সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা৩১°হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনাআর্দ্রতা ৬৪%বাতাস কিমি/ঘবৃষ্টি ০.১ মিমি

বরিশালে মালচিংয়ে কমছে চাষের খরচ, বাড়ছে ফলন

বৃষ্টিপ্রবণ ও নিচু এলাকা হওয়ায় বরিশালে কৃষিকাজে প্রতি বছরই নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় কৃষকদের। অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, আগাছা, রোগবালাই ও বাড়তি শ্রমিক খরচের কারণে অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এমন বাস্তবতায় আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি মালচিং পদ্ধতি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

শাকসবজি

বৃষ্টিপ্রবণ ও নিচু এলাকা হওয়ায় বরিশালে কৃষিকাজে প্রতি বছরই নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় কৃষকদের। অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, আগাছা, রোগবালাই ও বাড়তি শ্রমিক খরচের কারণে অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এমন বাস্তবতায় আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি মালচিং পদ্ধতি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা, আগাছা নিয়ন্ত্রণ, সেচের পানি সাশ্রয় এবং পরিচর্যার শ্রম কমানোর সুবিধায় বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় এ পদ্ধতিতে সবজি ও উচ্চমূল্যের ফসল চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।

কৃষি বিভাগ ও মাঠপর্যায়ের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শসা, টমেটো, মরিচ, বেগুন, চিচিঙ্গা, করলা, লাউ ও তরমুজসহ বিভিন্ন সবজি এবং উচ্চমূল্যের ফসল চাষে মালচিং প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন কৃষকেরা। বিশেষ করে আগাম সবজি উৎপাদন ও বিভিন্ন মৌসুমি ফসল চাষে এ পদ্ধতি কার্যকর হওয়ায় এর ব্যবহার ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে।

মালচিং পদ্ধতিতে জমিতে নির্দিষ্ট দূরত্বে বেড তৈরি করে তার ওপর বিশেষ ধরনের মালচিং পেপার বা পরিবেশবান্ধব প্ল্যাস্টিক শিট বিছিয়ে দেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় স্থানে ছিদ্র করে সেখানে চারা রোপণ করা হয়। এতে সূর্যের আলো সরাসরি মাটিতে পৌঁছাতে না পারায় আগাছার বৃদ্ধি কমে। একই সঙ্গে মাটির আর্দ্রতা দীর্ঘসময় ধরে রাখা যায়। ফলে ঘন ঘন সেচ দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। মাটির তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকায় ফসলের বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

কৃষকদের ভাষ্য, শুরুতে মালচিং পদ্ধতিতে জমি প্রস্তুত ও মালচিং পেপার ব্যবহারে কিছুটা অতিরিক্ত ব্যয় হলেও পরবর্তীতে আগাছা পরিষ্কার, সেচ ও শ্রমিকের খরচ কমে যাওয়ায় সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয় কমে আসে। পাশাপাশি ফসলের পরিচর্যা সহজ হওয়ায় একই সময়ে কৃষক অন্য জমির কাজেও মনোযোগ দিতে পারেন।

বরিশাল জেলার মুলাদী সদর উপজেলার কৃষক তাইজুল ইসলাম জানান, ‌তিনি এক একর জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো, করলা, বেগুন ও লাউ চাষ করেছেন। শুরুতে এ পদ্ধতিতে কিছুটা বাড়তি খরচ হলেও পরে আগাছা পরিষ্কার ও সেচের খরচ অনেকটাই কমে যায়। শ্রমিকের প্রয়োজনও কম হয়। প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় জমির পরিচর্যা সহজ হয়েছে এবং ফলন ও লাভ দুটোই ভালো পাচ্ছেন।

বরিশাল সদর উপজেলার লাকুটিয়া বাজারের আকাইদ এগ্রোর মালিক রাকিব হোসেন বলেন, 'এলাকায় মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। কৃষকদের এ প্রযুক্তিতে চাষাবাদে উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।'

তিনি জানান, মালচিং পেপারের চাহিদাও বাড়ছে। ২০ শতক জমিতে প্রায় ৪ ফুট চওড়া ও ১ হাজার ৬৮৫ ফুট লম্বা একটি মালচিং পেপার ব্যবহার করতে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ টাকা খরচ হয়। শুরুতে এই ব্যয় থাকলেও পরবর্তীতে সেচ, সার ও শ্রমের খরচ কমে যাওয়ায় কৃষকেরা তা পুষিয়ে নিতে পারছেন। তিনি নিজেও মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ করছেন বলে জানান।

জেলার উজিরপুর উপজেলার কৃষক সুজন মিয়া জানান, তিনিও মালচিং পদ্ধতিতে লাউ, করলা, বেগুন ও চিচিঙ্গা চাষ করছেন। দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজ করলেও এ পদ্ধতি ব্যবহারের পর জমির পরিচর্যায় সময় ও শ্রম দুটোই কম লাগছে। আগের তুলনায় খরচ কম এবং ফলনও ভালো হচ্ছে। তার সাফল্য দেখে আশপাশের কয়েকজন কৃষকও মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ শুরু করেছেন।

