সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৭°মূলত পরিষ্কারআর্দ্রতা ৮৭%বাতাস কিমি/ঘ

মহিষের বাণিজ্যিক খামারে দ্বিগুণ লাভে ভাগ্য বদলাচ্ছে খামারিদের

তিনটি গাভি ও তিনটি বাচ্চা মহিষ দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে শুরু করা মহিষের খামারে ভাগ্য বদলেছে পাবনার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের ভগীরথপুরের রাসেল ব্যাপারীর। দ্বিগুণ লাভে তিন বছরে তার খামারে এখন ১৫টি গাভি ও ১০টি বাচ্চা মহিষ রয়েছে। এর মাঝে প্রায় লাখ টাকা দামে বিক্রি করেছেন ৭টি মহিষের বাচ্চা।

লাইভস্টক

তিনটি গাভি ও তিনটি বাচ্চা মহিষ দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে শুরু করা মহিষের খামারে ভাগ্য বদলেছে পাবনার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের ভগীরথপুরের রাসেল ব্যাপারীর। দ্বিগুণ লাভে তিন বছরে তার খামারে এখন ১৫টি গাভি ও ১০টি বাচ্চা মহিষ রয়েছে। এর মাঝে প্রায় লাখ টাকা দামে বিক্রি করেছেন ৭টি মহিষের বাচ্চা।

মহিষের গাড়ি চালিয়ে ও চাষ করে সংসার না চলা রাসেলের সংসারে এখন সুখের বন্যা। তাকে দেখে অনেকেই ঝুঁকছেন মহিষের এ বাণিজ্যিক খামারে।

রাসেল ব্যাপারী জানান, সবজি চাষ ও মহিষের গাড়ি চালাতেন তিনি ও তার বাবা। দিনরাত হাড়ভাঙা পরিশ্রমেও সংসার চালানো দায় ছিল তাদের। পার্শ্ববর্তী জেলা নাটোরের লালপুরে মহিষের খামার দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে ২০১৯ সালে ৭ লাখ টাকায় বাচ্চাসহ ৬টি মহিষ নিয়ে শুরু করেন খামার। এখন সেটি সম্প্রসারণে ভাগ্য বদলেছে তাদের। বছরজুড়েই অন্তত ৫ থেকে ৭টি মহিষ ৩ থেকে ৪ কেজি করে দুধ দেয়। এ দিয়েই খামারের মহিষের খাবারসহ অন্যান্য ব্যয় মিটে যায়। গরু বা অন্যান্য গবাদি পশুর তুলনায় রোগবালাই ও লালনপালনে খরচ কম হওয়ায় তেমন বিনিয়োগ ছাড়াই ব্যাপক লাভে রাসেলের খামার।

রাসেল বলেন, এখন আমার খামারে ছোটবড় মিলিয়ে ২৫টি মহিষ আছে। ৬টি মহিষ দুধ দিচ্ছে। প্রতিদিন ১৫ থেকে ১৮ কেজি দুধ পাচ্ছি। ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে এ দুধ বিক্রি হয়। একটি মহিষ গড়ে ৬ থেকে ৭ মাস দুধ দেয়। খাবারসহ গড়ে একটি মহিষের পেছনে দিনে ১০০ টাকার কম খরচ হয়। তবে আমাদের এতো খরচ হয় না, কারণ বিভিন্ন মাঠের ও জমিতে লাগানো ঘাস খাওয়ানোর ফলে খরচ অনেক কম হয়। এরপর প্রতিবছর মহিষ প্রতি একটা বাচ্চা আমাদের লাভ থাকে। বাচ্চাগুলো ৮০ হাজার থেকে লাখ টাকায়ও বিক্রি হয়।

