সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮+০.০%আদা - আমদানিকৃত১৬৭+০.০%আদা - দেশী১৫৪+০.০%আমন চাল - মাঝারি৫৬+০.০%আমন চাল - মোটা৪৮+০.০%আমন চাল - সরু৭২+০.০%আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২+০.০%কাঁচা মরিচ২১৮+০.০%খামারের মুরগী১৬২+০.০%খাসী৯০০+০.০%চিনি (দেশী)১৩২+০.০%ছোলা - গোটা৮৫+০.০%ডিম ফার্ম - লাল৪৭+০.০%পেঁয়াজ - দেশী৬০+০.০%বোরো চাল - মাঝারি৫৫+০.০%বোরো চাল - মোটা৪৭+০.০%বোরো চাল - সরু৬৬+০.০%মাংসঃ– গরু৭২৯+০.০%মুগ ডাল১২২+০.০%রসুন - আমদানিকৃত১৯২+০.০%রসুন - দেশী১৭৩+০.০%সয়াবিন তেল১৬৩+০.০%
হালনাগাদ ১ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা৩২°মূলত পরিষ্কারআর্দ্রতা ৫৫%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

টানা বৃষ্টি-বন্যায় রাজধানীর কাঁচাবাজারে অস্থিরতা, বেড়েছে সবজি-মাছের দাম

২০২৬ সালের জুলাইয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টি ও বন্যার জেরে রাজধানীর কাঁচাবাজার অস্থির হয়ে ওঠে। ২৪ জুলাই প্রকাশিত জাগো নিউজের বাজার প্রতিবেদনে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে সবজি, মাছ, ডিম, পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ২০ থেকে ২০০ টাকা বেড়েছে; কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা কেজিতে।

টানা বৃষ্টি-বন্যায় রাজধানীর কাঁচাবাজারে অস্থিরতা, বেড়েছে সবজি-মাছের দাম
বাজার ব্যবস্থাপনা

দেশের বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টিপাত ও বন্যার জেরে ২০২৬ সালের জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহে রাজধানীর কাঁচাবাজার অস্থির হয়ে ওঠে। প্রায় সব ধরনের সবজি, মাছ, ডিম, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচসহ অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। ২৪ জুলাই শুক্রবার সকালে জাগো নিউজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ঢাকার রামপুরা, খিলগাঁও, তালতলা ও মালিবাগ কাঁচাবাজার ঘুরে এ চিত্র তুলে ধরেন।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে সিংহভাগ পণ্যের দাম কেজিতে ২০ থেকে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে বাজারে এসে চরম বিপাকে পড়েন নিম্ন ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ। অনেকে চাহিদা অনুযায়ী পণ্য কিনতে হিমশিম খান।

চারটি বাজারই রাজধানীর পূর্বাংশের এলাকাগুলোর মানুষের কেনাকাটার জায়গা। খিলগাঁও একটি থানা ও আবাসিক এলাকা, যার মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৪, ২৫ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ড পড়েছে; ২০২২ সালের জনশুমারিতে সেখানে ৯৯ হাজার ২৩৫টি খানায় ৩ লাখ ৮০ হাজার ৭৪৭ জন মানুষ গণনা করা হয়। এর পশ্চিমে রামপুরা থানার আয়তন ২ দশমিক ৮০ বর্গকিলোমিটার, আর রামপুরা খাল পূর্ব ঢাকার বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের প্রধান পথ। শহরের পুরোনো এলাকাগুলোর একটি মালিবাগ শাহজাহানপুর থানার অধীন।

কাঁচামরিচের কেজি ৩০০ টাকার কাছাকাছি


তালতলা বাজারে মরিচ কিনছিলেন জহুরুল ইসলাম। প্রথমে তিনি ২০ টাকার মরিচ চাইলে কিছুটা বিব্রত হয়ে বিক্রেতা এনামুল বলেন, ১০০ গ্রাম মরিচ ৩০ টাকা, আপনাকে ২০ টাকায় আর কতটুকু দেব? তারপর ২০ টাকার জন্য ৭০ গ্রাম মরিচ মেপে ছোট একটি পলিথিনে দেন এনামুল।

