সংসারের জন্য সাগরে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন ছেলেরা। যাওয়ার সময় মা কহিনুর বেগমকে বলে গিয়েছিলেন, ‘আমরা আসব, তোমরা দোয়া করিও।’ ছয়-সাত মাস পেরিয়ে গেলেও বড় ছেলে ফেরেননি।
কহিনুর বেগম লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর পোড়াগাছা ইউনিয়নের আবু তাহেরের স্ত্রী। তাঁর দুই ছেলে গত মার্চের শেষ দিকে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হাতে আটক হন। ছোট ছেলে মো. তাহমিদ (১৫) ফিরলেও বড় ছেলে মো. তামজিদ (২০) এখনও বন্দি। তাঁর মতোই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে রামগতি ও কমলনগরের আরও আট জেলে পরিবারের।
এই জেলেরা ছিলেন পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য। তাঁদের অনুপস্থিতিতে কারও ঘরে খাবারের অভাব, কেউ সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
স্বজনদের তথ্যমতে, চলতি বছরের ২৩ মার্চ কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক থেকে ‘মা-বাবার দোয়া’ নামের একটি মাছ ধরার ট্রলার বঙ্গোপসাগরে রওনা হয়। এতে ছিলেন ১৬ জন মাঝিমাল্লা ও জেলে— তাঁদের বাড়ি লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায়। পরদিন থেকেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ২৮ মার্চ মহেশখালী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন ট্রলারমালিক মিজানুর রহমান; পরে জানা যায়, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী তাঁদের ধরে নিয়ে গেছে।
বয়স কম হওয়ায় পাঁচ মাসের বেশি কারাবাসের পর তাহমিদকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তার ভাষ্য, সাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলার দিক হারিয়ে মিয়ানমারের দিকে চলে যায়, এরপর সে দেশের বাহিনী তাঁদের আটক করে কারাগারে পাঠায়। সে বলে, ‘আমার বয়স কম হওয়ায় আমাকে স্থানীয় এক মেম্বারের জিম্মায় দেওয়া হয়। এরপর দূতাবাসের মাধ্যমে দেশে ফিরেছি। কিন্তু আমার ভাইসহ যারা সেখানে আছে, তাদের কথা মনে হলে খুব কষ্ট হয়।’
স্বজনদের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী লক্ষ্মীপুরের যে জেলেরা এখনও বন্দি, তাঁরা হলেন— রামগতির চর গজারিয়ার মো. জুয়েল (৩০), সোনালী গ্রামের ফরহাদ হোসেন (২২), চর পোড়াগাছার মো. নিরব (৩৯), মো. তামজিদ (২০), মো. রাকিব হোসেন (৩১) ও সাদ্দাম হোসেন (৩৩), চর গজারিয়ার মো. মেজবাহ উদ্দিন (৪২), চর গাজীর দক্ষিণ টুমচরের মো. লিটন (৩১) এবং কমলনগরের চর জগবন্ধুর মো. অজি উল্যাহ (৬১)।
রামগতির ইউএনও শেখ এহসান উদ্দীন জানান, বন্দি জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং এসব পরিবার যেন সহায়তা পায়, সে বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সূত্র: সমকাল (প্রতিবেদন: আতোয়ার রহমান মনির, লক্ষ্মীপুর)





মন্তব্য
(০)