সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮+০.০%আদা - আমদানিকৃত১৬৭+০.০%আদা - দেশী১৫৪+০.০%আমন চাল - মাঝারি৫৬+০.০%আমন চাল - মোটা৪৮+০.০%আমন চাল - সরু৭২+০.০%আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২+০.০%কাঁচা মরিচ২১৮+০.০%খামারের মুরগী১৬২+০.০%খাসী৯০০+০.০%চিনি (দেশী)১৩২+০.০%ছোলা - গোটা৮৫+০.০%ডিম ফার্ম - লাল৪৭+০.০%পেঁয়াজ - দেশী৬০+০.০%বোরো চাল - মাঝারি৫৫+০.০%বোরো চাল - মোটা৪৭+০.০%বোরো চাল - সরু৬৬+০.০%মাংসঃ– গরু৭২৯+০.০%মুগ ডাল১২২+০.০%রসুন - আমদানিকৃত১৯২+০.০%রসুন - দেশী১৭৩+০.০%সয়াবিন তেল১৬৩+০.০%
হালনাগাদ ৭ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৭°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৫%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

ভাঙনে ভিটে হারিয়ে মেঘনায় নৌকাই ঘর, মাছ ধরেই চলে ভাসমান সংসার

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ থেকে ভোলার ইলিশা ও তজুমদ্দিন পর্যন্ত মেঘনার তীরে নদীভাঙনে ঘরহারা বহু পরিবার এখন নৌকায় থাকে; নতুন চর জাগলেও তাদের ঠাঁই হয় না, শিশুরা স্কুলের বাইরে, নাগরিক সেবাও নাগালে নেই।

ভাঙনে ভিটে হারিয়ে মেঘনায় নৌকাই ঘর, মাছ ধরেই চলে ভাসমান সংসার
পরিবেশ

মেঘনায় মাছ ধরার শত শত নৌকার ভিড়ে কিছু নৌকা আলাদা চোখে পড়ে: বাঁশের খুঁটিতে পলিথিনের ছাউনি, এক কোণে চুলা আর হাঁড়ি, অন্য কোণে গুটিয়ে রাখা কাপড়। নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারানো এসব পরিবারের কাছে এই নৌকাই এখন ঘর, সংসার আর জীবিকার জায়গা। জাগো নিউজের প্রতিবেদক খায়রুল বাশার আশিক বরিশাল ও ভোলার মেঘনা তীর ঘুরে তাদের জীবনের কথা তুলে এনেছেন।

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের উলানিয়ায় মেঘনা পাড়ে এমন এক নৌকায় থাকেন হাফিজা বেগম। প্রায় পাঁচ বছর আগে ভাঙনে স্বামীর ভিটা নদীতে যায়, তারপর আর ঘর তোলার মতো জমি মেলেনি। স্বামী ও দুই সন্তান নিয়ে আজ এক চরে, কাল আরেক চরে নৌকা ভেড়ান তিনি। ভোলার ইলিশা ঘাটের কাছে মাছ ধরে সংসার চালানো আমির মিয়া বলেন, ছয় বছর ধরে তিনি নদীতেই থাকেন, আর নতুন চর জাগলে তা প্রভাবশালীদের দখলে চলে যায়।

উলানিয়া ছাড়াও ভোলার তুলাতলী, ইলিশা ও তজুমদ্দিনের সুলিজঘাটসহ মেঘনা তীরের নানা এলাকায় ঘরহারা পরিবারের দেখা মেলে। কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে, কেউ শহরের বস্তিতে আশ্রয় নিয়েছেন, কেউ নৌকাকেই বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। এদের বেশির ভাগের জীবিকা মাছ ধরা: জাল ফেলা, বড়শিতে পুঁটি গেঁথে বোয়াল, আইড় বা চিতল ধরা, আর বড় মাছ বাজারে বেচে চাল, ডাল, তেল কেনা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এরা বেদে বা যাযাবর জনগোষ্ঠী নন। তাদের একসময় ভিটা, উঠান আর গ্রাম ছিল; ভাঙন সেই স্থির জীবনকে ভাসমান করে দিয়েছে। নৌকায় নৌকায় গড়ে ওঠে প্রতিবেশীর সম্পর্ক, বিপদে একে অপরের পাশে দাঁড়ায় তারা, কখনো দুই নৌকার পরিবারের ছেলেমেয়ের বিয়েও হয়।

