খাগড়াছড়ি সদর থেকে পাঁচটি বস্তায় ভরা অবস্থায় ২৪টি গুইসাপ উদ্ধার করেছেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা, যার মধ্যে ১৪টি ছিল মৃত। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার রাত সাড়ে নয়টায় সদরের চেঙ্গিস স্কয়ারে অভিযান চালিয়ে একজন নারীর কাছ থেকে প্রাণীগুলো উদ্ধার করা হয়।
খাগড়াছড়ির বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ফরিদ মিঞা জানান, জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালানো হয় এবং ওই নারী বিক্রির জন্য গুইসাপগুলো সংগ্রহ করেছিলেন। প্রাণীগুলো ফেনী জেলা থেকে আনা হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেছেন।
স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, ওই নারী পানছড়ি উপজেলার কুরাদিয়া ছড়া গ্রামের বাসিন্দা। তাকে বুধবার রাতে খাগড়াছড়ি সদর থানার হেফাজতে রাখা হয় এবং বৃহস্পতিবার সকালে তার বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০২৬ এর অধীনে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
উদ্ধারের পর প্রাণীগুলোর কী হলো, তা জানিয়েছেন বন কর্মকর্তা। "জীবিত ১০টি গুইসাপকে আলুটিলার প্রাকৃতিক বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হয়েছে। আর যে ১৪টা গুইসাপ মারা গেছে সেগুলোকে ওইখানে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে যাতে পরিবেশ নষ্ট না হয়," বিবিসি বাংলাকে বলেন মো. ফরিদ মিঞা। সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওতে দেখা যায়, গুইসাপগুলোর লেজ-পা দড়ি দিয়ে বেঁধে বস্তার ভেতরে রাখা হয়েছিল।
কেন ধরা হয়েছিল, সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি। "এখানে লোকাল পিপল তো গুইসাপের মাংস খায়। মূলত খাওয়ার জন্যই সেগুলো সংগ্রহ করেছে," বলেন মি. মিঞা।
গুইসাপ বিরল কোনো প্রাণী নয়। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বাংলাদেশের বনজঙ্গল, ঝোপঝাড় ও কৃষিজমিতে এটি অহরহই দেখা যায় — যেখানেই একটু ঝোপঝাড়, পুকুর বা নদী আছে সেখানেই এর দেখা মেলে। নামের সঙ্গে 'সাপ' থাকলেও এটি আসলে সাপ নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নিয়ামুল নাসের বিবিসি বাংলাকে বলেন, এটি টিকটিকি জাতীয় প্রাণী, অর্থাৎ সরীসৃপ দলের চতুষ্পদী প্রাণী, ইংরেজিতে যার নাম মনিটর লিজার্ড। বাংলাদেশে তিন প্রজাতির গুইসাপ পাওয়া যায় এবং তার মধ্যে বেঙ্গল মনিটর লিজার্ড দেশের পার্বত্য অঞ্চলে বেশি মেলে বলে জানান তিনি। কৃষিজমির ইঁদুর ও পোকা নিয়ন্ত্রণে এই প্রাণীর ভূমিকা রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা





মন্তব্য
(০)