জহুরুল বলেন, ‘কিছুদিন আগেই ২৫০ গ্রাম মরিচ ছিল ৩০ টাকা। এখন সেটা ১০০ গ্রামে নেমে গেল। এ দেশে রাতারাতি সব হয়ে যায়।’

এরপর কথা হয় বিক্রেতার সঙ্গে। তিনি জানান, আগের দিন থেকে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা কেজিতে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে। দুদিন আগে যা ছিল ২০০ টাকা, আর বন্যা-বৃষ্টির আগে ছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকা। অর্থাৎ দাম কেজিপ্রতি প্রায় ২০০ টাকা বেড়েছে। বাজারের বাইরে ভ্যানেও প্রতি পোয়া মরিচের জন্য ৭০ টাকা চাওয়া হচ্ছিল; সে হিসাবে প্রতি কেজির দাম পড়ে ২৮০ টাকা।

মাসজুড়ে ধাপে ধাপে এই দাম বাড়ার খবর এসেছে। ১৪ জুলাই ঢাকা ট্রিবিউন জানায়, কাঁচামরিচ ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি হয়েছে। ১৭ জুলাই শুক্রবার একই পত্রিকা সাধারণ মানের মরিচ ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা এবং ভালো মানের মরিচ ২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখে। ২১ জুলাই মঙ্গলবার প্রথম আলো জানায়, খুচরা বাজারে কাঁচামরিচের কেজি ২০০ টাকা ছাড়িয়েছে: মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে ২০০ থেকে ২২০ টাকা, মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটে ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা, আর কারওয়ান বাজারে ভালো মানের মরিচ প্রায় ২০০ টাকা ও কম মানের মরিচ প্রায় ১৬০ টাকা। পত্রিকাটি লেখে, মাসখানেক আগে ভালো মানের কাঁচামরিচ মিলত ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে। টাউন হল মার্কেটের এক বিক্রেতা প্রথম আলোকে বলেন, বৃষ্টির কারণে পাইকারি বাজারে মরিচ কম আসছে, অথচ ক্রেতার চাহিদা আগের মতোই।

সরকারি বাজারদরের তালিকাতেও একই চিত্র। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ২০২৬ সালের ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবারের তালিকায় ঢাকায় কাঁচামরিচের দাম ছিল কেজি ১৫০ থেকে ২২০ টাকা; এক সপ্তাহ আগে ছিল ১২০ থেকে ১৮০ টাকা, এক মাস আগে ৮০ থেকে ১২০ টাকা এবং ২০২৫ সালের একই দিনে ৬০ থেকে ১২০ টাকা। তালিকার মন্তব্যে বলা হয়, সেদিনও দাম বেড়েছে।

জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, বাংলাদেশে গ্রীষ্ম ও শীত দুই মৌসুমেই মরিচ চাষ করা যায় এবং কাঁচামরিচের গড় ফলন হেক্টরে ৫ থেকে ৬ টন। বৃষ্টি যখন নামে, গ্রীষ্মের ফসল তখন মাঠে ছিল। ১১ জুলাই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) যশোর, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, সিরাজগঞ্জ ও সুনামগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের তালিকায় মরিচও রাখে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) গবেষণা উইংয়ের পরিচালক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, বর্ষার আগেই গ্রীষ্মের বেশির ভাগ ফসল তোলা হয়ে গেছে, তবে মাঠে থাকা সবজি, কাঁচামরিচ ও নতুন তৈরি আমন বীজতলা স্বল্প মেয়াদে বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। একই পত্রিকাকে এক সবজি আমদানিকারক বলেন, দুর্যোগের সময় প্রকৃত সরবরাহ প্রায়ই কমে যায়, আবার দাম বাড়াতে কখনো কখনো কৃত্রিম সংকটও তৈরি করা হয়; পরিবহন ব্যাহত হলে কাঁচামরিচের দাম দ্রুত বাড়তে পারে।

