সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৭°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৮৯%বাতাস কিমি/ঘ

যে কারণে ত্বরান্বিত হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের গতি

হাসান জাহিদ

পরিবেশ

হাসান জাহিদ

জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশদূষণ পৃথিবীকে যখন ক্রমেই ভারসাম্যহীন ও বিপন্ন করে তুলছে; সেই সময় যুদ্ধ-বিগ্রহ জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান ও ভবিষ্যত ক্ষতিকর প্রভাবকে আরও তরান্বিত করবে। যুদ্ধ আবহাওয়ামণ্ডলে যোগ করছে ক্ষতিকর কার্বন ও অন্যান্য গ্রিনহাউজ গ্যাস। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলছে চার বছর ধরে। এ যুদ্ধ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিশ্বের অনেক দেশেই অর্থনৈতিক ধস ও রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে বিভাজন তৈরি করেছে। পরিবেশের ওপর সুদূরপ্রসারী ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে।

যখন বিশ্বের রাষ্ট্রগুলো কনফারেন্স অব পার্টিজ বা কপ সম্মেলন করেছে; সেইসময় যুদ্ধ ক্ষতিসাধন করতে লাগল বায়ুমণ্ডল, বাতাস, পানি, মাটি, গাছপালা ও ইকোসিস্টেমের ওপর। একের পর এক কপ সম্মেলন হলেও কার্বন নিঃসরণ কমাতে কোনো সম্মেলনই ফলদায়ক হয়নি। এই যখন অবস্থা, পৃথিবীর ল্যান্ডস্কেপ যখন ধূসর হতে শুরু করেছে, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ধারা যখন বাঁক নিচ্ছে অনিশ্চিত ভবিতব্যের দিকে; তখন পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলে পড়ল ইরানের ওপর। বিশ্ব প্রথমবারের মতো প্রত্যক্ষ করলো এক অযৌক্তিক যুদ্ধ।

এই যুদ্ধ সৃষ্টি করছে মানবিক সংকট, বাস্তুচ্যুত করছে মানুষকে। লাখ লাখ উদ্বাস্তু তৈরি করছে। গাজার মানবিক সংকট ও হত্যাযজ্ঞ মধ্যযুগীয় বর্বরতার শামিল। ইরানের পাল্টা আক্রমণে খোদ ইসরায়েলের ভেতর বাস্তুচ্যুত করেছে হাজারো বাসিন্দাদের। অনেকেই দেশ ছেড়েছেন। একের পর এক কপ সম্মেলনে বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে কোন দেশ কতটা কার্বন নিঃসরণ কমাবে, সে বিষয়ে যখন একমত হতে পারছে না, রক্তপিপাসু ইসরায়েল ও চালবাজ ট্রাম্পের দেশ পরাশক্তি আমেরিকা একযোগে আক্রমণ করল ইরানকে। ইসরায়েল-আমেরিকার কাছে যুদ্ধ মানে হলো শিশু হত্যা। যুদ্ধের প্রথম দিনেই একটা স্কুলে বোমা ফেলে তারা প্রায় দুইশ কচি ছেলেমেয়েদের মেরে ফেললো।

বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলছে, তাতে সমুদ্রপৃষ্ঠ স্ফীত হয়ে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ক্ষতির শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে আছে। উষ্ণতা বৃদ্ধি মানবসৃষ্ট, প্রাকৃতিক কারসাজি নয়—এটি বিশ্বে আজ প্রতিষ্ঠিত সত্য। আর এই অমোঘ সত্যটাকে বহু বছর যাবত ধামাচাপা দেওয়ার প্রচেষ্টায় রত ছিল বিশ্বের শিল্পোন্নত কতিপয় দেশ। শিল্পবিপ্লবের পর থেকেই পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছিল। উন্নত ও শিল্পায়িত বিশ্বের লাগামহীন কার্বন নিঃসরণের শিকার এখন গোটা বিশ্ব; কেননা উষ্ণতা বৃদ্ধি পেয়ে বরফ গলছে আর তা স্ফীত করে তুলছে সাগর—মহাসাগর; যার কুফলে অধিক ভুগবে বিশ্বের দ্বীপরাষ্ট্রসহ নিম্নাঞ্চলীয় নাজুক ভৌগোলিক অবস্থানের দুর্যোগপ্রবণ বাংলাদেশ।

