ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে খরায় ফসলের ক্ষতি প্রায় ৪৬ হাজার কোটি রুপিতে পৌঁছেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠানো রাজ্যের দ্বিতীয় স্মারকলিপিতে খরা ঘোষিত ২১৭টি তালুকের মধ্যে ১৭৭টির ক্ষতির হিসাব আছে। ১ অক্টোবর যুক্ত হওয়া ৪০টিসহ বাকি তালুকগুলোর মূল্যায়ন শেষে মোট ক্ষতি ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার কোটি রুপি হতে পারে বলে রাজ্যের ধারণা।
উপমুখ্যমন্ত্রী ও রাজস্বমন্ত্রী জি. পরমেশ্বর ৮ অক্টোবর রায়চুর জেলার সিন্ধানুর তালুকের খরাকবলিত মাঠ ঘুরে দেখেন। তিনি বলেন, চার দশকের রাজনৈতিক জীবনে এত তীব্র খরা তিনি দেখেননি। কালামাঙ্গি গ্রামে এক কৃষকের অড়হর (তুর ডাল) ক্ষেতে গাছ মাত্র দুই ফুটের মতো উঁচু হয়ে শুকিয়ে গেছে, একটি দানাও আসেনি; তাঁর ভাষায় রাজ্যজুড়ে একই চিত্র।
কেন্দ্রের অর্থের অপেক্ষা না করে কর্ণাটক নিজস্ব তহবিল থেকে তাৎক্ষণিক ১,২৫০ কোটি রুপি সহায়তা এবং কৃষকপ্রতি ২,৫০০ রুপি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। কৃষি ও পরিবেশসহ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের তিনটি কেন্দ্রীয় দল ৩ অক্টোবর থেকে মাঠ পরিদর্শন শুরু করে ৬ অক্টোবরের মধ্যে প্রথম দফা মূল্যায়ন শেষ করেছে; তুমাকুরু, চিত্রদুর্গ, দাবানগেরে, উত্তর কর্ণাটক ও মহীশূর অঞ্চলে রাজ্যের হিসাব মিলিয়ে দেখা হয়েছে।
প্রতিবেশী মহারাষ্ট্রও সংকটে। সেপ্টেম্বরের শেষে রাজ্যটি ২৬৫টি তালুকায় খরা ঘোষণা করেছে, যার বেশির ভাগ মারাঠওয়াড়া ও বিদর্ভ অঞ্চলে। সয়াবিন, ভুট্টা ও তুলা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত; প্রায় ৪৫ দিনের শুকনো আবহাওয়ার পর মারাঠওয়াড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা ফসলের অন্তত এক-চতুর্থাংশ নষ্ট হয়েছে বলে কৃষি কর্মকর্তাদের অনুমান।
গ্লোবাল এগ্রিকালচার লিখেছে, কর্ণাটকে অড়হর প্রায় পুরো নষ্ট হওয়ায় শীতে ভারতে ডালের সরবরাহ কমে দাম বাড়তে পারে, আর মহারাষ্ট্রের সয়াবিন ও তুলার ক্ষতিতে তেলবীজ ও আঁশ উৎপাদন কমতে পারে। দুই রাজ্যের কৃষকেরা এখন আয় পুনরুদ্ধারে রবি মৌসুমের ওপর বেশি নির্ভর করবেন।
ছবি: Nanditha Gogate, WELL Labs / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: গ্লোবাল এগ্রিকালচার




মন্তব্য
(০)