৮০ টাকার নিচে মিলছে না বেশির ভাগ সবজি


প্রতি কেজি পেঁপে ৪০ টাকা ও পটল ৬০ টাকা, এ দুই সবজি ছাড়া অন্য কোনো সবজি ৮০ টাকা কেজির নিচে ছিল না। বেশির ভাগ সবজির দাম ছিল ১০০ টাকার আশপাশে। রামপুরা বাজারে বেগুন ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, ঝিঙা ও চিচিঙ্গা ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং করলা ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। শসা ও গাজরও ওই বাজারে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।

আগের জরিপগুলো দেখায়, কত দ্রুত এই দাম বদলেছে। ১৪ জুলাই ঢাকা ট্রিবিউন জানায়, আগের সপ্তাহে ৬০ থেকে ৭০ টাকার বেগুন তখন ৯০ থেকে ১০০ টাকা, করলা ৬০ থেকে ৭০ টাকা থেকে ৯০ থেকে ১০০ টাকা এবং শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকা থেকে ৭০ থেকে ৮০ টাকায় উঠেছে। ১৭ জুলাই পত্রিকাটি বেগুন ৯০ থেকে ১২০ টাকা ও শসা ১২০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখে; তখনো পেঁপে, পটল ও ঢ্যাঁড়স তুলনামূলক কম দামে, যথাক্রমে ২০ থেকে ৪০, ৪০ থেকে ৬০ ও ৪০ থেকে ৬০ টাকায় মিলছিল। ২১ জুলাই পত্রিকাটি লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১৫০ টাকা এবং গাজর ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রির খবর দেয়।

টিসিবির ২৩ জুলাইয়ের তালিকায় বেগুনের দাম ছিল কেজি ৮০ থেকে ১২০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং এক মাস আগে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। শসা ছিল ৮০ থেকে ১২০ টাকা, এক সপ্তাহ আগে ৭০ থেকে ৯০ টাকা এবং এক মাস আগে ৫০ থেকে ৮০ টাকা। আলুর দাম অপরিবর্তিত ছিল, কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকা।

ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ার জন্য সরবরাহ কমে যাওয়াকে দায়ী করেন। রায়সাহেব বাজারের এক সবজি বিক্রেতা ১৭ জুলাই ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, অনেক সবজিখেত এখনো পানির নিচে, পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বাজারে পণ্য আসা অনেক কমেছে, স্বাভাবিকের মোটামুটি অর্ধেক সবজি বাজারে পৌঁছাচ্ছে। সেখানকার ব্যবসায়ীদের ধারণা ছিল, সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও ১০ থেকে ১৫ দিন লাগতে পারে। ১৮ জুলাই প্রথম আলোর প্রকাশিত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যে ২০ হাজার হেক্টরের বেশি সবজিখেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা বলা হয়।

ঢাকার মগবাজারের একটি কাঁচাবাজারে বিক্রির জন্য সাজানো বেগুন, ছবিটি ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে তোলা; ২০২৬ সালের জুলাইয়ের বাজারের ছবি নয়। ছবি: Salim Khandoker / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
ঢাকার মগবাজারের একটি কাঁচাবাজারে বিক্রির জন্য সাজানো বেগুন, ছবিটি ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে তোলা; ২০২৬ সালের জুলাইয়ের বাজারের ছবি নয়। ছবি: Salim Khandoker / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

এক লাফে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ২৫ টাকা পর্যন্ত


কয়েক দিন আগেও বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ মানভেদে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাড়া-মহল্লার ভ্যানে তিন কেজি পাওয়া গেছে ১০০ টাকায়। বৃষ্টি ও বন্যার জেরে দাম এক লাফে ২৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়।

খুচরায় প্রতি কেজি ভালো মানের বাছাই করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিল ৬০ টাকায়। একটু মাঝারি মানের বা তুলনায় ছোট আকারের পেঁয়াজের জন্য গুনতে হচ্ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। পাইকারি পর্যায়ে প্রতি পাল্লা (পাঁচ কেজি) ভালো মানের পেঁয়াজ ২৬০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, যা আগের সপ্তাহেও ছিল ২০০ থেকে ২২০ টাকার মধ্যে।

বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম জানান, পাবনা, ফরিদপুর ও কুষ্টিয়া থেকে মূলত ঢাকায় পেঁয়াজ আসে। কিন্তু কয়েক দিনের লাগাতার বৃষ্টির কারণে মোকামেই পেঁয়াজের দাম চড়া। তিনি বলেন, ‘আমরা বাড়তি দামে কিনে আনছি, তাই বাধ্য হয়ে আগের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’

