সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা৩৪°বৃষ্টির সম্ভাবনাআর্দ্রতা ৫৮%বাতাস কিমি/ঘবৃষ্টি ০.৭ মিমি

ফুটবলের সেই নান্দনিকতা কি হারিয়ে গেল?

সম্প্রতি গ্রামের বাড়ি থেকে একটি ছেলে আমার বাসায় এসেছে। নাম মুক্তার। চাঁদপুরের হাইমচরে তার বাড়ি। একেবারেই গ্রামীণ পরিবেশে বড় হওয়া এক তরুণ। চাষাবাদের কাজে সহযোগিতা করাই তার কাজ। খুব বেশি বাইরের পৃথিবী সম্পর্কে তার ধারণা নেই। এমনকি ফুটবল নিয়ে বিশ্বব্যাপী এ মাতামাতি তার মোটেই গায়ে লাগে না। আমি গত

মতামত

সম্প্রতি গ্রামের বাড়ি থেকে একটি ছেলে আমার বাসায় এসেছে। নাম মুক্তার। চাঁদপুরের হাইমচরে তার বাড়ি। একেবারেই গ্রামীণ পরিবেশে বড় হওয়া এক তরুণ। চাষাবাদের কাজে সহযোগিতা করাই তার কাজ। খুব বেশি বাইরের পৃথিবী সম্পর্কে তার ধারণা নেই। এমনকি ফুটবল নিয়ে বিশ্বব্যাপী এ মাতামাতি তার মোটেই গায়ে লাগে না। আমি গত সংখ্যার লেখায় বলেছিলাম, ফুটবল বিশ্বকাপের জ্বরে আক্রান্ত হয় না, এমন মানুষ নেই। ওকে দেখার পর বুঝলাম, এমন মানুষও আছে বিশ্বকাপের বাতাস যার গায়ে লাগে না। ওকে নিয়ে বেশ মজাই হলো।

বিশ্বকাপ এলে আমার একান্নবর্তী বাসার সবাই মিলে উৎসব করে খেলা দেখতে বসি। আমার ভাই-ভাবী, ছেলেপেলে, ভাস্তে-ভাস্তি, ভাগ্নে-ভাগ্নি সবাই মেতে উঠি আনন্দে। আমরা যে যে দলই সমর্থন করি না কেন খেলা দেখার আনন্দ সবাই সমানতালে উপভোগ করি। ফুটবল নিয়ে মুক্তারের একেবারেই নিরাসক্তিতে আমরা সবাই অবাক। মনে হলো জীবনে ফুটবল খেলাও ও দেখেনি। এ বিশ্বকাপ নিয়ে উন্মাদনা দূরের কথা, ও যেন কিছুই টের পাচ্ছে না। ফুটবল জ্বরে আক্রান্ত দেশে ও যেন ব্যতিক্রমী এক চরিত্র।

যাই হোক, গত ১৬ জুনের কথা। ওইদিন ছিল আইসল্যান্ড আর আর্জেন্টিনার খেলা। ঘরে বেশ কয়েকটি বিশ্বকাপের রেপ্লিকা ফুটবল ছিল। আমার ছোট ছেলে বিজয় ফুটবলের বিশেষ ভক্ত। সারাবছরই ও ফুটবল উত্তেজনায় মত্ত থাকে। ওর জন্যই রেপ্লিকার ওই সংগ্রহ। একটি বল এনে মুক্তারের হাতে দিলাম। বললাম, এই বল নিয়ে বসে তুই খেলা দেখবি। মুক্তার যথা আজ্ঞা হয়ে খেলা দেখতে বসল। বললাম, মাঠে যে ২২ জন খেলোয়াড় খেলছে এর মধ্যে একজন বিখ্যাত খেলোয়াড় আছে, যে সবচেয়ে ভালো খেলোয়াড়। নাম মেসি। তুই খেলা দেখে বলবি, ওই খেলোয়াড় কোনটা। যাই হোক, খেলার শেষ দিকে এসে আমরা আহত হলাম। এত হাঁকডাক আর অপেক্ষা করে খেলা দেখে আমরা নিজেরাই যেন আর্জেন্টিনাকে খুঁজে পেলাম না। মুক্তারকে জিজ্ঞাসা করলাম, বল সবচেয়ে ভালো খেলেছে কে? তার মানে মেসি কোনটা? মুক্তার যে খেলোয়াড়টিকে দেখাল সেটি হচ্ছে আইসল্যান্ডের গোলকিপার। সবাই হল্লা দিয়ে হেসে উঠল। আমিও যারপরনাই মজা পেলাম। মুক্তারের কাছে ওইটিই ‘মেসি’। কিন্তু পরক্ষণেই মনে হলো ফুটবলে শতভাগ নিরাসক্ত এই গ্রামীণ তরুণ খেলা না বুঝলেও ভালোটাকে চিনে নিতে জানে। সত্যিই তো, আমরা কেউই কি সেই মেসিকে খুঁজে পেয়েছি, যেই মেসিকে নিয়ে এত হাঁকডাক? খুঁজে পাইনি। পাঠক! আমার মনে হয় মুক্তারের মতো এই ফুটবলে গেঁয়ো ছেলেটির মূল্যায়নই ফুটবলের এখনকার পরিস্থিতি বোঝার জন্য যথেষ্ট।

