সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা৩১°হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনাআর্দ্রতা ৬৪%বাতাস কিমি/ঘবৃষ্টি ০.১ মিমি

কাঁচাবাজারে অস্থিরতা, বেড়েছে সবজি-মাছসহ অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম

দেশের বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টিপাত ও বন্যার জেরে রাজধানীর কাঁচাবাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। প্রায় সব ধরনের সবজি, মাছ, ডিম, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচসহ অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে।

মৎস্য

দেশের বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টিপাত ও বন্যার জেরে রাজধানীর কাঁচাবাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। প্রায় সব ধরনের সবজি, মাছ, ডিম, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচসহ অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে।

রামপুরা, খিলগাঁও, তালতলা ও মালিবাগ কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে সিংহভাগ পণ্যের দাম কেজিতে ২০ থেকে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বাজারে এসে চরম বিপাকে পড়ছেন নিম্ন ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ। অনেকে চাহিদা অনুযায়ী পণ্য নিতে হিমসিম খাচ্ছেন।

বৃষ্টি ও বন্যার জেরে রাজধানীর কাঁচাবাজারে অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে/ছবি: জাগো নিউজ

তালতলা বাজারে মরিচ কিনছিলেন জহুরুল ইসলাম। প্রথমে ২০ টাকার মরিচ চাইলে কিছুটা বিব্রত হয়ে বিক্রেতা এনামুল বলেন, ১০০ গ্রাম মরিচ ৩০ টাকা, আপনাকে ২০ টাকায় আর কতটুকু দেবো? তারপর ২০ টাকার জন্য ৭০ গ্রাম মরিচ মেপে ছোট একটি পলিথিনে দিলেন এনামুল।

জহুরুল বলেন, 'কিছুদিন আগেই ২৫০ গ্রাম মরিচ ছিল ৩০ টাকা। এখন সেটা ১০০ গ্রামে নেমে গেলো। এ দেশে রাতারাতি সব হয়ে যায়।'

এরপর কথা হয় বিক্রেতার সঙ্গে। তিনি জানালেন, গতকাল থেকে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা কেজিতে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে। দুদিন আগে যা ছিল ২০০ টাকা। আর বন্যা-বৃষ্টির আগে ছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকা। অর্থাৎ দাম কেজিপ্রতি প্রায় ২০০ টাকা বেড়েছে।

বাজারের বাইরে ভ্যানেও প্রতি পোয়া মরিচের জন্য ৭০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। সে হিসাবে প্রতি কেজির দাম পড়বে ২৮০ টাকা।

প্রতি কেজি পেঁপে ৪০ টাকা ও পটল ৬০ টাকা, এ দুই সবজি ছাড়া অন্য কোনো সবজি ৮০ টাকা কেজির নিচে নেই। বেশিরভাগ সবজির দাম ১০০ টাকার আশপাশে।

রামপুরা বাজারে বেগুন ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, ঝিঙ্গা ও চিচিঙ্গা ৮০ থেকে ১০০ টাকা ও করলা ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শসা ও গাজরও ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে ওই বাজারে।

বৃষ্টি ও বন্যার জেরে রাজধানীর কাঁচাবাজারে অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে/ছবি: জাগো নিউজ

কয়েকদিন আগেও বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে মানভেদে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়। পাড়া-মহল্লার ভ্যানে তিন কেজি পাওয়া গেছে ১০০ টাকায়। এখন বৃষ্টি ও বন্যার জেরে দাম বেড়েছে এক লাফে ২৫ টাকা পর্যন্ত।

বাজারে ঘুরে দেখা যায়, খুচরাতে প্রতি কেজি ভালো মানের বাছাই করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। একটু মাঝারি মানের বা তুলনায় ছোট আকারের পেঁয়াজের জন্য গুনতে হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা।

পাইকারি পর্যায়ে প্রতি পাল্লা (পাঁচ কেজি) ভালো মানের পেঁয়াজ ২৬০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহেও ২০০ থেকে ২২০ টাকার মধ্যে ছিল।

বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম জানান, পাবনা, ফরিদপুর ও কুষ্টিয়া থেকে মূলত ঢাকায় পেঁয়াজ আসে। কিন্তু গত কয়েকদিনের লাগাতার বৃষ্টির কারণে মোকামেই এখন পেঁয়াজের দাম চড়া।

তিনি বলেন, 'আমরা বাড়তি দামে কিনে আনছি, তাই বাধ্য হয়ে আগের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।'

বাজারে ফার্মের মুরগির ডিম ১৪০ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েকদিন আগে ১৩০ টাকা ছিল। আর দেড় থেকে দুই সপ্তাহ আগে ১২০ টাকাতে পাওয়া যেত।

এছাড়া ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ২০ টাকা বেড়ে ১৯০ থেকে ২১০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির কেজি ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা।

বৃষ্টি ও বন্যার জেরে রাজধানীর কাঁচাবাজারে অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে/ছবি: জাগো নিউজ

বাজারে দুই থেকে আড়াই কেজি ওজনের রুই মাছ প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকায় বিক্রি হতো কিছুদিন আগেও। সেগুলো এখন ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত কেজি হাঁকছেন বিক্রেতারা। তাদের দাবি, টানা কয়েক দিনের অতিবৃষ্টি ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আকস্মিক বন্যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে মাছের সরবরাহে।

শুধু রুই নয়, একই অবস্থা তেলাপিয়া-পাঙ্গাস থেকে শুরু করে প্রায় সব মাছেরই। সরবরাহ কমে যাওয়ায় মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এসব মাছের দাম কমপক্ষে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে মাছের বাজারে এসে চরম অস্বস্তিতে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা।

বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আনিসুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'সবকিছুর দাম এমনিতেই বাড়তি। এখন বৃষ্টির দোহাই দিয়ে মাছের দামও বাড়িয়ে দেওয়া হলো। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।'

নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ভরসা হিসেবে পরিচিত তেলাপিয়া ও পাঙাশের দামও বেড়েছে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা। প্রতি কেজি তেলাপিয়া ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা এবং পাঙাশ ২২০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চাষের চিংড়ির কেজি ৯০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা, যা গত সপ্তাহের চেয়ে কেজিপ্রতি ১০০ টাকা বেশি। পাবদা মাছ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়। অন্যদিকে বাজারে ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় এক কেজির ইলিশের জন্য গুনতে হচ্ছে এক হাজার ৬০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা।

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

ভারতীয় ইলিশ ‘দেশি’ বলে বিক্রি, যশোরে আড়তদারকে জরিমানা

যশোর বড়বাজারে ভারতীয় ইলিশ দেশি বলে বিক্রির অভিযোগে এক আড়তদারকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

সমকাল১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
মৎস্য

কুয়াকাটায় ২ কেজি ১০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হলো ৭ হাজার ২০০ টাকায়

কুয়াকাটার আড়তে নিলামে ওঠা একটি ইলিশ কেজিপ্রতি ৩ হাজার ৬২৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে; বড় ইলিশ কমে যাওয়ার কারণ নিয়ে সতর্ক করছেন গবেষকরা।

সমকাল১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
মৎস্য

বরিশালে ইলিশের সরবরাহ দ্বিগুণ, মণে কমেছে ২০ হাজার টাকা

দীর্ঘদিনের চড়া দামের পর বরিশালের বাজারে ইলিশের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। গত কয়েক দিনে মোকামগুলোতে ইলিশের সরবরাহও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এর প্রভাবে পাইকারি বাজারে মণপ্রতি দাম কমেছে সর্বোচ্চ প্রায় ২০ হাজার টাকা।

জাগো নিউজ ২৪১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬৪ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()