টিসিবির হিসাবেও এই বৃদ্ধি ধরা পড়ে। ২৩ জুলাইয়ের তালিকায় দেশি পেঁয়াজের কেজি ছিল ৪৫ থেকে ৫৫ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা এবং এক মাস আগে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা; তালিকার মন্তব্যে বলা হয়, দাম বেড়েছে ২০ জুলাই। এক বছর আগে একই দিনে দাম ছিল ৫৫ থেকে ৬৫ টাকা। তালিকায় আমদানি করা পেঁয়াজের কোনো দাম ছিল না। ২১ জুলাই প্রথম আলো জানায়, মানভেদে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়, এক সপ্তাহ আগে যা ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা; একই দিন ঢাকা ট্রিবিউন লেখে, আগে ৪০ টাকায় বিক্রি হওয়া পেঁয়াজের দাম তখন ৬০ টাকা।

বিক্রেতা যে তিন জেলার নাম বলেছেন, সেগুলোই দেশের পেঁয়াজ উৎপাদনের প্রধান এলাকা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৫ অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৫৯৯ একর জমিতে ৩২ লাখ ২১ হাজার ৪৩১ টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে পাবনায় ১ লাখ ৮ হাজার ৫৯০ একরে ৭ লাখ ৫৮ হাজার ৮৯০ টন, ফরিদপুরে ১ লাখ ৪০৮ একরে ৫ লাখ ৬৫ হাজার ৮৪৫ টন এবং কুষ্টিয়ায় ২৬ হাজার ৭৯৯ একরে ১ লাখ ৮০ হাজার ১২০ টন পেঁয়াজ হয়। বাংলাপিডিয়া জানায়, পেঁয়াজ (Allium cepa) দেশের সব জেলাতেই চাষ হয় এবং বাংলাদেশে ডিসেম্বর বা জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে এর চারা রোপণ করা হয়; টিসিবি যেসব পণ্য আমদানি করে, তার তালিকাতেও পেঁয়াজ রয়েছে।

ঢাকার মগবাজারের একটি কাঁচাবাজারে বিক্রির জন্য রাখা পেঁয়াজ, ছবিটি ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে তোলা; ২০২৬ সালের জুলাইয়ের বাজারের ছবি নয়। ছবি: Salim Khandoker / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
ঢাকার মগবাজারের একটি কাঁচাবাজারে বিক্রির জন্য রাখা পেঁয়াজ, ছবিটি ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে তোলা; ২০২৬ সালের জুলাইয়ের বাজারের ছবি নয়। ছবি: Salim Khandoker / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

ডিম, ব্রয়লার ও সোনালি মুরগি


বাজারে ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছিল ১৪০ টাকা ডজন, যা কয়েক দিন আগে ছিল ১৩০ টাকা। আর দেড় থেকে দুই সপ্তাহ আগে ১২০ টাকাতেই এক ডজন পাওয়া যেত। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ২০ টাকা বেড়ে ১৯০ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। সোনালি মুরগির কেজি ছিল ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা।

এই বৃদ্ধির শুরুর খবর ঢাকা ট্রিবিউন দিয়েছিল ১৭ জুলাই: আগের সপ্তাহে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা ডজনের বাদামি ডিম তখন ১৪০ টাকা, সাদা ডিম ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, আর হাঁসের ডিম ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা থেকে বেড়ে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা। ব্যবসায়ীরা পত্রিকাটিকে বলেন, সবজির দাম বাড়ায় অনেক ক্রেতা ডিমের দিকে ঝুঁকেছেন, এতে চাহিদা বেড়েছে, অথচ সরবরাহ কমেছে। ব্রয়লার মুরগি তখন ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা থেকে বেড়ে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা কেজি।

টিসিবির ২৩ জুলাইয়ের তালিকায় ফার্মের ডিমের হালি (চারটি) ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, এক সপ্তাহ আগে ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা; টিসিবি দাম বাড়ার তারিখ উল্লেখ করে ২২ জুলাই। ব্রয়লার মুরগির কেজি ছিল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগের সমান হলেও এক মাস আগে ছিল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা এবং এক বছর আগে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা। দেশি মুরগির কেজি ছিল ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকা।