সত্যি সত্যিই একের পর এক খেলা দেখছি, কিন্তু ২০১০, ২০১৪ বা তারও আগের বিশ্বকাপ ফুটবলের সেই মজা পাওয়া যাচ্ছে না। যে ক্রীড়ানৈপুণ্য, ফুটবলের যে ছন্দ দেখেছিলাম তা যেন হারিয়ে গেছে। যে দল বা যে খেলোয়াড়ের কাছে যত বেশি আশা তত বেশি হতাশ হতে হচ্ছে। বার বারই আমার মনে হচ্ছে ষাটের দশকে আমাদের ঢাকার মাঠে যখন খেলা দেখতে যেতাম তখনকার খেলোয়াড়দের নৈপুণ্যের কথা। সেই সময় থেকে স্বাধীনতার পর পর্যন্ত বাঘা বাঘা সব ফুটবলারের যে নৈপুণ্য দেখতাম, তার কাছে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় এ আয়োজনও যেন ম্লান মনে হচ্ছে। যদিও এটি একেবারেই আমার ব্যক্তিগত অভিমত। আমার মনে পড়ে সেই মাখরানি ফুটবলারদের কথা। বিশেষ করে জব্বার, কালা গফুর, হাশেম দীন, আব্বাস, ওমর আর আমাদের বলাই, টিপু থেকে শুরু করে জাকারিয়া পিন্টু পর্যন্ত। স্বাধীনতার পর তো আধুনিক ফুটবল নিয়ে এলেন সালাউদ্দিন, নান্নু, চুন্নু থেকে শুরু করে আসলাম, মুন্না, কায়সার হামিদ পর্যন্ত। যাদের খেলা এ প্রজন্মের তরুণরাও অনেকে দেখে থাকবে। আমি ষাটের দশকে স্কুল বয়স থেকে ঢাকা স্টেডিয়ামের একজন নিয়মিত দর্শক ছিলাম। তখন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ছিল আজকের জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের জায়গাটিতে। তার পাশেই সুইমিং পুল। তার পরই স্টেডিয়াম। মোহামেডানের খেলোয়াড়রা সুইমিং পুলের পাশে গেটটি দিয়ে স্টেডিয়ামে ঢুকত। অন্য সব খেলোয়াড় ঢুকত পল্টন প্রান্ত দিয়ে। এটিই ছিল প্লেয়ার্স গেট। সেই সময় আমি নিয়মিত মোহামেডান ক্লাবে যেতাম। অধিকাংশ প্লেয়ারের সঙ্গে আমার জানাশোনা ছিল। মাঝেমধ্যেই আমি খেলা দেখার জন্য ক্লাব পাস পেতাম। ফুটবলের এত বেশি ভক্ত ছিলাম যে, টিকিট থাক বা না থাক স্টেডিয়ামে যেতাম। স্টেডিয়ামের পেছন দিক থেকে রশিতে ঝুলেও গ্যালারিতে উঠেছি। দু-এক বার ছোটখাটো দুর্ঘটনারও শিকার হয়েছি। যাই হোক, তখনকার খেলা গ্যালারিতে দেখতাম বিধায় কোথায় ফাউল হলো বা অঘটন ঘটল তা খুব বেশি চোখে পড়ত না। আজ প্রযুক্তির উৎকর্ষ আর গণমাধ্যমের বিকাশের যুগে মাঠের কোনো দৃশ্যই চোখের আড়াল হয় না। যারা মাঠে বসে খেলা দেখেন তাদের চেয়ে অনেক বেশি ভালো দেখেন যারা টেলিভিশন সেটের সামনে বসে খেলা দেখেন। কিন্তু বার বারই মনে হচ্ছে খেলোয়াড়দের অবস্থানটা কোথায়? তাদের কাছে যে নৈপুণ্যের প্রত্যাশা, নেই নৈপুণ্য কোথায়? সেই সৌন্দর্য কোথায়?