দ্রুত সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন মনুষ্যসৃষ্ট। শিল্পবিপ্লবের পর থেকেই পৃথিবীর স্বাস্থ্যের ক্রমশ অবনতি ঘটতে থাকে। এর জন্য দায়ী শিল্পোন্নত ও পরাশক্তির দেশগুলো। তারা এশিয়া ও আফ্রিকার সম্পদ গ্রাস করে, এই দুই মহাদেশের অনেক দেশকে শোষণ করে তাদের কলোনি বানিয়ে রাখে। অন্যদিকে তারা যথেচ্ছ জীবাশ্ম জ্বালানি পুড়িয়ে পৃথিবীকে ঠেলে দেয় পরিবেশ বিপর্যয়ের দিকে। ক্ষতিকর কার্বন-ডাই-অক্সাইড, সিএফসি ও অন্যান্য বিধ্বংসী গ্যাস নিঃসরণ করে তারা এবং অস্বীকার করতে থাকে যে, জলবায়ু পরিবর্তন মানবসৃষ্ট। উন্নত প্রযুক্তি আবিষ্কার করে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করে; ফলে জলবায়ুর পরিবর্তনে তারা নিরাপদে থাকবে বা ক্ষতি হলেও পুষিয়ে নেবে সামর্থ ও প্রযুক্তি দিয়ে।

রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিশ্বে অর্থনৈতিক বিপর্যয়, রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে বিভাজন ও অস্ত্র বিক্রির যাবতীয় সব অশুভ ক্ষেত্র তৈরি করছে। এর মধ্যেই বিশ্বের মানচিত্রে অন্যতম একটি ভূখণ্ডের ল্যান্ডস্কেপ বদলে দিতে ও বায়ুমণ্ডল ভারী করতে উঠে-পড়ে লেগেছে দুই রক্ত ও তেল পিপাসু দেশ।

সামরিক নিঃসরণ: সূত্রমতে, বৈশ্বিক সামরিক কার্যক্রম মোট গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণের প্রায় ৫.৫% এর জন্য দায়ী, যা বিমান পরিবহন খাতের দ্বিগুণেরও বেশি। যুদ্ধকালীন এই নিঃসরণ আরও বেড়ে যায়।

কার্বন ফুটপ্রিন্ট: ইসরায়েল-গাজার অসম যুদ্ধ এককভাবে প্রায় ৩৩ মিলিয়ন টন কার্বন-ডাই-অক্সাইড সমতুল্য নিঃসরণ ঘটিয়েছে। আর সেটা করেছে রক্তপিপাসু বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ইসরায়েল।

অবকাঠামো ধ্বংস: তেল ডিপো, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্প কারখানা ধ্বংস হলে বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত গ্যাস ও ধোঁয়া বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে। এটাই এখন বাস্তবতা ইসরায়েল থেকে ইরান পর্যন্ত। আর সাগরও রক্ষা পাচ্ছে না। হরমুজ প্রণালি, বাব-আল মান্দেব, গালফ অব ওমান, লোহিত সাগর, ভারত মহাসাগর, ভূমধ্য সাগর প্রভৃতির একোয়াটিক ইকোসিস্টেম বিনষ্ট হচ্ছে তেলে-বোমায়-মিসাইলে ও বিবিধ ধ্বংসাবশেষে।

বায়ুদূষণ: বিস্ফোরণ ও আগুন থেকে পিএম ২.৫ বা পার্টিকুলেট ম্যাটার (মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর), সালফার-ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইডের মতো ক্ষতিকর কণিকা ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে একিউআই বা এয়ার কোয়ালিটি ইন্ডেক্স হঠাৎ বেড়ে যায় এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগ বাড়ে।

পানিদূষণ: রাসায়নিক পদার্থ ও ধ্বংসাবশেষ নদী ও ভূগর্ভস্থ পানিতে মিশে যায়, যা দীর্ঘমেয়াদে পানীয় জলের নিরাপত্তা নষ্ট করে। সাগর, নদী ও জলাভূমির জলজ প্রাণী ধ্বংস হয়। প্রবাল, সামুদ্রিক শৈবাল এবং জলজ প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হয়।

জীববৈচিত্র্য ধ্বংস: বনভূমি ও কৃষিজমি পুড়ে যাওয়ায় প্রাকৃতিক কার্বন সিংক নষ্ট হয়, ফলে জলবায়ু পরিবর্তন আরও তীব্র হয়। যুগ যুগ ধরে ইসরায়েলের সুদীর্ঘ বর্বর আক্রমণে গাজা উপত্যকার সবুজ হারিয়ে যাচ্ছে। সেখানের ভূখণ্ডে এখন শুধু দানবের আঁচড়।

বৈশ্বিক প্রভাব: বায়ুমণ্ডলে এখন বিপুল মাত্রায় যোগ হচ্ছে কার্বন, যাতে জলবায়ু পরিবর্তনের অশুভ চাকা আরও সচল হবে।

