আর্দশ কৃষক ও কৃষির প্রাণপুরুষ হরিপদ কাপালীর জীবনাবসান। গতরাতে আসাননগর গ্রামের নিজ বাড়িতে হরিধানের আবিস্কারক খ্যাত ঝিনাইদহের হরিপদ কাপালী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। নিঃসন্তান হরিপদ কাপালী দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। এক যুগ আগে আমন মৌসুমের একটি বিশেষ ও উচ্চফলনীল ধান আবিস্কার ও তার বীজ বর্ধন করেন তিনি।
হরিপদ কাপালী। একেবারেই জীর্নশীর্ণ একজন মানুষ, কৃষিকাজ ছাড়া কিছুই বুঝতেন না। ২০০৪ সালের আমন মৌসুমে একদিন তিনি ধানক্ষেতে সন্ধান পান সবগুলো ধান গাছ ছাড়িয়ে মাথা উঁচু এক ধানের। নিজের মতো সংরক্ষণ ও বীজ বর্ধন করেন ওই ধানের। ২০০৫ সালে চ্যানেল আই এর ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’র প্রতিবেদনে উঠে আসে বিষয়টি।
তারপর দেশজোড়া পরিচিতি পৌঁছে যায় হরিপদ কাপালীর। ২০০৬ সালে হৃদয়ে মাটি ও মানুষ-এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে তাকে দেয়া হয় শ্রেষ্ঠ কৃষকের সম্মান। পরে হরিপদ কাপালীর আবিস্কৃত হরিধান’র আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও বীজ বর্ধনের জন্য হৃদয়ে মাটি ও মানুষ অনুষ্ঠানের পক্ষ থেকে নমুনাও দেয়া হয় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে।
পরে সরকারি স্বীকৃতি না পেলেও সারাদেশেই ছড়িয়ে পড়ে হরিধান। অসংখ্য কৃষকের ফসলের ক্ষেতে ছড়িয়ে পড়ে হরিপদের অবদান। এভাবেই দিনে দিনে অজানা অচেনা একজন সাধারণ কৃষক থেকে দেশের কৃষকের প্রিয় হয়ে ওঠেন হরিপদ। কৃষকের মনে তার নাম গেঁথে অনন্তকাল।





মন্তব্য
(০)