বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় আধুনিক মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করে সবজি চাষের আগ্রহ দিনদিন বাড়ছে। কম খরচে, কম সময়ে বেশি ফলন পাওয়ায় তরুণ কৃষকেরা এ পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছেন। ফলে উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজির সম্ভাবনা উজ্জ্বল হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে উপজেলার প্রায় ৩ হেক্টর জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ হচ্ছে। এসব জমিতে শসা, পেঁপে, করলা, পটল, চিচিঙা ও বরবটি আবাদ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, এ পদ্ধতির ব্যবহারে উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি ফলন বাড়ছে। যা কৃষকদের মধ্যে মালচিং পদ্ধতির গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
মালচিং হলো একটি আধুনিক কৃষি পদ্ধতি, যেখানে জমির বেড বিশেষ ধরনের প্ল্যাস্টিক শিট বা জৈব উপাদান দিয়ে ঢেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে ছিদ্র করে বীজ বা চারা রোপণ করা হয়। এ ব্যবস্থায় মাটির আর্দ্রতা দীর্ঘসময় সংরক্ষিত থাকে, আগাছার বিস্তার কমে, সেচ ও সারের ব্যবহার হ্রাস পায়। পাশাপাশি রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে উৎপাদন খরচ কমে এবং ফলন বৃদ্ধি পায়।
উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের লাকুটিয়া এলাকার তরুণ কৃষক রাকিবুল ইসলাম পড়াশোনার পাশাপাশি মালচিং পদ্ধতিতে একটি সমন্বিত কৃষি প্রকল্প গড়ে তোলেন। মাত্র ৪০ শতক জমিতে তিনি চিচিঙা, বরবটি, টমেটোসহ বিভিন্ন সবজি চাষ এবং টমেটোর চারা উৎপাদন করে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন।
রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‌'চলতি মৌসুমে চিচিঙা ও বরবটি বিক্রি করে লক্ষাধিক টাকা আয় করেছি। উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় লাভও বেড়েছে। আগামী মৌসুমে আরও বড় পরিসরে মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষের পরিকল্পনা আছে।'
বাবুগঞ্জের আরেক কৃষক শামীম বলেন, 'মালচিং পদ্ধতিতে আগাছা খুব কম জন্মায়। ফলে আগাছা পরিষ্কার করতে শ্রম ও খরচ দুটিই কম লাগে। একই সঙ্গে সারের ব্যবহারও তুলনামূলক কম হয় এবং সেচের পানির প্রয়োজন কম পড়ে। প্ল্যাস্টিক মালচের কারণে গাছের গোড়ার মাটির আর্দ্রতা দীর্ঘসময় বজায় থাকে। রোদের তাপেও মাটির পানি দ্রুত শুকিয়ে যায় না, ফলে গাছ পর্যাপ্ত আর্দ্রতা পায় এবং ফলন বৃদ্ধি পায়। একই জমিতে একাধিকবার ফসল উৎপাদন করাও সহজ হয়।'
বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রউফ জাগো নিউজকে বলেন, 'মালচিং পদ্ধতি কৃষিতে একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক পদ্ধতি। এর মাধ্যমে পানির অপচয় কমে, আগাছা দমন সহজ হয় এবং রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ অনেকাংশে কমে আসে। পাশাপাশি সেচ, সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কম হওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও হ্রাস পায়। ফলে কৃষকেরা কম খরচে বেশি ফলন ও বেশি লাভের সুযোগ পান।'
তিনি বলেন, 'বাবুগঞ্জে মালচিং পদ্ধতির প্রতি কৃষকদের আগ্রহ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এর প্রসারে কৃষি বিভাগ নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। আধুনিক এ পদ্ধতির ব্যবহার আরও বিস্তৃত হলে উপজেলার সবজি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। কৃষকদের আয়-রোজগারেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।'





মন্তব্য
(০)