ময়মনসিংহ শহরে ব্রহ্মপুত্রের তীরে জয়নুল আবেদিন পার্কের মূল ফটক পেরিয়ে একটু এগোলেই বাঁ দিকে লোহার রেলিং দেওয়া বাগান। সেখানে দেখা মেলে পিস লিলির— কম আলোতেও সহজে বেড়ে ওঠা যে গাছটি এখন অন্দরসজ্জার অন্যতম জনপ্রিয় নাম।
পিস লিলির আরেক নাম স্নো ফ্লাওয়ার। এর বৈজ্ঞানিক নাম Spathiphyllum floribundum, পরিবার Araceae. মার্জিত রূপ, সহজ পরিচর্যা এবং বায়ো-ফিল্টারিং গুণের জন্য বিশ্বজুড়ে বৃক্ষপ্রেমীদের কাছে এর কদর।
যুদ্ধে আত্মসমর্পণের প্রতীক বা শান্তির বার্তা হিসেবে ব্যবহৃত সাদা পতাকার সঙ্গে পিস লিলির মোড়ানো সাদা পাতার দৃশ্যমান মিল রয়েছে। এই সাদা পতাকাসদৃশ পুষ্পমঞ্জরির কারণেই এর নাম হয়েছে ‘শান্তির লিলি’।
গাছটির প্রাকৃতিক বাসস্থান মূলত মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার আর্দ্র গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু ক্রান্তীয় এলাকা। বনাঞ্চলের বড় গাছের ছায়ায় স্যাঁতসেঁতে মাটিতে এরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বেড়ে ওঠে। কম আলোর পরিবেশেও মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার কারণেই এটি গৃহসজ্জার আদর্শ উদ্ভিদ।
পিস লিলির পাতা চওড়া, দীর্ঘ ও উজ্জ্বল গাঢ় সবুজ; উপরিভাগ মসৃণ ও চকচকে। এর ফুল আসলে একক পাপড়ি নয়— কেন্দ্রীয় দণ্ডাকার পুষ্পমঞ্জরিকে ঘিরে থাকে একটি দুধ-সাদা বিশেষ পাতা। প্রজাতিভেদে টবে রোপণ করা গাছ সাধারণত এক থেকে তিন ফুট পর্যন্ত উঁচু ও ঝোপালো হয়।
শুধু সৌন্দর্যই নয়, এর পরিবেশগত গুরুত্বও আছে। নাসার ক্লিন এয়ার গবেষণা অনুযায়ী, পিস লিলি ঘরের ভেতরের বাতাস থেকে বেনজিন, ফরমালডিহাইড, ট্রাইক্লোরোইথিলিন ও অ্যামোনিয়ার মতো ক্ষতিকারক টক্সিন দূর করতে কার্যকর। এটি বাতাসের আর্দ্রতা বজায় রাখতেও সাহায্য করে।
পরিচর্যা সহজ— সরাসরি তীব্র সূর্যালোকের প্রয়োজন নেই, ঘরের অপ্রত্যক্ষ হালকা আলোতেই ভালো বাড়ে, আর মাটি শুকিয়ে এলে সামান্য পানি দিলেই চলে। গৃহ, অফিস কিংবা পার্কের অন্দরসজ্জায় গাঢ় সবুজ পাতার সঙ্গে দুধ-সাদা ফুলের বৈপরীত্য একধরনের প্রশান্তি তৈরি করে।
সূত্র: সমকাল (লেখক: চয়ন বিকাশ ভদ্র, উদ্ভিদবিজ্ঞানের অধ্যাপক ও প্রকৃতিবিষয়ক লেখক)





মন্তব্য
(০)