সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা৩১°হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনাআর্দ্রতা ৬৪%বাতাস কিমি/ঘবৃষ্টি ০.১ মিমি

এক রানির কয়েকশো রাজা, পরোপকারী মৌমাছির বিচিত্র জীবন

মৌমাছি সত্যিই এক আশ্চর্য প্রাণী। এরা নিজেরাই বাড়ি তৈরি করে। এবং সেটাকে রীতিমত প্রাসাদই বলা যায়। এই প্রাসাদের কিন্তু একটা নাম আছে। একে বলে মৌচাক। মৌমাছিরা এটি তৈরি করে শীত বা অত্যধিক গরম থেকে নিজেদের বাঁচাতে, খাবার জমা রাখতে এবং থাকার জন্য স্থায়ী আশ্রয় হিসেবে। এক একটি মৌচাকে প্রায় ২০ হাজার থেকে এক লা

পরিবেশ

মৌমাছি সত্যিই এক আশ্চর্য প্রাণী। এরা নিজেরাই বাড়ি তৈরি করে। এবং সেটাকে রীতিমত প্রাসাদই বলা যায়। এই প্রাসাদের কিন্তু একটা নাম আছে। একে বলে মৌচাক। মৌমাছিরা এটি তৈরি করে শীত বা অত্যধিক গরম থেকে নিজেদের বাঁচাতে, খাবার জমা রাখতে এবং থাকার জন্য স্থায়ী আশ্রয় হিসেবে। এক একটি মৌচাকে প্রায় ২০ হাজার থেকে এক লাখ পর্যন্ত মৌমাছি থাকে। এরা খুবই পরিশ্রমী, পরোপকারী ও সামাজিক প্রাণী।

পৃথিবীতে প্রায় ২০ হাজার প্রজাতির মৌমাছি আছে। এদের কেউ একা থাকে আবার কেউ বা থাকে দলবদ্ধভাবে। কেউ প্রচুর মধু জমা করে আবার কেউ একেবারেই করে না। কেউ বা উদ্দাম, পোষ না মানা, ঘুরে বেড়ায় বনে-বাদাড়ে। কিছু কিছু প্রজাতি কিন্তু আছে, যাদেরকে মানুষ পোষ মানাতে পেরেছে। আরা এই পোষ মানা মৌমাছিদেরকে নিয়েই মৌচাষীরা তৈরি করে মৌ-খামার। বাজারের বেশিরভাগ মধুই কিন্তু আসে এসব খামার থেকে।

অবাক ব্যাপার হচ্ছে এদের মধ্যেও মানুষের মতো শ্রেণিবিভাগ আছে। আছে এক এক শ্রেণির এক এক ধরনের কাজ। মৌমাছিদের প্রধানত তিনটি শ্রেণি আছে-রানি মৌমাছি, রাজা মৌমাছি এবং কর্মী মৌমাছি। একটি মৌচাকে এতোগুলো মৌমাছির মধ্যে রানি থাকে কেবল একটি। আর রাজা! মৌমাছিদের রাজা কিন্তু আবার কয়েকশো, আর বাকিরা সব কর্মী। ওদের সমাজটাই যে এ রকমের। রানি একজন হলেও সেই কিন্তু মৌচাকের সর্বময় কর্ত্রী। সবাই তার কথা মেনে চলে। আকারেও এরা অন্যদের চেয়ে বড় হয়, প্রায় ১.৮ থেকে ২.২ সেন্টিমিটার। ডিম ফুটে বেরও হয় তাড়াতাড়ি। মাত্র ১৬ দিনের মাথায় পূর্ণাঙ্গ রানি ডিম থেকে বের হয়ে আসে।