বন্যার ধাক্কা খামারেও লাগে। ১৮ জুলাই প্রথম আলোর প্রকাশিত প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (ডিএলএস) তথ্যে দেখা যায়, সারা দেশে ৪ হাজার ৮১৯টি গবাদিপশুর খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ক্ষতি প্রায় ১৯ কোটি টাকা। পোলট্রি খাতে ৬ হাজারের বেশি পাখি আক্রান্ত হয় এবং আড়াই হাজারের বেশি মারা যায়, এতে ক্ষতি ২০ কোটি টাকা। প্রায় ১২ হাজার টন দানাদার পশুখাদ্য নষ্ট হয়; প্রাণিসম্পদ খাতে মোট ক্ষতি দাঁড়ায় ৮১ কোটি ৫ লাখ টাকা।

ডিএলএসের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের হিসাবে দেশে ডিম উৎপাদন হয় ২ হাজার ৪৪০ দশমিক ৬৫ কোটি; মুরগির সংখ্যা ৩ হাজার ৩৬০ দশমিক ৭০ লাখ এবং হাঁস ৭০৫ দশমিক ৮২ লাখ। লাইভস্টক রিসার্চ ফর রুরাল ডেভেলপমেন্ট সাময়িকীতে ২০১৫ সালে প্রকাশিত এক গবেষণা অনুযায়ী, সোনালি মুরগি রোড আইল্যান্ড রেড মোরগ ও ফাউমি মুরগির সংকরায়ণে তৈরি একটি জাত, যা বেশি ডিম দেওয়া এবং গ্রামীণ পরিবেশে খাপ খাওয়ানোর ক্ষমতার জন্য পরিচিত।

বন্যায় পুকুর-খামার ভেসে যাওয়ায় বেড়েছে মাছের দাম


বাজারে দুই থেকে আড়াই কেজি ওজনের রুই মাছ কিছুদিন আগেও প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকায় বিক্রি হতো। সেগুলোর দাম বিক্রেতারা তখন ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত কেজি হাঁকছিলেন। তাঁদের দাবি, টানা কয়েক দিনের অতিবৃষ্টি ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আকস্মিক বন্যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে মাছের সরবরাহে।

শুধু রুই নয়, তেলাপিয়া-পাঙাশ থেকে শুরু করে প্রায় সব মাছেরই একই অবস্থা। সরবরাহ কমে যাওয়ায় মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এসব মাছের দাম কেজিপ্রতি কমপক্ষে ২০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে মাছের বাজারে এসে চরম অস্বস্তিতে পড়েন সাধারণ ক্রেতারা।

বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আনিসুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সবকিছুর দাম এমনিতেই বাড়তি। এখন বৃষ্টির দোহাই দিয়ে মাছের দামও বাড়িয়ে দেওয়া হলো। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’

নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ভরসা হিসেবে পরিচিত তেলাপিয়া ও পাঙাশের দামও কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। প্রতি কেজি তেলাপিয়া ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা এবং পাঙাশ ২২০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। চাষের চিংড়ির কেজি ছিল ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, যা আগের সপ্তাহের চেয়ে কেজিপ্রতি ১০০ টাকা বেশি। পাবদা মাছ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছিল ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়। বাজারে ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় এক কেজির ইলিশের জন্য গুনতে হচ্ছিল ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা।

আগের দিনগুলোতে অন্য বাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে। ১৭ জুলাই ঢাকা ট্রিবিউন মাঝারি আকারের চাষের রুই ও কাতলা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখে, যা কয়েক দিন আগে ছিল ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা; এক কেজির ইলিশ তখন ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা। নারিন্দা বাজারের এক মাছ বিক্রেতা পত্রিকাটিকে বলেন, বন্যায় দেশের অনেক এলাকার পুকুর ও খামার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মাছের সরবরাহ কমেছে। ১৪ জুলাই কলতাবাজারের এক মাছ বিক্রেতা একই পত্রিকাকে বলেছিলেন, বন্যায় অনেক এলাকায় মাছ ধরা কমেছে এবং বৃষ্টির কারণে অনেক জেলে নদীতে যেতে পারছেন না। মাছের মধ্যে কেবল রুই ও ইলিশের দাম রাখা টিসিবির ২৩ জুলাইয়ের তালিকায় তখনো রুই ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং ইলিশ ৮০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা কেজি ছিল, এক সপ্তাহ ও এক মাস আগের সমান।