জলবায়ু নীতি: প্যারিস চুক্তির আওতায় সামরিক নিঃসরণ রিপোর্ট করার বাধ্যবাধকতা নেই, ফলে প্রকৃত বৈশ্বিক কার্বন হিসাব অসম্পূর্ণ থাকে। তাছাড়া এই মুহূর্তে কোনো দেশ বা রাষ্ট্রনায়ক নিয়ম-নীতির ধার ধারছে না।

দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি: যুদ্ধ শেষে পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় আবারও বিপুল কার্বন নিঃসরণ হয়, যা জলবায়ু সংকটকে আরও গভীর করে।

ইরানে আক্রমণ কি বৈধ বা এই আক্রমণ কি বিশ্বের কাছে গ্রহণযোগ্য? না, খোদ আমেরিকার ভেতরে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জমছে। ট্রাম্পের অসংলগ্ন বক্তব্য যুদ্ধের নামে তিনি যে হারে মত বদলাচ্ছেন এবং মিথ্যে বলছেন, অতীতে আমেরিকার রাষ্ট্রনায়ক করেননি। ইরান স্পষ্ট বলেছে, ট্রাম্পকে বিশ্বাস করা যায় না। তাই ইরান তার যুক্তিতে প্রথম থেকেই অনড়।

ট্রাম্প কোনোকিছুই মানছেন না। খোদ সিএনএন বলছে, ট্রাম্প রূপকথার রাজ্যে বিচরণ করছেন। তিনি যা করছেন, তা হাস্যকর ও অযৌক্তিক। যার ফলে ইরানের কাছ নাস্তানাবুদ হয়ে ন্যাটোর সাহায্য কামনা করেন। ন্যাটোর প্রভাবশালী দেশগুলো সরাসরি না করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে। বিশ্ব মোড়ল যুক্তরাষ্ট্র বেকায়দায় আছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

আর্টিকেল ২(৪) অনুযায়ী কোনো রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ করতে পারে না, যদি না জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ অনুমোদন দেয়। আর্টিকেল ৫১ অনুযায়ী কেবল সরাসরি আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় আত্মরক্ষা বৈধ। ইরান প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রকে আক্রমণ করেনি। আন্তর্জাতিক আইনবিদরা বলছেন, এ হামলা স্পষ্টতই অবৈধ এবং আগ্রাসী যুদ্ধের শামিল।

হামলার ফলে ইরান পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে, যা ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ বা অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ব তেলের ২০% সরবরাহ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের আক্রমণকে আত্মরক্ষা ও নিরাপত্তার যুক্তি দিয়ে বৈধতা দিতে চাইছে। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন এবং বৈধ নয়। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থেকে উৎপন্ন দূষণ শুধু স্থানীয় নয় বরং বৈশ্বিক বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে, যা দক্ষিণ এশিয়ার মতো প্রতিবেশী অঞ্চলেও প্রভাব ফেলতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করছে এবং পরিবেশের ওপর দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত রেখে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধের কার্বন নিঃসরণ ও দূষণকে আন্তর্জাতিক জলবায়ু নীতিতে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি, নইলে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা একেবারেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। নিঃসন্দেহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমগ্র বিশ্বকে এখন অস্থিতিশীল করছে।

লেখক: পরিবেশবিদ (সার্টিফায়েড মেম্বার, ইকো-কানাডা, ক্যালগেরি, আলবার্তা, কানাডা)।

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় যে ১০ সাপ, যেগুলো বিষধর

সাপ মানেই সেটি বিষধর- এমন ধারণা আমাদের অনেকের মধ্যে রয়েছে। বাড়ির উঠান, ঝোপঝাড়, কৃষিজমি কিংবা জলাশয়ের পাশে সাপের দেখা গেলে আতঙ্কিত হয় আমরা। অনেকে সাপটি চেনার আগেই সেটিকে মেরে ফেলে। অথচ বাংলাদেশে নিয়মিত দেখা যায় এমন সাপের একটি বড় অংশই বিষধর নয়।

জাগো নিউজ ২৪১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬৮ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সঙ্গী হারালে একাকী জীবন, বংশবৃদ্ধি থমকে হারিয়ে যাচ্ছে শকুন

একসময় ভাগাড়ে তাকালেই দেখা মিলতো শকুনের। মৃত প্রাণী খেয়ে জীবন ধারণ করে বলে ‌'প্রকৃতির ঝাড়ুদার' বলা হয় এই প্রাণীকে। তবে দিন দিন কমছে শকুনের সংখ্যা। বলতে গেলে বিলুপ্তির পথে প্রাণীটি।

জাগো নিউজ ২৪১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬৫ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()
যে কারণে ত্বরান্বিত হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের গতি | দা এগ্রো নিউজ