তিনি বলেন, সবজিসহ অন্যান্য চাষে সংসার চালাতে পারছিলাম না। মহিষের গাড়ি বেয়েও কূলকিনারা পাইনি। বছরে ঘর নষ্ট হলে একটা টিন লাগাতে খুব হিসাব করতে হতো। এখন এই খামার করে অভাব ঘুচেছে। জমি কিনেছি, বাড়িঘরও ঠিক করেছি।

গত এক দশকে মাংস ও দুধের ক্রমবর্ধমান চাহিদায় মহিষের বাজারমূল্য বেড়েছে কয়েকগুণ। বাণিজ্যিক সফলতায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা থেকে অনেকেই এখন পুরোদস্তুর খামারি। এই খামার করে শুধু রাসেল ব্যাপারী নয়, পাবনার জয়নাল প্রামাণিক, ফরিদ ও মনি ব্যাপারীসহ কয়েকটি উপজেলার অন্তত ৩০ থেকে ৪০ জনের ভাগ্য বদলেছে। দুই থেকে তিন বছরে খামারের পরিসর বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ।

খামারি জয়নাল প্রামাণিক জানান, ২৬ থেকে ২৮ লাখ টাকায় ২২টি মহিষ কিনে খামার শুরু করি। লালন পালনের সময় একটি মহিষ মারা যায়। এ পর্যন্ত তিনটি মহিষ বিক্রি করেছি। তিন বছর পর এখন আমার খামারে ৪৫টি মহিষ রয়েছে। এদের দেখভালে আপাতত তিনজন রাখাল রাখা আছে। এবার এর সংখ্যা বাড়াতে হবে। পাশেই পদ্মার চর। এখান থেকে ঘাসের বড় একটি চাহিদা মিটে যায়। বাকিটা রোপণ করা ঘাস ও অল্প খৈল ভূষিতে মেটে। সবমিলিয়ে গরু বা অন্যান্য গবাদিপশুর তুলনায় মহিষ পালনে খরচ অনেক কম।

তিনি বলেন, একটি মহিষ বছরে একটি বাচ্চা দেয় এবং ৬ থেকে ৮ মাস অবধি দুধ দেয়। এ দিয়ে নিজেদের দুধের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিক্রি করে মহিষ পালনের খরচ উঠে যায়। এরমধ্যে খামার থেকে বছরে ২০টি বাছুর পেলে প্রায় ২০ লাখ টাকাই লাভ হয়।

রোগ-বালাইয়ের ব্যাপারে তিনি বলেন, মহিষের রোগবালাই কম। তবে একেবারে হয় না, তা নয়। একটি মহিষ মারা গেলে প্রায় দেড় দুই লাখ টাকা শেষ। এদিক থেকে সচেতন থাকতে হয়। এর পাশাপাশি সরকারি পশু চিকিৎসকরা একটু সহযোগিতা করলে ভালো হয়। কিন্তু আমরা সেটি তেমনভাবে পাই না। অধিকাংশ সময় বাইরের ডাক্তার ডেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাই।

বাণিজ্যিকভাবে মহিষ পালনে শুধু খামারিদের ভাগ্য বদলায়নি, সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক কর্মসংস্থানের। অধিকাংশ বড় খামারগুলোতে দুই থেকে পাঁচজন লোক কাজের সুযোগ পাচ্ছেন।

মহিষ দেখভালের দায়িত্বে থাকা রাখাল সাগর বলেন, সকালে দুধ দোহানো শেষে মাঠে আনি। সারাদিন মাঠে ঘাস খাওয়াই। দিনে ৪ থেকে ৫ বার নদীতে নিয়ে ডুবিয়ে (গোসল) রাখতে হয়। গরমের দিনে অর্ধেক দিন খাওয়াতে হয়, আর অর্ধেক দিন পানিতে রাখতে হয়।

তিনি বলেন, এখনতো মহিষ পালনে খরচ নেই বললেই চলে। তবে বর্ষাকালে যখন মাঠঘাট পানির নিচে থাকে, তখন ঘাসের সংকট হয়। এসময় উঁচু জমিতে ঘাস চাষ করে খাওয়াতে হয় এবং খৈল ভূষিও বেশি লাগে।