দামের পেছনের ক্ষতিও ছিল বড়। ১৮ জুলাই প্রথম আলোর প্রকাশিত মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাবে, মৎস্য খাতে ক্ষতি ৪০৭ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। প্রায় ৩৪ হাজার মাছের খামার ও পুকুর এবং ৩ হাজার ৮৮৯টি ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ৪৬টি মাছ ধরার নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পাঁচজন জেলে মারা যান। উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকায়, বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও পটুয়াখালীতে চিংড়িঘের ভেসে যায়; পানি বাড়ায় কুমিল্লা ও রাজশাহী অঞ্চলের মাছের খামারের পাড় ভেঙে যায়।

বাজারের মাছগুলো কোথা থেকে আসে


জরিপে যেসব মাছের নাম এসেছে, তার বেশির ভাগই চাষের মাছ। বিবিএসের বর্ষগ্রন্থে প্রকাশিত মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট মাছ উৎপাদন হয় ৫১ লাখ ১১ হাজার ৪৯৭ টন। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ বদ্ধ জলাশয়ে (পুকুর, মৌসুমি জলাশয়, বাঁওড়, খামার, পেন ও খাঁচা) চাষ থেকে আসে ৩১ লাখ ৭ হাজার ১১৫ টন, উন্মুক্ত জলাশয় (নদী ও মোহনা, সুন্দরবন, বিল, কাপ্তাই হ্রদ এবং হাওরসহ প্লাবনভূমি) থেকে ১৪ লাখ ৩৬ হাজার ৭০ টন এবং সমুদ্র থেকে ৫ লাখ ৬৮ হাজার ৩১২ টন। রুই, কাতলা ও মৃগেল মিলিয়ে বড় কার্পজাতীয় মাছ ১১ লাখ ৮২ হাজার ১৮ টন, তেলাপিয়া ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৫৫৭ টন, পাঙাশ ৪ লাখ ৩৫ হাজার ৪৪৮ টন, ইলিশ ৫ লাখ ২৮৮ টন এবং চিংড়ি ও গলদা মিলিয়ে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৫১৯ টন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ইলিশ আহরণ ছিল ৫ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৭ টন।

রুই (Labeo rohita) দক্ষিণ এশিয়ার নদীর বড় কার্পজাতীয় মাছ এবং এ অঞ্চলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চাষের মিঠাপানির মাছগুলোর একটি। বর্ষাকালে প্লাবিত নদীতে এটি ডিম ছাড়ে; চাষের সময় বদ্ধ পানিতে নিজে থেকে প্রজনন করে না বলে কৃত্রিম প্রজনন দরকার হয়। পাঙাশ (Pangasianodon hypophthalmus) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মেকং ও চাও ফ্রায়া নদীর স্থানীয় একটি ক্যাটফিশ, যা চাষের জন্য অন্য দেশে আনা হয়েছে; এর পটকা বাতাস থেকে শ্বাস নিতে কাজে লাগে বলে অক্সিজেন কম থাকা পানিতেও এটি টিকে থাকতে পারে। নাইলোটিকা বা নীল তেলাপিয়া (Oreochromis niloticus) প্রাকৃতিকভাবে আফ্রিকা ও লেভান্ট অঞ্চলের মাছ, সহনশীলতার কারণে সারা বিশ্বে এর চাষ হয়। পাবদা (Ompok pabda) বাংলাদেশ ও আশপাশের দেশের খাল, পুকুর ও হ্রদের দেশি ক্যাটফিশ, যা মে থেকে আগস্টের মধ্যে প্রজনন করে।

ইলিশ (Tenualosa ilisha) বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর ইলিশকে বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে ঘোষণা করে।