ষাটের দশকে ঢাকার মাঠে জব্বার, কালা গফুরদের দেখেছি মধ্যমাঠ থেকে প্রতিপক্ষের চার-পাঁচ জনকে কাটিয়ে নিয়ে একেবারে ডি এলাকার ভিতরে গিয়ে গোল করতে। আর এখন দেখছি বড় বড় দলের নামি নামি (বিশেষ করে জনপ্রিয়তা লাভকারী খেলোয়াড়রা) দুজনকে কাটাতে গিয়েই হিমশিম খায়, কখনো কাটাতে গিয়ে সামান্য ধাক্কা খেয়ে পড়ে যায়। কখনো এই পড়ে যাওয়া সত্যি সত্যি আবার কখনো অভিনয়ও। এক ধরনের ভান। এবারই বেশি লক্ষ্য করছি নামি নামি খেলোয়াড়দের নামে অভিনয়, নাটক বা ভানের অভিযোগ উঠছে। ষাটের দশকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে এক জাদু নিয়ে আবির্ভূত হন পেলে। সেই সময় তো এসব অভিনয় আর ভান ছিল না! আবার ১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনাও তো উপহার দিলেন চরম এক জাদু। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ছয়জনকে কাটিয়ে বিস্ময়কর গোল তিনি উপহার দিলেন। এখনো দর্শকের চোখে সে দৃশ্য লেগে আছে। আবার ঢাকার ফুটবল মাঠের জাদুকর সামাদকে দেখেছি। জাদুকর সামাদের পায়ে এমন জাদু ছিল যে, একেবারে মেপে শট দিয়ে গোলপোস্টে বল করেছেন। কথিত আছে— একবার জাদুকর সামাদ বার বার শট দিচ্ছেন বার বারই বল গোলপোস্টের বারে লেগে ফিরে আসছে। তখন তিনি চ্যালেঞ্জ করলেন গোলপোস্টের বারের মাপে গণ্ডগোল আছে। পরে মেপে দেখা গেল তার কথাই ঠিক। মনে পড়ে মোহামেডানের খেলোয়াড় প্রতাপের কথা। মাঠে কখনো মোহামেডানের পক্ষে যদি কর্নার হতো, আর শটটা যদি প্রতাপ করত তাহলে গোল ছিল অবধারিত। স্টেডিয়ামের গ্যালারি বা মাঠে তখন পিনপতন নীরবতা বিরাজ করত। প্রতাপের সেই শটটা ছিল রংধনুর মতো। বল ঘুরে গোলপোস্টের ত্রিকোণাকৃতির মতো জায়গা দিয়ে জালে ঢুকত। যেখান থেকে বল রক্ষা করা গোলকিপারের জন্যও ছিল কঠিন এবং বেকায়দার ব্যাপার। যাই হোক, ফুটবলে যারা মাঠ মাতাতেন তাদের ঐশ্বর্য ছিল অন্যরকম। তারা যখন বল নিয়ে ছুটতেন তখন এক নান্দনিক দৃশ্যের অবতারণা হতো। সেখানে থাকত গতিময়তা, থাকত ছন্দ। দিনে দিনে এ ছন্দই যে হারিয়ে যাচ্ছে। আমার মনে হয়, বিশ্বকাপে নান্দনিক ফুটবল উপহার দেওয়ার মতো বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই অবসরে চলে গেছেন। তা ছাড়া এখন খেলার ধরনেও এসেছে নানামুখী পরিবর্তন। দীর্ঘস্থায়ী নান্দনিকতা দিয়ে মাঠে খেলোয়াড়দের সেই উপস্থিতি আর চোখে পড়ে না। সত্যিকার অর্থে বলের সঙ্গে লেগে থেকে শেষ পর্যন্ত নান্দনিকতা প্রদর্শনের মতো সেই ‘ফিনিশার’ এখন আর নেই। চ্যানেল আইতে এবার আমরা বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে বেশকিছু আয়োজন করেছি। এর মধ্যে রয়েছে সংবাদের ভিতরে ও বাইরে নিয়মিত মতামত ও বিশ্লেষণ। এ আয়োজনগুলোয় যাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তাদের মধ্যে একজন গোলাম সরোয়ার টিপু। তিনি ষাট ও সত্তরের দশকে ঢাকার মাঠ কাঁপানো এক ফুটবলার। মোহামেডানে খেলতেন, স্টপার হিসেবে। তখন ডিফেন্ডারকে স্টপার বলা হতো। তিনি কাউকে আঘাত করতেন না। বল নিজের আয়ত্তে রাখতে নিজের পেশিবহুল পাকে দৃঢ়ভাবে দাঁড় করাতেন। সেটিই যেন হয়ে যেত প্রতিরক্ষার এক প্রাচীর। ওই দৃঢ় পায়ের প্রতিরক্ষাকে পরাস্ত করে বল কেড়ে নেওয়া ছিল কঠিন ব্যাপার। বরং ওই পায়ে ধাক্কা খেয়েই প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় ছিটকে পড়ত। সেদিন ব্রাজিলের সবচেয়ে জনপ্রিয় তারকা নেইমারকে দেখলাম তার প্রতিপক্ষ কোস্টারিকার খেলোয়াড়ের হাতস্পর্শেই চিৎপটাং হয়ে পড়ে যেতে। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির মাধ্যমে বার বার দেখানোর ফলে সবাই বুঝেছে সেটি ছিল নিছক অভিনয়। এ নিয়ে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমগুলোও রসিয়ে রসিয়ে লিখেছে। এখন প্রযুক্তির অনেক উন্নয়ন ঘটেছে, মাঠে থার্ড আম্পায়ার ফোর্থ আম্পায়ার যুক্ত হয়েছে। কোনো কিছুই দর্শকদের জানতে বা দেখতে বাকি থাকে না। এবার বিশ্বকাপ অন্যবারের চেয়ে অনেক ক্ষেত্রেই ব্যতিক্রম। ব্যতিক্রম এজন্য, অনেক দর্শকের আশা-ভরসায় পূর্ণ অনেক বড় দলও এবার হতাশ করেছে। খেলায় হার-জিৎ আছে, তার পরও মানুষের আশা-ভরসার একটি গণ্ডি থাকে। সেই গণ্ডিও যেন এবার পেরিয়ে গেল। গতবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিদায় তেমনই একটি ঘটনা। অনেকেই বলেছেন অবিশ্বাস্য। কারও মতে, জার্মানির কাছে এটি আশা করা যায় না। তার মানে বিশ্বাস করেই নিতে হয় যে, দক্ষিণ কোরিয়া ততটাই ভালো করেছে, জার্মানি যতটা খারাপ করেছে। জার্মানির ভক্ত-সমর্থক তো এবার চরমভাবেই হতাশ।

