বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালকদের পর্ষদ কিরগিজ প্রজাতন্ত্রের ‘জাতীয় সেচ বিনিয়োগ কর্মসূচি’র জন্য ৯ কোটি ৫৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার অনুমোদন করেছে। এর লক্ষ্য সেচসেবা উন্নত করা, পানি নিরাপত্তা জোরদার করা এবং আরও উৎপাদনশীল ও সহনশীল কৃষিকে সহায়তা দেওয়া।
অর্থের পুরোটা বিশ্বব্যাংকের নয়। এই কার্যক্রমে আরও আছে এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের ৫ কোটি ডলার, ওপেক ফান্ডের ২ কোটি ডলার এবং সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কো-অপারেশনের ৬২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের অনুদান।
কিরগিজ প্রজাতন্ত্রে কৃষি এখনো কর্মসংস্থান ও আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস, কিন্তু পুরোনো সেচব্যবস্থা ও তাতে নষ্ট হওয়া পানি খাতটিকে আটকে রেখেছে। বাড়তে থাকা তাপমাত্রা এবং ঘন ঘন খরা, বন্যা ও পলি জমা কৃষক ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে।
সংখ্যাগুলো সুনির্দিষ্ট। বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন বিশেষজ্ঞ ওদেতে দুয়ার্তে মুক্সিম্পুয়া বলেন, “প্রকল্পটি সাড়ে ৪ লাখের বেশি মানুষকে সুবিধা দেবে, প্রায় ৮২ হাজার হেক্টরে সেচসেবা উন্নত করবে এবং পানি সরবরাহের দক্ষতা ৩৫ থেকে অন্তত ৭০ শতাংশে নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।” যে পানি সত্যিই জমিতে পৌঁছায়, তার হার দ্বিগুণ করাই কাজের মূল কথা।
কর্মসূচিটি দাঁড়িয়ে আছে তিনটি স্তম্ভে। প্রথমটি সেচ ও নিষ্কাশন অবকাঠামো আধুনিক করবে, পানি নিয়ন্ত্রণ ও সংরক্ষণ উন্নত করবে, বাঁধের নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং স্মার্ট পরিমাপ ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা বসাবে। দ্বিতীয়টি সেচসেবা দেওয়া জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করবে। তৃতীয়টি পানির পরে যে চাষ আসে, তাকে সহায়তা দেবে।
কিরগিজ প্রজাতন্ত্রে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের কান্ট্রি ম্যানেজার হিউ রিডেল বলেন, “সেচসেবা আধুনিক করা এবং কৃষক ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য পানি আরও নির্ভরযোগ্য করে তোলার স্পষ্ট রূপকল্প নিয়েছে কিরগিজ প্রজাতন্ত্র।” সরকারি ও বেসরকারি অর্থায়ন একসঙ্গে আনার ফলেই পরিকল্পনাটি এই পরিসরে পৌঁছাতে পারছে বলে তিনি জানান।
এই অনুমোদন একটি দীর্ঘ সরকারি কর্মসূচির সূচনা ধাপ, যেখানে আগামী এক দশকে ৫৪ কোটি ডলার সংগ্রহের আশা করা হচ্ছে; ২ লাখ হেক্টরের বেশি জমিতে সেচ আধুনিক হবে এবং সুবিধা পাবেন প্রায় ১০ লাখ মানুষ।
সূত্র: বিশ্বব্যাংক





মন্তব্য
(০)