ঢাকার মতিঝিলে ছুটির দিনের একটি বাজারে বিক্রির জন্য রাখা রুই মাছ; ২০২৬ সালের জুলাইয়ের বাজারের ছবি নয়। ছবি: Wasiul Bahar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ঢাকার মতিঝিলে ছুটির দিনের একটি বাজারে বিক্রির জন্য রাখা রুই মাছ; ২০২৬ সালের জুলাইয়ের বাজারের ছবি নয়। ছবি: Wasiul Bahar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

দেশজুড়ে টানা বৃষ্টি ও বন্যা


কয়েক সপ্তাহের ভারী বৃষ্টির পর এই দাম বাড়ে। ১১ জুলাই শনিবার পর্যন্ত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, ১২ জেলায় প্রায় ২৮ হাজার ৬১০ হেক্টর ফসলি জমি বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়: চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, সুনামগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নওগাঁ, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানায়, আউশ ধান, আমন বীজতলা, গ্রীষ্মকালীন সবজি ও পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১২ জুলাই বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) সতর্ক করে, খোয়াই, মনু, কুশিয়ারা ও সুরমার পানি বাড়তে থাকায় পরের ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

১৮ জুলাই প্রথম আলো জানায়, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও সিলেটসহ কয়েকটি জেলার বন্যায় ৫০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে ৪৩টি জেলা আক্রান্ত হয়, এর মধ্যে ১৬টিতে ক্ষতি সবচেয়ে বেশি। তখনো প্রায় ৮২ হাজার হেক্টর ফসলি জমি পানির নিচে ছিল, আগের রোববার যা ছিল ১ লাখ হেক্টর। প্রায় ৫৩ হাজার হেক্টর আউশ ধান ডুবে ছিল এবং ৯ হাজার হেক্টর আমন বীজতলা নষ্ট হয়। একজন কৃষি অর্থনীতিবিদ পত্রিকাটিকে বলেন, আউশ ফসলের প্রায় ১০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এতে চালের উৎপাদন ৩ লাখ টন কমে যেতে পারে; কৃষিবিদেরা সতর্ক করেন, বন্যার কারণে খাদ্যপণ্য, মাছ ও পোলট্রির দাম বাড়তে পারে।

পণ্য পরিবহনও কঠিন হয়ে পড়ে। ২১ জুলাই দ্য ডেইলি স্টার বাংলা জানায়, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীর প্রবল স্রোত ও ভাঙনে দুই জেলার ২১০ কিলোমিটারের বেশি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু ও কালভার্ট মেরামতে প্রাথমিক হিসাবে ১০০ কোটি টাকার বেশি লাগবে। স্থানীয় বাসিন্দারা পত্রিকাটিকে বলেন, সময়মতো কৃষিপণ্য বাজারে নিতে না পেরে কৃষকেরা আর্থিক লোকসানে পড়ছেন।

জরিপের সময়েও বৃষ্টি থামেনি। ডেইলি অবজারভার জানায়, ২২ জুলাইয়ের বুলেটিনে এফএফডব্লিউসি কুশিয়ারার পানি সুনামগঞ্জের মারকুলিতে বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে ৩৫ সেন্টিমিটার ওপরে এবং সোমেশ্বরীর পানি নেত্রকোনার কলমাকান্দায় বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপরে থাকার কথা জানায়; ছাতকে সুরমার পানি তখন বিপৎসীমার নিচে নেমেছিল। ১২৭টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ৭৫টিতে পানি বাড়ছিল। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর পরের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেয়; এফএফডব্লিউসি জানায়, গঙ্গা, পদ্মা ও যমুনার পানি বাড়ায় কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের নিচু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। এর আগের দিন প্রথম আলো আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস উল্লেখ করে লেখে, সারা দেশে আরও টানা পাঁচ দিন বৃষ্টি হতে পারে। এফএফডব্লিউসি ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয়।

সরকার কীভাবে ঢাকার বাজারদর দেখে


টিসিবি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, যা ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির ৬৮ নম্বর আদেশে গঠিত হয়। সরকারের প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি, বাজার স্থিতিশীল রাখতে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিতরণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও দামের ওপর নজর রাখা এর কাজের মধ্যে রয়েছে। এর প্রধান কার্যালয় ঢাকার কারওয়ান বাজারে।