খেলোয়াড়রা মাঠে আসেন ক্রীড়ানৈপুণ্য দেখাতে, তার দলকে জেতাতে। কিন্তু আজকালকার অনেক খেলোয়াড়ের আচরণ দেখে মনে হয় তার মাঠে আসার উদ্দেশ্য আলাদা। তাদের গ্ল্যামার প্রদর্শনটা খেলার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। চুলের বিভিন্ন রকমের কাটিং আর রঙের ব্যবহার দেখে প্রশ্ন জাগে তারা খেলতে না নিজেকে প্রদর্শন করতে এসেছেন? লক্ষ্য করি, তারা ফুটবলে লাথি দিয়েই পর্দার দিকে তাকান। লক্ষ্য করেন, ক্যামেরা তাকে ধারণ করেছে কিনা। তাহলে খেলোয়াড়ের মনোযোগ অন্য জায়গায় থাকলে, খেলার প্রতি মনোযোগের কী হবে? এখন ‘ফেয়ার প্লে’র কথা বলা হয়। কিন্তু খেলায় এখন ধাক্কাধাক্কি আর অযাচিত আক্রমণের হার দিনে দিনে বাড়ছে। এখন খেলায় প্রায় প্রতি মিনিটেই অপ্রীতিকর এ ধাক্কাধাক্কি আর একজন আরেকজনকে আক্রমণের দৃশ্য দেখা যায়। ফুটবলের চেয়ে যেন প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের শরীরে আক্রমণেই এখন আগ্রহ অনেক বেশি। আমার লেখাটি পড়ে অনেক দর্শক ব্যথিত হতে পারেন বা আমার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করতে পারেন। বাল্যবেলা থেকেই আমি ফুটবল-অন্তঃপ্রাণ হওয়ার কারণে এ পর্যন্ত বিশ্বকাপের খেলাগুলো দেখে আমার যা মনে হয়েছে তা-ই লেখার তাগিদ বোধ করেছি। প্রিয় পাঠক! আপনার কাছেও আমার প্রশ্ন থাকল, বিশ্বের অন্যতম ফুটবলভক্ত দেশের নাগরিক হিসেবে আপনি নিজেই কি কাঙ্ক্ষিত ফুটবল-নৈপুণ্য দেখতে পাচ্ছেন? আপনার প্রিয় দল বা প্রিয় খেলোয়াড়ের কাছে আপনার যা প্রত্যাশা, তা কি পূরণ হচ্ছে? হচ্ছে না। সত্যিকার অর্থে সারা বছর ক্লাব ফুটবল নিয়ে খেলোয়াড়রা যতটা ব্যস্ত থাকেন, সে হিসেবে স্ব স্ব দেশের জাতীয় দলটির জন্য মনোযোগী থাকেন না। তাদের জন্য ক্লাব ফুটবলই অনেক বেশি লাভজনক। বিশ্বকাপের আগে নিজের দেশের দলটির জন্য মাত্র ১৫ দিন থেকে এক মাস সময় তারা দিয়েছেন। এটি বিশ্বকাপের মতো বিশাল আয়োজনের জন্য মোটেও যথেষ্ট নয়। আমি ঢাকার ফুটবলের অনেক উদ্ধৃতি দিয়েছি। এতে অনেকেই হয়তো বলবেন, বাংলাদেশ ষাটের দশকে এত ভালো খেলেও কেন বিশ্বকাপে যেতে পারল না। আমি বলব, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ, লিয়াজোঁ ও উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতার অভাব ছিল। কিন্তু এর ভিতরেও ব্যক্তি পর্যায়ে অনেক ভালো খেলোয়াড় তৈরি হয়েছে যারা বিদেশের মাটিতে অন্য দেশের হয়ে খেলে নৈপুণ্য ও সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। আশির দশকের শেষের দিকে আমাদের মুন্না, আসলাম ইস্ট বেঙ্গলের হয়ে খেলতে গিয়ে সাফল্যের নজির গড়েন। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের স্বপ্ন নিয়ে নিজেদের ফুটবল দলকে গড়ে তুলতে পারিনি। ভারত ঠিকই নিজেকে প্রস্তুত করছে। চীন চেষ্টা করে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। পৃথিবীজুড়েই ফুটবল ও ক্রিকেট নয় শুধু সব খেলাই বাণিজ্যিক রূপ পাচ্ছে। মনে হচ্ছে, যতটা না খেলা, তার চেয়ে বেশি টেলিভিশন শো। ক্রিকেটের পর ফুটবলও বাণিজ্যিক দিকে এগিয়ে যাওয়ার কারণে মান শেষ হয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন। একজন ফুটবলভক্ত হিসেবে ষাট থেকে নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত স্টেডিয়ামে গিয়ে যেমন খেলা দেখেছি, একইভাবে যখন টেলিভিশনে বিশ্বকাপ প্রচার শুরু হলো সেই ১৯৮৬ থেকেই নিয়মিত বিশ্বকাপ দেখে আসছি। এখনো রাত জেগে প্রতিটি খেলাই দেখার চেষ্টা করি। দেখতে বসেই নানাভাবে হতাশ হচ্ছি। মনে হচ্ছে প্রতি চার বছর পর পর একটি নির্দিষ্ট হারে ফুটবল তার নৈপুণ্য হারাচ্ছে।