রানি মৌমাছির কাজ হচ্ছে মৌচাকের বাকি কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখা আর ডিম পাড়া। প্রতিদিন এরা প্রায় এক হাজারটিরও বেশি ডিম পেড়ে থাকে। মজার ব্যাপার হলো রানি ডিম পাড়ে হুল দিয়ে। অবাক হওয়ার কিছু নেই। মৌমাছিরা হুল দিয়ে আত্মরক্ষাও করে, আবার ডিমও পাড়ে। একটি রানি মৌমাছি বাঁচেও বেশিদিন, প্রায় চার থেকে সাত বছর। আমাদের কাছে বিষয়টি তেমন কিছু না হলেও মৌমাছিদের কাছে অনেক কিছু। কারণ, একটি রাজা মৌমাছি বাঁচে মাত্র কয়েকদিন আর একটি কর্মী মৌমাছি বাঁচে বড়জোর কয়েক সপ্তাহ।

একটি মৌচাকে রানি মৌমাছি থাকে মাত্র একটি। তবে যদি ডিম ফুটে কোনো নতুন রানি মৌমাছির জন্ম হয়েই যায় সেক্ষেত্রে মৌচাকটি দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়। অর্থাৎ, আগের রানি মৌমাছি পুরোনো কিছু কর্মী নিয়ে নতুন চাক বানিয়ে সেখানে চলে যায়। রাজা মৌমাছিরা ডিম থেকে পূর্ণাঙ্গ হতে সময় নেয় ২৪ দিন। এরা হলো সব কুঁড়ের বাদশাহ। কোনো কাজ করে না, সারাদিন শুধু খায় দায় আর ঘুরে বেড়ায়। বসে বসে খায় বলেই এরা কর্মীদের চেয়ে একটু বড় আকারের হয়, প্রায় ১.৫ থেকে ১.৭ সেন্টিমিটার। রাজা মৌমাছির চোখ আবার অন্যদের থেকে বড় হয়। এটি দিয়েই রাজার সঙ্গে পার্থক্য করা হয় কর্মী মৌমাছির। তবে শুধু বসে বসে খায় বলে, যখন খাবার থাকে না তখন কিন্তু এদের তাড়িয়ে দেয় কর্মী মৌমাছিরা।

আরেকটা মজার কথা হলো, রাজা মৌমাছির হুল নেই। তারপরেও বিপদে পড়লে এরা হুল ফোটাতে ছুটে যায় ভোঁ ভোঁ করে। মৌচাকের যত ধরনের কাজ আছে, তার সবই করে কর্মী মৌমাছি। যেমন ধরুন, মৌচাকের ঘরগুলো পরিষ্কার করা, বাচ্চাদের খাবার দেওয়া, মৌচাক তৈরি করা, মধু জমা করা এমনকি মৌচাক রক্ষা করার দায়িত্বও কিন্তু এদের।

কর্মী মৌমছিরা আকারে সবচেয়ে ছোট, প্রায় ১.২ থেকে ১.৫ সেন্টিমিটার। ডিম থেকে পূর্ণাঙ্গ হতে এরা সময় নেয় মোটামুটি ২১ দিন। আর পূর্ণাঙ্গ হতে না হতেই কাজে লেগে পড়ে এরা। কর্মীদের প্রথম কাজ হলো মৌচাক মানে ওদের সেই প্রাসাদটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা। তারপর করতে হয় বাচ্চাদের দেখাশোনার কাজ। এরপরে আসে মধু সংগ্রহ করে তা জমা করা। এমনকি মৌচাকের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করাটিও এই কর্মী মৌমাছিরই কাজ। এরা পাখা দিয়ে বাতাস করে মৌচাকের তাপমাত্রা বাড়াতে বা কমাতে পারে। এভাবে এরা মৌচাকের তাপমাত্রা সবসময়ই ৩৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি রাখে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতিটা ওরা আগে থেকেই জানে।