ঢাকা মহানগরীর দৈনিক খুচরা বাজারদরের তালিকা টিসিবি তৈরি করে ছয়টি বাজার থেকে তথ্য নিয়ে: সিপাহীবাগ, মিরপুর-৬, মোহাম্মদপুর টাউন হল, নিউমার্কেট, রামপুরা ও মহাখালী। অর্থাৎ জাগো নিউজের জরিপের একটি বাজার সরকারি নমুনাতেও আছে। ২৩ জুলাইয়ের তালিকায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে খোলা আটা ও ময়দা, দেশি পেঁয়াজ, আমদানি করা রসুন, আমদানি করা আদা, কাঁচামরিচ, বেগুন, শসা ও ডিমের দাম বাড়ার কথা বলা হয়; কমেছে খোলা সয়াবিন তেল, বড় দানার মসুর ডাল, দেশি রসুন ও জিরার দাম। অন্যান্য পণ্যের দাম অপরিবর্তিত ছিল। যেমন চালের দাম ছিল সরু চাল কেজি ৭২ থেকে ৮৫ টাকা, মাঝারি ৫৫ থেকে ৬৮ টাকা এবং মোটা চাল ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

এই দাম বাড়ে আগে থেকেই চড়া জীবনযাত্রার খরচের ওপর। ২০২৬ সালের ৬ জুলাই বিবিএস জানায়, জুনে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি মে মাসের ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ থেকে কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ হয়েছে; খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ০৬ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ। ২০২৫ সালের জুনে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ। ঢাকা ট্রিবিউনের উদ্ধৃত অর্থনীতিবিদেরা বলেন, মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় এখনো বেশি, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের ওপর চাপ রয়ে গেছে।

ছবি: NahidSultan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি), প্রথম আলো, ঢাকা ট্রিবিউন, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, ডেইলি অবজারভার, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস), প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর (ডিএলএস), লাইভস্টক রিসার্চ ফর রুরাল ডেভেলপমেন্ট, বাংলাপিডিয়া, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

বাজার ব্যবস্থাপনা

সম্পর্কিত খবর

ফসল

কানাডার নন-জিএমও সয়াবিনের চাহিদা বাড়ছে, প্রক্রিয়াজাত সক্ষমতা দ্বিগুণের বেশি করছে সেরেসকো

সেরেসকো জানিয়েছে, তাদের কেনা সয়াবিন ২০২৫ সালে ১৫ ও ২০২৬ সালে ২০ শতাংশ বেড়েছে; অন্টারিওর সেন্ট অ্যালবার্টে ৬০ লাখ ডলারের সংস্কারে পরিষ্কারের সক্ষমতা ঘণ্টায় ৯ থেকে ২০ টন হচ্ছে।

Farms.com৩১ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
বাজার ব্যবস্থাপনা

যুক্তরাষ্ট্রে ভুট্টার শস্যবিমার নিশ্চয়তা দাম ৪.৭৫ ডলার, সয়াবিনের ১২.৬৩ ডলার

অক্টোবরের ফিউচার্স দামের গড় দুই ফসলেই বসন্তের দামের চেয়ে বেশি হওয়ায় রাজস্ব সুরক্ষা পলিসিতে উঁচু ফসল তোলার দাম ধরা হবে; ফলে এবার ক্ষতিপূরণ পেতে হলে ফলন কমতে হবে।

DTN / Progressive Farmer৩১ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোবিজ

রবি মৌসুমের ভর্তুকি হার ঘোষণায় দেরি, বিশ্ববাজারে ডিএপির দাম টনপ্রতি ৯০০ ডলারের কাছে

ডিএপি সারের সবচেয়ে বেশি চাহিদার সময় ঘনিয়ে এলেও ভারত এখনো রবি মৌসুমের পুষ্টিভিত্তিক ভর্তুকি হার ঘোষণা করেনি। শিল্প সূত্র বলছে, এতে আমদানি থমকে আছে, আর সালফার সংকটে কারখানাগুলো পুরো ক্ষমতায় চলছে না।

Rural Voice২৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)