সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৭°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৮৯%বাতাস কিমি/ঘ

পাতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা লোমশ শুঁয়োপোকার বিস্ময়কর জীবন

সকালে বাড়ির পাশের গ্রামীণ রাস্তায় হাঁটছিলাম। হঠাৎ চোখ আটকে গেল রাস্তার ধারের ছোট্ট একটি দেবদারু গাছের পাতায়। পাতার ওপর ধীর গতিতে এগিয়ে চলেছে এক অদ্ভুত সুন্দর প্রাণী। পুরো শরীর ঘন সোনালি-সাদা লোমে আবৃত, আর পিঠের ঠিক মধ্যভাগে সারিবদ্ধ চারটি হলুদাভ-কমলা তুলির মতো লোমের গুচ্ছ। প্রথম দেখায় মনে হতে পারে প

পরিবেশ

সকালে বাড়ির পাশের গ্রামীণ রাস্তায় হাঁটছিলাম। হঠাৎ চোখ আটকে গেল রাস্তার ধারের ছোট্ট একটি দেবদারু গাছের পাতায়। পাতার ওপর ধীর গতিতে এগিয়ে চলেছে এক অদ্ভুত সুন্দর প্রাণী। পুরো শরীর ঘন সোনালি-সাদা লোমে আবৃত, আর পিঠের ঠিক মধ্যভাগে সারিবদ্ধ চারটি হলুদাভ-কমলা তুলির মতো লোমের গুচ্ছ। প্রথম দেখায় মনে হতে পারে প্রকৃতির নিপুণ কোনো শিল্পকর্ম। কিন্তু প্রাণিবিদ্যার শিক্ষার্থী হিসেবে বুঝতে আমার বেশি সময় লাগেনি। এটি কোনো সাধারণ কীট নয়; এটি একটি লোমশ শুঁয়োপোকা। যা একদিন রূপ নেবে একটি মথে। তবে এর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে খালি হাতে স্পর্শ করার ভুল করা উচিত নয়। কারণ এর শরীরের লোম আত্মরক্ষার এক কার্যকর অস্ত্র। সংবেদনশীল ত্বকে এই লোমের সংস্পর্শে এলে চুলকানি, জ্বালাপোড়া কিংবা অ্যালার্জির মতো প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

আমার দেখা এই শুঁয়োপোকাটি আর্থ্রোপোডা পর্বের ইনসেক্টা শ্রেণিভুক্ত একটি কীট। এটি লেপিডোপ্টেরা বর্গ এবং এরেবিডি পরিবারের সদস্য। শরীরজুড়ে ঘন লোম থাকায় একে সাধারণভাবে হেইরি ক্যাটারপিলার বলা হয়। বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় এটি সম্ভবত টাসক মথ গোষ্ঠীর একটি শুঁয়োপোকা। শুঁয়োপোকা হলো প্রজাপতি ও মথের জীবনের দ্বিতীয় ধাপ বা লার্ভা পর্যায়। ডিম ফুটে বের হওয়ার পর তাদের একমাত্র লক্ষ্য থাকে দ্রুত খাদ্য গ্রহণ করে বৃদ্ধি পাওয়া। এ সময় তারা গাছের পাতা খেয়ে শরীরে প্রয়োজনীয় শক্তি সঞ্চয় করে। পরিণত বয়সে তারা নিজেদের চারপাশে কোকুন তৈরি করে পিউপা অবস্থায় প্রবেশ করে। এরপর এক বিস্ময়কর রূপান্তরের মধ্য দিয়ে সেই কোকুন ভেদ করে বেরিয়ে আসে ডানাওয়ালা পূর্ণাঙ্গ মথ। যদিও দেখতে এটি প্রজাপতির মতো মনে হলেও, এটি প্রজাপতি নয়। প্রজাপতির গায়ের রং উজ্জল ও রঙিন, আর মথের কিছুটা অনুজ্জ্বল ও ধূসর বর্ণের।