সবচেয়ে অভিজ্ঞ কর্মী মৌমছিরা থাকে রক্ষণাবেক্ষণ বা গার্ডের দায়িত্বে। এরা চাকের চারদিকে ঘোরাঘুরি করে আর মৌচাকের ওপর নজর রাখে। যদি অন্য কোনো মৌচাকের মৌমাছি এসে মধু চুরি করে বা যদি ডাকাত আসে তাদেরকে আটকানোটাই ওদের কাজ। আমাদের সমাজের মতো ভালো মন্দ মৌমাছিদের সমাজেও আছে; মৌমাছিদেরও ডাকাত আছে। এরা হলো ভীমরুল বা বোলতা। এরা নিজেরা ভবিষ্যতের জন্য কিছু জমা করে না। শুধু মৌমাছির উপর ডাকাতি করেই চলে। গার্ড মৌমাছিরাও কিন্তু কম যায় না, ডাকাতি করতে এলেই একসঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়ে ওদের উপর। তখন তারা নিজের জীবনটিরও পরোয়া করে না।

এমনিতে কিন্তু মৌমাছিরা খুবই শান্তিপ্রিয়। বিনা কারণে এরা কাউকেই বিরক্ত করে না। শুধু আত্মরক্ষার জন্যই এরা হুল ফোঁটায়। তাছাড়া নয়। কারণ কর্মী মৌমাছিরা মাত্র একবারই হুল ফোঁটাতে পারে। এদের হুলের গঠন অনেকটা বড়শির মতো। মানে মাথাটা কাঁটাওয়ালা। একবার কোথাও ফোঁটালে তা আর বের করে নিতে পারে না। হুল ফোঁটানোর পরে ওই কর্মী মৌমাছিটা সঙ্গে সঙ্গেই মারা যায়।

রানি মৌমাছিদের হুল আবার সোজা এবং লম্বা। যা প্রধানত ডিম পাড়তেই তারা ব্যবহার করে। তবে পৃথিবীতে হুল ছাড়াও মৌমাছি আছে। এরকম প্রায় ১৪টি প্রজাতির মৌমাছি আছে এই পৃথিবীতে। এদের পাওয়া যাবে অস্ট্রেলিয়ায়। হুল নেই বলে সেখানকার লোকজন এদের বেজায় ভালোবাসে। আর এদের মধুর স্বাদও একটু অন্যরকম, টক-মিষ্টি, সঙ্গে হালকা লেবুর গন্ধ। তবে এরা মধু জমা করে খুবই কম।

মৌমাছিই যে আমাদের মধু দেয়, সেটা কে না জানে। তবে জানার বিষয় হলো মাত্র ১ পাউন্ড (১ পাউন্ড = ০.৪৫৩৬ কেজি প্রায়) মধু জমা করতে এদেরকে প্রায় ৯০ হাজার কিলোমিটার পথ উড়তে হয় আর এক লাখেরও বেশি ফুলে যেতে হয়। মজার ব্যাপার হলো, এরা এদের মৌচাক থেকে ২ কিলোমিটারের বেশি দূরে কখনই যায় না। এর বেশি যেতে পারে, তবে ফিরে আসতে পারে না, পথ ভুলে যায়। সেজন্য মৌচাকের আশপাশে থেকেই এরা এতটা পথ পাড়ি দেয়। অর্থাৎ বার বার যাওয়া আসা করে তবেই এই মধু তারা নিয়ে আসে। মৌমাছি কিন্তু মধু জমা করে রাখে তাদের বাচ্চাদের খাবার আর ভবিষ্যতের জন্য।

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

পদ্মার পানি নামছে, দৌলতপুরে শুরু হয়েছে খাওয়ার পানির সংকট

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে তিন দিনে পদ্মার পানি ১৫ সেন্টিমিটার কমলেও প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এখনও পানিবন্দি, আর হাজার হেক্টরের বেশি জমির ফসল নষ্ট হয়েছে।

সমকাল১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

বাঁশের ওপর টিকে থাকা পান্ডা কেন কেবল চীনেই মেলে

একটি পূর্ণবয়স্ক জায়ান্ট পান্ডাকে দিনে ১২ থেকে ৩৮ কেজি পর্যন্ত বাঁশ খেতে হয়, আর বাঁশবন ধ্বংস হলেই তার অস্তিত্ব সরাসরি হুমকিতে পড়ে।

বিবিসি বাংলা১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()