কৃষকদের ভাষ্য, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে একই জমিতে কম শ্রম ও তুলনামূলক কম পানি ব্যবহার করে ভালো ফলন পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে মালচিং শুধু উৎপাদন বাড়ানোর প্রযুক্তি নয় বরং কৃষকের সময় ও ব্যয় সাশ্রয়েরও একটি কার্যকর উপায় হয়ে উঠছে।

বাবুগঞ্জের চাঁদপাশা ইউনিয়নের দেলোয়ার এগ্রো ট্রেনিং সেন্টারের সিদ্দিকী সুমন বলেন, 'বরিশালের মতো বৃষ্টিপ্রবণ ও নিচু এলাকায় মাটির আর্দ্রতা ব্যবস্থাপনা কৃষির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত বৃষ্টির পর মাটির গুণগত পরিবেশ ধরে রাখা এবং বৃষ্টিহীন সময়ে সেচের প্রয়োজন কমানোর ক্ষেত্রে মালচিং কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে আগাম সবজি উৎপাদনে প্রযুক্তিটি কৃষকের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করছে।'

কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রার ওঠানামা ও পানির সংকট ভবিষ্যতে কৃষিতে আরও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। এ অবস্থায় মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা ও পানির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে মালচিংয়ের মতো প্রযুক্তির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তবে প্রযুক্তিটির সুফল পেতে মানসম্মত মালচিং পেপার, সঠিক প্রয়োগ পদ্ধতি এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি।

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) মো. মামুনুর রহমান বলেন, 'বরিশালে মালচিং পদ্ধতিতে সবজি ও ফল চাষ দিন দিন বাড়ছে। কৃষকদের এ প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব মালচিং পেপার ব্যবহারের মাধ্যমে মাটির আর্দ্রতা সংরক্ষণ, আগাছা নিয়ন্ত্রণ এবং সেচের পানি সাশ্রয় করা সম্ভব। তবে দক্ষিণাঞ্চলে বর্তমানে কতসংখ্যক কৃষক এ পদ্ধতিতে চাষ করছেন, সে বিষয়ে কৃষি বিভাগের আলাদা কোনো পরিসংখ্যান এখনো তৈরি করা হয়নি।'

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোসাম্মাৎ মরিয়ম জাগো নিউজকে বলেন, 'বরিশাল নিচু ও বৃষ্টিপ্রবণ এলাকা হওয়ায় এখানে মালচিং পদ্ধতির সম্ভাবনা বেশি। বিশেষ করে শীতকালীন ও খরিপ মৌসুমে আগাম সবজি উৎপাদনে এ পদ্ধতি লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদে উৎসাহিত করা হচ্ছে।'

তিনি বলেন, 'মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষণ, মানসম্মত কৃষি উপকরণের সহজলভ্যতা এবং সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ বাড়ানো গেলে বরিশালে মালচিং পদ্ধতির ব্যবহার আরও বিস্তৃত হতে পারে। এতে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি পানি ও শ্রমের সাশ্রয় হবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করে কৃষিকে আরও লাভজনক ও টেকসই করার সুযোগ তৈরি হবে।'

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

শাকসবজি

সম্পর্কিত খবর

শাকসবজি

বাজারে বিষমুক্ত করলার দাম নেই, আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকরা

জমির আইলের চারপাশে নীল রঙের জালের বেড়া। ভেতরে বাঁশ ও জালের মাচা। মাচার ওপরে সবুজ লতা। নিচে থোকায় থোকায় ঝুলছে তরতাজা করলা। কিন্তু এই করলায় নেই কোনো কীটনাশক বা রাসায়নিক বিষ।

জাগো নিউজ ২৪১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬৫ মিনিটের পড়া
মৎস্য

পদ্মার নাকি গুজরাটের ইলিশ, চিনবেন যেভাবে

বাঙালির পাতে ইলিশের কদরই আলাদা। গরম ভাতের সঙ্গে সরিষা ইলিশ, কাঁচা মরিচ দিয়ে ভাজা কিংবা ঝোল-যে পদই হোক, ইলিশের নাম শুনলেই জিভে পানি আসে। কিন্তু বাজার থেকে চড়া দামে ইলিশ কিনে এনে রান্নার পর যদি সেই চেনা ঘ্রাণ আর স্বাদ না মেলে, তখন আফসোসের শেষ থাকে না।

জাগো নিউজ ২৪১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
শাকসবজি

রবিশস্য হিসেবে চিয়া বীজ চাষ করবেন যেভাবে

ক্ষুদ্র দানাকৃতির চিয়া বীজ পুষ্টি ও শক্তির উৎস। চিয়া বীজের বিশেষত্ব হলো এর পুষ্টিমান। চিয়া বীজের পুষ্টিগুণ দানাদার শস্য বা তেলবীজগুলোর মধ্যে সেরা। চিয়া বর্ষজীবী, ঔষধি তৈলবীজ তিল বা তিষির মতো। এক মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। পাতা প্রতিপন্ন, দন্তর। ফুল স্পাইকে সজ্জিত, নীল, বেগুনি বা সাদা রঙের হতে পারে। দুট

জাগো নিউজ ২৪১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬৩ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()