আরেক রাখাল খায়রুল বলেন, আগে ইটের ভাটায় কাজ করতাম। গাঁধার মতো খাটতে হতো। শরীরের কিছু থাকতো না। এখন এসব খামার হওয়ায় আমাদের কাজের সুযোগ হয়েছে। এই কাজে পরিশ্রম কম। ১৫ হাজার টাকা বেতন পাই। এ দিয়ে সংসার চলে।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য বলছে, ৫ বছর আগেও এ জেলায় মহিষের সংখ্যা ছিল মাত্র ৭ হাজার। বাণিজ্যিক খামার তেমন দেখা যেত না। শুষ্ক মৌসুমে চারণভূমি, জলাধার ও গোখাদ্যের সহজলভ্যতায় জেলার চরাঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে মহিষ পালনে আগ্রহী হচ্ছেন খামারিরা। বর্তমানে জেলায় ৬৬টি খামারে প্রায় ২২ হাজার মহিষ লালন পালন হচ্ছে। এবছর ৬০৫টি মহিষের প্রজনন করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা একেএসএম মুশারফ হোসেন বলেন, জেলার সদর, ঈশ্বরদী, সুজানগর, সাঁথিয়া, বেড়া ও চাটমোহরে বাণিজ্যিকভাবে মহিষ পালন বেশি হচ্ছে। এক্ষেত্রে গলাফুলা ও কৃমিনাশকের টিকা প্রদানসহ আমরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা করছি। মহিষের প্রজননে প্রতি উপজেলায় একজন করে দক্ষ টেকনিশিয়ান রাখা হয়েছে। এছাড়া মাঠকর্মীদের মাধ্যমে এ খামার সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। এ অঞ্চলে পর্যাপ্ত চারণভূমি থাকায় বাণিজ্যিকভাবে মহিষ পালন দ্রুত বড় ধরনের একটি সফলতা বয়ে আনবে।

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

লাইভস্টক

সম্পর্কিত খবর

লাইভস্টক

সিদ্ধ ডিম কতক্ষণের মধ্যে খাওয়া উচিত?

ঝটপট প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে কিংবা সকালের নাশতায় ডিমের জুড়ি নেই। ব্যস্ত সকালে সময় বাঁচাতে অনেকেই একসঙ্গে কয়েকটি ডিম সিদ্ধ করে রাখেন। পরিবারের সবাই খাওয়ার পরও দু-একটি ডিম বেঁচে গেলে তখন প্রশ্ন আসে-সেগুলো কি পরে খাওয়া যাবে? নাকি সিদ্ধ ডিম দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়? সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে সিদ্ধ ডিম ফেলে দেওয়ার

জাগো নিউজ ২৪১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

সরকারি সহযোগিতায় শৌখিন পায়রা রপ্তানি সম্ভব

দেশে বাড়ছে শৌখিন পায়রা পালনের বাণিজ্যিক উদ্যোগ। নরসিংদীতে এমনই এক সফল খামার গড়ে তুলেছেন এক উদ্যোক্তা। সেখানে রয়েছে নানা জাতের বিদেশী পায়রা। উদ্যোক্তা বলছেন, সরকারের সহযোগিতা পেলে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও এসব শৌখিন পায়রা রপ্তানি করা সম্ভব।

শাইখ সিরাজ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬১ মিনিটের ভিডিও
লাইভস্টক

প্রতিদিন ডিম খেলে শরীরে কী হয়?

ডিম আমাদের প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় থাকা সহজলভ্য ও পুষ্টিকর একটি খাবার। সকালের নাশতা থেকে শুরু করে দুপুর বা রাতের খাবাররে বিভিন্নভাবেই ডিম খাওয়া হয়।

জাগো নিউজ ২৪১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬৩ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()