শাইখ সিরাজদা এগ্রো নিউজ

মতামত

সম্পর্কিত খবর

মতামত

যেভাবে নিয়েছিলাম খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎকার

১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে সূচিত হয় গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা। সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বেগম খালেদা জিয়া। দেশের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। সে সময়টা ছিল মূলত দেশে শিল্পভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশকেই প্রাধান্য দেওয়ার, কিন্তু তার সরকার ক

শাইখ সিরাজ৩ জানুয়ারি ২০২৬৪ মিনিটের পড়া
মতামত

শেখ হাসিনার কৃষি দর্শন

এক দীর্ঘ অনিশ্চিত সময় পার করে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে নতুন নির্বাচিত সরকার। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী পরিষদের শপথ গ্রহণের একমাস পর ২০০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তারিখে নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিচ্ছেন জিল্লুর রহমান। দেশের সব শীর্ষ ব্যক্তিদের সমাগম বঙ্গভবনে। নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ শেষে অতিথি অ্যাপ্যায়

শাইখ সিরাজ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২৯ মিনিটের পড়া
মতামত

ব্র্যাক: দেশের সঙ্গে বেড়ে ওঠা উন্নয়নযোগী

বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছি আমরা। স্বাধীনতার অর্ধশত বছরে দেশের অর্জনগুলো সামনে তুলে আনছি আমরা। হিসেব করছি কোথা থেকে কোথায় এসেছে বাংলাদেশ। স্বাধীনতার পর যে দেশটির টিকে থাকা সম্পর্কে বিশ্বের অনেক চিন্তক নানা সন্দেহ পোষণ করেছিলেন, সেই দেশটিই আজ উন্নয়নের এক রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। সন্দেহ নেই এই

শাইখ সিরাজ২১ মার্চ ২০২২৫ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()