ডাচ্ সভ্যতার এক জীবন্ত প্রতীক হয়ে আছে উইন্ড মিল। যা কৃষি ও শিল্পনির্ভর জীবনব্যবস্থার পাশাপাশি জানান দেয় একটি জাতির ঐতিহ্যপ্রেম। যা নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই সারাবিশ্বের পর্যটকের। বিশেষ করে এশিয়াবাসীর।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক নীচে দেশটির স্থলভাগ, তাই নাম হয়েছে নেদারল্যান্ডস। বাতাস থেকে শক্তি উৎপাদনকারী যন্ত্র উইন্ডমিলই চবির মতো দেশটিকে চেনার জন্য যথেষ্ট। ঐতিহ্য আড়াই’শ বছরের। জান নদীর পাড়ে জানসে স্কানস নামের ছোট্ট গ্রামটি এসব ঐতিহ্যেও সঙ্গেই ধরে রেকেছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিও।
নেদারল্যান্ডস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মী হেলেন রুহে জানান, যুদ্ধেও সময় বিমান হামলা চালাতে ওপর থেকে লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করা হতো। তখন বাড়ির ছাদে লিখে দেয়া হতো নাম, সনাক্তকরণ শব্দ। নেদারল্যান্ডসের অনেক বাড়ির ছাদে তাই নাম লেখা আছে।
বিশাল পাখাটিই উইন্ড মিলের সবকিছু নয়। এর গোড়ায় রয়েছে রীতিমতো কারখানা। যেখানে অবিরাম চলছে এক কর্মযজ্ঞ। বহুকাল আগে যা চলতো তাই চলছে এখনও। মিল চালক জন বলছেন, শিল্প বিপ্লবের জীবন্ত এই সাক্ষীই বলে দেয় নবায়নযোগ্য শক্তির ভাবনা পৃথিবীতে কতো পুরনো।
উইন্ড মিলের চালক জন বলেন, ‘আজ থেকে আড়াইশ বছর আগেই মানুষ শিল্প বিপ্লবের সময় নবায়নযোগ্য শক্তির কথা চিন্তা করেছে।
উইন্ড মিলের ওপরে পাখা ঘুরছে, আর নীচে ঘুরছে বিশালাকার পাথুরে চাকা। তার নীচে পিষ্ট হচ্ছে লাইম আর গেরুয়া পাথর। তা থেকে তৈরি হচ্ছে রংসহ অনেক কিছু।
জন আরও জানান, এই পাথরগুড়ো দিয়ে পেইন্ট সহ নানা জিনিস তৈরি হয়।
এসব কর্মযজ্ঞ দেখতে বেশি কৌতুহল এশিয়ার মানুষের। জানসে স্কানসের কমিউিনিকেশন অফিসার সাসকিয়া বাক্স জানান, প্রতিবছর দশ লাখেরও বেশি পর্যটক আসেন এখানে। শতকরা ৮৪ ভাগই এশিয়ার। ১৭ তেকে ১৯ শতকে এখানে প্রায় ১৩ হাজার উইন্ড মিল তৈরি করা হয়। সেখান থেকেই টিকে আছে ১২ টি যা ঐতিহ্য হিসেবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।




মন্তব্য
(০)