রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বাজেমসকুর গ্রামে বাড়ির আঙিনা, জমির আইল, পতিত জমি আর সড়কের দুই পাশে সারি সারি তেজপাতার গাছ। কম খরচে দীর্ঘমেয়াদি আয়ের সুযোগ থাকায় গ্রামটি এখন 'তেজপাতার গ্রাম' নামে পরিচিত, জানিয়েছে এগ্রিকেয়ার২৪। আশপাশের টেপামধুপুরের চৈতারমোড়, রাজীবসহ অন্য গ্রামেও এই চাষ বাড়ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সালাহউদ্দিন জানান, কাউনিয়ায় এখন ৬৫ হেক্টর জমিতে তেজপাতার আবাদ হচ্ছে। চাষ সম্প্রসারণে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছেন। তাঁর মতে, কম খরচে দীর্ঘমেয়াদি আয়ের সুযোগ থাকায় এ অঞ্চলে তেজপাতা লাভজনক হয়ে উঠেছে।
চাষিরা জানান, একবার গাছ লাগালে দীর্ঘদিন পাতা তোলা যায়, পরিচর্যা ও খরচও তুলনামূলক কম। প্রতিটি গাছ থেকে বছরে গড়ে ২৫ থেকে ৪০ কেজি পাতা পাওয়া যায়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বাগান থেকেই পাতা কিনে নেন, কেউ কেউ মৌসুমভিত্তিক চুক্তিতে বাগান ইজারা নেন; বিভিন্ন কোম্পানিও পাতা সংগ্রহ করে।
বাজেমসকুরের কৃষক আশরাফুল ইসলাম আগে ধান, ভুট্টা ও সবজি করতেন, এখন জমিতে তেজপাতার গাছ। প্রথম বছর তিন মণ পাতা বিক্রি করলেও এখন বছরে প্রায় ১৬ মণ বিক্রি করছেন। একই গ্রামের আবু সুফিয়ান ৬৬ শতক জমিতে সাড়ে তিন শ গাছ লাগাতে খরচ করেছিলেন প্রায় ৩০ হাজার টাকা; এ পর্যন্ত আয় করেছেন অন্তত দুই লাখ টাকা।
চৈতারমোড়ের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি প্রতি সপ্তাহে কাউনিয়া থেকে প্রায় ৩০০ বস্তা তেজপাতা কিনে ঢাকায় পাঠান; কেজি বিক্রি হয় ১০৮ থেকে ১১২ টাকায়। তাঁর দাবি, মান ভালো হওয়ায় রপ্তানিকারকেরা এই তেজপাতা সৌদি আরব, দুবাই ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে পাঠান।
কৃষি-সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজার ধরে রাখা আর মানসম্মত উৎপাদন নিশ্চিত করা গেলে তেজপাতা কাউনিয়ার কৃষকদের জন্য আরও বড় আয়ের ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।
ছবি: J.M.Garg / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: এগ্রিকেয়ার২৪





মন্তব্য
(০)