কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ ও টমেটোর মতো আমদানিনির্ভর পণ্যগুলোর পর্যায়ক্রমে উৎপাদন বৃদ্ধি, সংরক্ষণ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসবে দেশ। পণ্যভেদে এ সময় সর্বোচ্চ চার বছর বলেও জানান মন্ত্রী।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, এ বছর এখন পর্যন্ত কোনো পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি। আগে সংরক্ষণের অভাবে পেঁয়াজ পচে নষ্ট হতো। বর্তমানে প্রযুক্তির কল্যাণে ছয় মাস পর্যন্ত পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। আগামীতে ৩ লাখ টন পেঁয়াজ সংরক্ষণের অবকাঠামোগত সুবিধা তৈরি করা হবে। আগামীতেও এ পণ্য আমদানির প্রয়োজন হবে না বলে আশা করেন তিনি।
কাঁচামরিচ আমদানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্ষায় মরিচ আমদানি হয়। কারণ দেশে মরিচগাছ সামান্য পানিতে মরে যায়। তখন 'শর্ট' হয়। আমরা চেষ্টা করছি মরিচগাছের আধুনিক চাষাবাদ করতে, উন্নত জাত আনতে, যেন আর নষ্ট না হয়।
এছাড়া আমাদের টমেটো আমদানি করতে হয়। আমরা প্রকল্প নিয়েছি, এরইমধ্যে বীজ এসেছে। এ দেশে সারা বছর টমেটো হয় না, বিশেষ করে বর্ষায় হয় না। এখন বর্ষায়ও টমেটো হবে। চেষ্টা করছি, আগামী দুই মৌসুম পরে আর আমদানি লাগবে না।
তিনি বলেন, এখন আদার এক-তৃতীয়াংশ আমদানি করতে হয়। এটির উৎপাদন বাড়াতে, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে কাজ করছি। দু-তিন বছরের মধ্যে এ পণ্যেরও আমদানি বন্ধ হবে।
এছাড়া তিন-চার বছরের মধ্যে পাটবীজ ও পেঁয়াজবীজ উৎপাদনেও আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হব।
কৃষিভিত্তিক দেশ হিসেবে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যের কথা তুলে ধরে আমিন উর রশিদ বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে কোনো কৃষিপণ্য যেন বাইরে থেকে আমদানি করতে না হয়। সে লক্ষ্যে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সংরক্ষণ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানোর উদ্যোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, কৃষকদের সেচ খরচ একটি বড় চিন্তার বিষয়। সেচের জন্য ব্যবহৃত দেশের সব পাম্প সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে এরইমধ্যে ৬০ থেকে ৬২ হাজার পাম্প সৌরবিদ্যুতে পরিচালনার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
এ সময় কৃষি সচিব মো. সেলিম খান উপস্থিত ছিলেন।
কৃষি খাতের উন্নয়ন ও সরকারের বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রার অগ্রগতি তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী জানান, প্রতি মাসে সাড়ে ৩ লাখ থেকে ৪ লাখ কৃষকের মধ্যে পর্যায়ক্রমে 'কৃষক কার্ড' বিতরণ করা হবে। এরইমধ্যে পাইলট পর্যায়ে প্রায় ১৪ লাখ কৃষকের ডাটাবেজ প্রস্তুত করা হয়েছে।
তিনি জানান, গত ছয় মাসে ২৫ লাখ গাছের চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২৪ লাখ ১৮ হাজারের বেশি চারা রোপণ করা সম্ভব হয়েছে। একই সময়ে ৪৭৮ দশমিক ৯ কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৪৭৫ দশমিক ৬১ কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন হয়েছে।
এনএইচ/এসএইচএস





মন্তব্য
(০)