি করা সম্ভব যা বিদেশ থেকে আমদানি করা যন্ত্রের চেয়ে অনেক সস্তা হবে। বজ্র নিরোধক যন্ত্রটি মূলত তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত। এর একটির সঙ্গে আরেকটি সংযুক্ত থাকে। প্রথমটি বায়ুমণ্ডলীয় রড বা দণ্ড, যা বজ্রবিদ্যুৎ ধরে থাকে। দ্বিতীয় অংশটি পরিবহন তার, যা বায়ুমণ্ডলীয় রডে বা দণ্ডে ধারণকৃত বজ্রবিদ্যুৎ পরিবহন করে থাকে। তৃতীয় অংশটি ভূমিস্থ রড, যা পরিবাহিত বজ্রবিদ্যুতকে মাটির মধ্যে প্রবেশ করিয়ে নিউট্রালাইজ করে দেয়।

হাওর অঞ্চলের কোনো এলাকার বিশাল মাঠে তালবীজকে ২০-৩০ বছর পর বজ্রবিদ্যুৎ ধরার মতো বড় করা প্রায় অসম্ভব। কারণ এসব অঞ্চল বছরের অর্ধেকটা সময় পানির নিচে থাকে। এ কারণে তালের চারা বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কম। এছাড়া অন্য অনেক কারণ আছে। এমন মাঠে বিদ্যুৎ পরিবহন লাইনের ট্রাসের মতো টাওয়ার তৈরি করে (মোবাইলের টাওয়ারের মতো) লাইটনিং অ্যারেস্টার বা বজ্র নিরোধক যন্ত্র বসানো যায়। সেজন্য তালগাছ বড় হতে ২০-৩০ বছর অপেক্ষা করা দরকার নেই। সরকার চাইলে এখনই এটি স্থাপন করতে পারে। বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় এ ধরনের বজ্রনিরোধক যন্ত্র বসানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের শীর্ষপর্যায়ের কর্তাব্যক্তিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

প্রয়োজনে হাওরের জ্যোতদার (যারা জমি বরগা দেয়) ও ধনী ব্যক্তিদেরকে তাদের জমির এলাকায় বজ্র নিরোধক যন্ত্র বসানোর জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এর মাধ্যমে তাদের কৃষি জমিতে কাজ করা কৃষকের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। দেশে সাম্প্রতিক সময়ে আবহাওয়া অধিদফতরসহ বিশেষজ্ঞরা বজ্রপাত নিয়ে গবেষণা, আলোচনা, প্রচারণাসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। মিডিয়ায় এগুলো উঠেও আসছে।

বিদেশ থেকে ব্যয়বহুল বজ্রপাত সৃষ্টিকারী মেঘ শনাক্তের জন্য 'রাডার' ও বজ্রপাত শনাক্তের জন্য 'লাইটনিং ডিটেক্টর' যন্ত্র আমদানি করে দেশের কয়েকটি অঞ্চলে স্থাপন করা হয়েছে। রাডার দিয়ে বজ্রপাত সৃষ্টিকারী মেঘ শনাক্ত করে পূর্বাভাস দেওয়ার ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে।

অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে সেই পূর্বাভাস পাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আরেক যন্ত্র 'লাইটনিং ডিটেক্টর' দিয়ে বজ্রপাত হয়েছে কিনা তা জানার চেষ্টা চলছে। পশ্চিমা বিশ্বে এ ধরনের ব্যবস্থা গত শতকেই নেওয়া হয়েছে। আমরা অনেক দেরিতে তাদের অনুসরণ করছি বা তাদের আবিষ্কৃত ও ব্যবহৃত প্রযুক্তি ব্যবহার করে গবেষণা করছি। পূর্বাভাসের এই প্রক্রিয়া কতটা সফল হবে তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। কারণ কত সময় আগে পূর্বাভাস দেওয়া যাবে, কৃষকের সঙ্গে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন থাকবে কি না, যে জায়গায় কৃষক আছেন সেখান থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারবেন কি না (অনেক হাওর এলাকায় কৃষকের দ্রুত যাওয়া প্রায় অসম্ভব) ইত্যাদি এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

তবে দুঃখের বিষয় এত আলোচনা ও প্রচারণার মধ্যে কোথাও বলা হচ্ছে না, বজ্রপাত প্রতিরোধ কীভাবে হবে! কিছু বিশেষজ্ঞ লোকায়ত জ্ঞান ধার করে প্রচার করা হচ্ছে-তাল, নারিকেল, সুপারি গাছের চারা রোপণ ছাড়া বিকল্প নেই। আবার বজ্রপাত প্রতিরোধে ব্যবহৃত 'লাইটনিং অ্যারেস্টার যন্ত্র' ব্যবহার দেশের জন্য অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক নয়। এই যন্ত্র কৃষকের সুরক্ষায় কাজে আসবে না বলে অভিমত তাদের। মতামতটি বিপরীতমুখী। বজ্রপাত প্রতিরোধে তাল, নারিকেল, সুপারি গাছের বিকল্প ব্যবস্থা হলো 'লাইটনিং অ্যারেস্টার যন্ত্র'।

আড়াই শতক ধরে পশ্চিমারা এটি ব্যবহার করে আসছে। দেশে রাডার ও 'লাইটনিং ডিটেক্টর' বসিয়ে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করা লাভজনক, কিন্তু যে যন্ত্র বজ্রপাত ধরে প্রাণহানি ও সম্পদহানি কমাবে তা কি অর্থনৈতিকভাবে অলাভজনক? এক্ষেত্রে কোনো সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়া সিদ্ধান্ত দেওয়ার মানুষ যতদিন থাকবে ততদিন বজ্রপাতে ভুক্তভোগীদের মুক্তি নেই।

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

এগ্রোটেক

সম্পর্কিত খবর

এগ্রোটেক

ব্রাজিলের Sibium Analytics কিনে আখ ও জৈব জ্বালানিতে পা রাখল xFarm

সুইজারল্যান্ডের খামার ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি কোম্পানি xFarm Technologies ব্রাজিলের Sibium Analytics অধিগ্রহণ করেছে; এর মাধ্যমে আখ ও জৈব জ্বালানি খাতে ঢুকল কোম্পানিটি, আর তার আওতা বাড়ল বিশ্বের ছয় লাখের বেশি খামারের ২ কোটি ৪০ লাখ হেক্টর জমিতে।

এজিফান্ডনিউজ ২৪১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

রাইস সলিউশন অ্যাপ, কৃষিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগের উদ্যোগ

কৃষিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের গুণগতমান ভালো হয়। উৎপাদন খরচ কম হয়, শ্রমিক কম লাগে। কৃষি উপকরণ কম লাগে, কাজ নির্ভুল হয়, সময় কম লাগে, ঝুঁকি কম ও উৎপাদন বেশি হয়। কৃষির প্রায় সব ক্ষেত্রে এআই প্রয়োগ সম্ভব। যেমন- এআই তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস জেনে ফসলের

জাগো নিউজ ২৪১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬৫ মিনিটের পড়া
ফল

এআই দিয়ে স্ট্রবেরির জাত উদ্ভাবন: জাপানের Culta এখন বিশ্ববাজারের দিকে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ফলের জাত উদ্ভাবন করে চুক্তিবদ্ধ চাষির মাধ্যমে ব্র্যান্ডেড ফল বিক্রি করা জাপানি স্টার্টআপ Culta অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে আলোচনা চালাচ্ছে; ২০৩২ সালের মধ্যে তাদের লক্ষ্য ৩ হাজার কোটি ইয়েন (১৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার) আয়।

এজিফান্ডনিউজ ২৪১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬৩ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()