সাব-সাহারান আফ্রিকার সবচেয়ে বড় সেচ সম্ভাবনাগুলোর একটি ইথিওপিয়ার — ৫৩ লাখ হেক্টরেরও বেশি — আর তার প্রায় ১০ শতাংশে সেচ পৌঁছেছে। সরকারি অর্থে এই ফাঁক পূরণ হয়নি, আর সেবার চুক্তি, স্পষ্ট নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা বা ঝুঁকি কমানোর উপায় না থাকায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেরও এগিয়ে আসার কারণ ছিল না। প্রকল্প তৈরি হয়েছে, তারপর রক্ষণাবেক্ষণের দায় পড়েছে পানি ব্যবহারকারী সমিতিগুলোর একার কাঁধে — এভাবেই অবকাঠামো জীর্ণ হয়।
আন্তর্জাতিক পানি ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট (আইডব্লিউএমআই) ইথিওপিয়ার কৃষি মন্ত্রণালয়, পানি ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়, আঞ্চলিক দপ্তর এবং বেসরকারি খাতের সংগঠনগুলোর সঙ্গে মিলে ক্ষুদ্র সেচের জন্য দেশটির প্রথম জাতীয় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কৌশল ও বাস্তবায়ন নির্দেশিকা তৈরি করেছে।
শুরু হয়েছিল চারটি অঞ্চলে — সিদামা, মধ্য ইথিওপিয়া, দক্ষিণ ইথিওপিয়া ও হারেরি — চাহিদা নিরূপণ দিয়ে, যাতে দেখা হয়েছে বাজারের অবস্থা, সুশাসনের ঘাটতি এবং চালু প্রকল্পগুলো আসলে কেমন চলছে। এ থেকে তৈরি হয়েছে একটি বিজনেস মডেল কম্পেন্ডিয়াম, যেখানে সাতটি ব্যবহারিক অংশীদারত্ব মডেল আছে — প্রতিটির নিজস্ব ঝুঁকি বণ্টন, আর্থিক টেকসইতার পথ এবং সেবার সংজ্ঞা।
মডেলগুলো কেবল প্রকাশ করা হয়নি, পরীক্ষা করা হয়েছে। আইডব্লিউএমআই ও অংশীদারেরা সিদামা ও মধ্য ইথিওপিয়ার প্রকল্পে পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবসায়িক মডেল চালিয়ে দেখেছে — বেসরকারি সেবা সরবরাহ, শুল্কের কাঠামো ও কর্মদক্ষতাভিত্তিক চুক্তি, এবং মেপেছে কৃষক আসলে কত দিতে রাজি ও সেবা কতটা নির্ভরযোগ্য হলো। বহুপক্ষীয় অ্যাগ্রিকালচারাল ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট টাস্ক ফোর্স সেই ফলাফল নিয়ে গেছে জাতীয় কৌশলে, যেখানে ঠিক করা হয়েছে প্রমিত ক্রয়পদ্ধতি, নমুনা চুক্তি ও নিয়ন্ত্রক ভূমিকা।
যাচাই হওয়া মডেলগুলো এখন কাজে লাগছে বড় কর্মসূচিতেও, যার মধ্যে আছে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ক্রাইসিস-রেজিলিয়েন্ট সোশ্যাল প্রোটেকশন কর্মসূচি এবং আইফাড ও আইএফসি-সমর্থিত প্রকল্প।
কৌশলটি যে ফাঁকটি পূরণ করতে চায়, তা হলো প্রকল্প তৈরি হওয়া আর পাঁচ বছর পরও প্রকল্প চালু থাকার মধ্যকার দূরত্ব। ইথিওপিয়ার উত্তর — কে টাকা পেয়ে সেটি চালু রাখবে এবং কোন শর্তে, তা লিখে রাখা। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার সেচ কর্মসূচিগুলো এই প্রশ্নের জবাব কম স্পষ্ট করেই দিয়েছে।
সূত্র: সিজিআইএআর (CGIAR)





মন্তব্য
(০)