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে বর্ষা ও গ্রীষ্মকালে, নানা প্রজাতির লোমশ শুঁয়োপোকার দেখা মেলে। ফলজ, বনজ এবং শোভাবর্ধনকারী বিভিন্ন গাছের পাতায় এদের বিচরণ সবচেয়ে বেশি। প্রকৃতির খাদ্যশৃঙ্খলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও কোনো কোনো সময় এদের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে গাছের পাতা খেয়ে কৃষি ও বনজ উদ্ভিদের ক্ষতি করতে পারে। লোমশ শুঁয়োপোকার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এর ঘন লোম। এই লোমই তাদের আত্মরক্ষার প্রধান উপায়। অনেক প্রজাতির লোমে সূক্ষ্ম কাঁটা কিংবা ত্বকে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে সক্ষম রাসায়নিক উপাদান থাকে। এসব লোম মানুষের ত্বকে লাগলে চুলকানি, জ্বালাপোড়া বা অ্যালার্জির সৃষ্টি হতে পারে। তাই এদের কখনোই খালি হাতে স্পর্শ করা উচিত নয়। ভুলবশত শরীরে লোম লেগে গেলে আক্রান্ত স্থান দ্রুত সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। গ্রামাঞ্চলে অনেকেই আক্রান্ত স্থানে লবণ লাগিয়ে থাকেন, তবে এর কার্যকারিতার পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই ঘরোয়া পদ্ধতির পরিবর্তে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরামর্শ অনুসরণ করাই নিরাপদ।

প্রকৃতির সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনাগুলোর একটি হলো মেটামরফোসিস বা পূর্ণাঙ্গ রূপান্তর। ক্ষুদ্র একটি ডিম থেকে জন্ম নেওয়া শুঁয়োপোকা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নিজেকে কোকুনে আবদ্ধ করে। বাইরে থেকে নিশ্চুপ মনে হলেও কোকুনের ভেতরে চলতে থাকে জটিল জৈবিক পরিবর্তন। একসময় সেই কোকুন ভেদ করে বেরিয়ে আসে ডানা মেলা একটি মথ। জীববিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি প্রকৃতির অন্যতম চমকপ্রদ রূপান্তর। অনেকেই শুঁয়োপোকা দেখলেই ভয়ে মেরে ফেলেন। অথচ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে পর্যবেক্ষণ করলে এই ক্ষুদ্র প্রাণী আমাদের শেখায় প্রকৃতির বৈচিত্র্য, অভিযোজন এবং জীবনচক্রের অসাধারণ গল্প। খাদ্যশৃঙ্খল রক্ষা থেকে শুরু করে জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য বজায় রাখতেও এদের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। পাতার আড়ালে নীরবে হেঁটে চলা এই লোমশ শুঁয়োপোকা যেন আমাদের মনে করিয়ে দেয় প্রকৃতির প্রতিটি প্রাণীরই রয়েছে নিজস্ব সৌন্দর্য, প্রয়োজনীয়তা এবং টিকে থাকার এক অনন্য কৌশল। ক্ষুদ্র প্রাণীটি শুধু একটি কীট নয়, এটি প্রকৃতির অপার সৃজনশীলতা, বিবর্তন এবং জীবনচক্রের জীবন্ত বিস্ময়।

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় যে ১০ সাপ, যেগুলো বিষধর

সাপ মানেই সেটি বিষধর- এমন ধারণা আমাদের অনেকের মধ্যে রয়েছে। বাড়ির উঠান, ঝোপঝাড়, কৃষিজমি কিংবা জলাশয়ের পাশে সাপের দেখা গেলে আতঙ্কিত হয় আমরা। অনেকে সাপটি চেনার আগেই সেটিকে মেরে ফেলে। অথচ বাংলাদেশে নিয়মিত দেখা যায় এমন সাপের একটি বড় অংশই বিষধর নয়।

জাগো নিউজ ২৪১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬৮ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সঙ্গী হারালে একাকী জীবন, বংশবৃদ্ধি থমকে হারিয়ে যাচ্ছে শকুন

একসময় ভাগাড়ে তাকালেই দেখা মিলতো শকুনের। মৃত প্রাণী খেয়ে জীবন ধারণ করে বলে ‌'প্রকৃতির ঝাড়ুদার' বলা হয় এই প্রাণীকে। তবে দিন দিন কমছে শকুনের সংখ্যা। বলতে গেলে বিলুপ্তির পথে প্রাণীটি।

জাগো নিউজ ২৪১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬৫ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()