সবচেয়ে বড় ক্ষতি শিশুদের। সরেজমিনে দেখা গেছে, নৌকায় বেড়ে ওঠা অনেক শিশু নিয়মিত স্কুলে যায় না; কেউ প্রাক-প্রাথমিকের পর আর পড়েনি। জন্মনিবন্ধন, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবার পরিকল্পনা ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো সেবার সঙ্গেও স্থায়ী ঠিকানাহীন এই পরিবারগুলোর যোগাযোগ সামান্য। অসুখ হলে কাছের ফার্মেসির ওষুধই ভরসা।

বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, নদীভাঙনকে শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে দেখলে ভূমি ব্যবস্থাপনা, পুনর্বাসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের প্রশ্ন আড়ালে থেকে যায়। তার মতে, সরকারি খাসজমি বরাদ্দে এই ভূমিহীন পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দিলে ভাসমান মানুষের সংখ্যা কমানো সম্ভব, আর ভাঙনে সব হারানো মানুষের পুনর্বাসন দয়া নয়, রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

উপকূলের নদীভাঙন শুধু জমি আর ফসল কেড়ে নেয় না, জেলে পরিবারের ঠিকানাও মুছে দেয়। মেঘনায় নতুন চর জাগলেও ঘরহারা এই মানুষদের প্রশ্ন একটাই: সেখানে তাদের জায়গা কোথায়।

ছবি: Alaminnayemhang / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪

জাগো নিউজ ২৪সূত্র

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

ঘানার আক্রার সৈকতে বাতিল পোশাকের পাহাড়, জালে মাছের বদলে উঠছে কাপড়

আমেরিকা, ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রতি সপ্তাহে আসা ব্যবহৃত পোশাকের প্রায় ৪০ শতাংশ অচল; সেগুলো নর্দমা আর অবৈধ ভাগাড় হয়ে সমুদ্রে গিয়ে সৈকতে জমছে, তৈরি করছে মাইক্রোপ্লাস্টিক।

আনন্দবাজার৭ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
শাকসবজি

ফেলে দেওয়া বোতলে ভাসমান বেড, গুলশান লেকে সবজি ফলাচ্ছেন কড়াইলের বাসিন্দারা

বাঁশের কাঠামোয় প্লাস্টিকের খালি বোতল আর নারকেলের ছোবড়া বেঁধে বানানো ভাসমান বেডে কচু, লতি, পুঁইশাক, লালশাক ফলছে; নিজেদের খাবারের পাশাপাশি প্রতিবেশীদের নামমাত্র দামে বা বিনা মূল্যে দিচ্ছেন উদ্যোক্তারা।

দিনাজপুর টিভি৭ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
মতামত

মতামত: ডিসেম্বরে শেষ গঙ্গা চুক্তি, নবায়ন নয়, দরকার ন্যায্য ও বিজ্ঞানভিত্তিক নতুন চুক্তি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের সহযোগী অধ্যাপক খায়ের মাহমুদ লিখেছেন, ১৯৯৬ সালের চুক্তিতে শুষ্ক মৌসুমে ন্যূনতম প্রবাহের নিশ্চয়তা, পরিবেশগত প্রবাহ ও বাধ্যতামূলক বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেই; মেয়াদ শেষে অন্তর্বর্তী শূন্যতার ঝুঁকিও আছে।

বাংলা ট্রিবিউন৭ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)