মৎস্য ও অ্যাকুয়াকালচার খাতের নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞদের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক আয়োজন—মৎস্য কমিটির (কোফি) ৩৭তম অধিবেশন শুরু হয়েছে রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সদর দপ্তরে। অধিবেশনের আগে পোর্ট স্টেট মেজারস অ্যাগ্রিমেন্ট (পিএসএমএ) কার্যকর হওয়ার ১০ বছর পূর্তি উদ্যাপন করা হয়।
এফএওর মধ্যস্থতায় হওয়া পিএসএমএ ছিল অবৈধ, অনিবন্ধিত ও অনিয়ন্ত্রিত (আইইউইউ) মাছ ধরা ঠেকাতে প্রথম বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক চুক্তি। এটি কাজ করে আইইউইউ তৎপরতায় যুক্ত জাহাজকে বন্দরে ঢুকতে ও মাছ খালাস করতে না দিয়ে—ফলে অবৈধভাবে ধরা মাছ আন্তর্জাতিক বাজারে ঢোকা ঠেকানোর তুলনামূলক সাশ্রয়ী উপায় এটি। চুক্তির পক্ষগুলো বিদেশি জাহাজ ঢোকার আগে তার আইনি অবস্থান যাচাই করতে বাধ্য।
চুক্তিতে এখন ৮৬টি পক্ষ রয়েছে, যারা এফএওর ১১০ সদস্যের প্রতিনিধিত্ব করে; উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এখন এর আওতায়। সোমবার মলদোভা তার যোগদানপত্র জমা দিয়েছে। প্রতিবছর প্রায় ৭০০টি নির্ধারিত বন্দরে ২২ হাজারেরও বেশি পিএসএমএ পরিদর্শন হয়, আর ৮০টির বেশি সদস্যদেশকে কারিগরি ও সক্ষমতা উন্নয়নে সহায়তা দিয়েছে এফএও।
এফএওর মহাপরিচালক কু ডংইউ বলেন, সদস্য বাড়ার এই ধারা “এই স্বীকৃতিরই প্রতিফলন যে আইইউইউ মাছ ধরার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপের জন্য সীমান্ত ও অঞ্চল পেরিয়ে সহযোগিতা দরকার।” তিনি ২০২৩ সালের ‘বালি কৌশল’ পুরোপুরি বাস্তবায়নের তাগিদ দেন—যা আরও দেশকে চুক্তিতে আনা এবং পরিদর্শনের তথ্য দ্রুত বিনিময়ের রূপরেখা।
৭ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর চলা কোফি৩৭ অধিবেশনে বিশ্ব মৎস্য ও অ্যাকুয়াকালচারের সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করা হবে—এমন এক প্রেক্ষাপটে, যেখানে জলজ খাদ্যের চাহিদা বাড়ছে আর জলজ বাস্তুতন্ত্রের ওপর চাপও বাড়ছে। আলোচ্যসূচিতে আছে আইইউইউ মাছ ধরা, জলবায়ু অভিযোজন, ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী ও অ্যাকুয়াকালচারে সহায়তা, আন্তর্জাতিক সমুদ্র সুশাসন এবং বিপন্ন জলজ প্রজাতি নিয়ে সাইটিসের সিদ্ধান্ত।
কু ডংইউ উল্লেখ করেন, ছয় দশকে এই খাত পাঁচ গুণ বেড়েছে। তিনি অ্যাকুয়াকালচারের দ্রুত সম্প্রসারণ এবং এশিয়ার বাইরেও এর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে কমিটির কাছে এমন সুপারিশ চান, যাতে ভবিষ্যতের অ্যাকুয়াকালচার প্রবৃদ্ধি পরিবেশগতভাবে টেকসই, সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল ও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হয়।
এফএওর জুন মাসে প্রকাশিত The State of World Fisheries and Aquaculture প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মৎস্য ও অ্যাকুয়াকালচার উৎপাদন রেকর্ড ২৩ কোটি ৫০ লাখ টনে পৌঁছেছে, বাণিজ্য হয়েছে ১৮ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের এবং ৬০ কোটিরও বেশি মানুষের জীবিকা এর সঙ্গে জড়িত। অধিবেশনের পার্শ্ব-আয়োজনে থাকছে জলজ খাদ্যের মূল্যশৃঙ্খল, অ্যাকুয়াকালচারে উদ্ভাবন, মৎস্য ভর্তুকি নিয়ে ডব্লিউটিও চুক্তি, বিবিএনজে চুক্তি এবং তথ্য, ট্রেসেবিলিটি ও নিয়ন্ত্রণের নতুন প্রযুক্তি।
উদ্বোধনী দিনে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে মহাপরিচালক প্যাসিফিক আইল্যান্ডস ফোরাম ফিশারিজ এজেন্সিকে মার্গারিটা লিসারাগা পদক দেন; সলোমন দ্বীপপুঞ্জে সদর দপ্তর থেকে সংস্থাটি ১৭টি সদস্যকে সেবা দেয়।
সূত্র: এফএও নিউজরুম





মন্তব্য
(০)