চলতি মৌসুমে ধান কাটার সময় নাড়া পোড়ানো ঠেকাতে রাজ্যগুলোকে জেলাভিত্তিক পরিকল্পনা, ফসলের অবশিষ্টাংশ ব্যবস্থাপনার যন্ত্রের পূর্ণ ব্যবহার এবং কড়া নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার, জানিয়েছে রুরাল ভয়েস। নয়াদিল্লিতে কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান ও পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দর যাদবের যৌথ সভাপতিত্বে আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে এ নির্দেশনা আসে।
চৌহান জানান, ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর সময়ে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় হরিয়ানায় নাড়া পোড়ানোর ঘটনা ৫৩.৩% এবং উত্তর প্রদেশে প্রায় ৩২% কমেছে; পাঞ্জাবেও কমেছে। তবে মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে ঘটনা বাড়ায় আক্রান্ত জেলা ও গ্রাম চিহ্নিত করে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্র রাজ্যগুলোকে ৩.৫৪ লাখের বেশি অবশিষ্টাংশ ব্যবস্থাপনা যন্ত্র দিয়েছে, যার ২৬,১০৯টি ২০২৬-২৭ সালে নতুন। অচল পুরোনো যন্ত্র মেরামত এবং কাস্টম হায়ারিং সেন্টার শক্তিশালী করার নির্দেশ দেন চৌহান, যাতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক ভর্তুকি দামে যন্ত্র ভাড়া নিতে পারেন। ২০১৮-১৯ থেকে ২০২৫-২৬ সালে এই কর্মসূচিতে কেন্দ্র ৪,২৬৬.৪৭ কোটি রুপি ছাড় করেছে, এর ২,০৫৬.৫০ কোটি পাঞ্জাবকে। ২০২৬-২৭ সালের বরাদ্দ ৫৯২.৫৭ কোটি রুপির মধ্যে ৪৩০.৮৭ কোটি ছাড় হয়েছে; বকেয়া ব্যয়ের সনদ দ্রুত জমা দিতে পাঞ্জাবকে তাগিদ দেন চৌহান।
চৌহান বলেন, নাড়াকে বর্জ্য নয়, সম্পদ হিসেবে দেখতে হবে: মাটিতে মিশিয়ে জৈব সার, পশুখাদ্য, কিংবা বায়ো-সিএনজি, বায়োইথানল ও বিদ্যুৎ উৎপাদন; নাড়ার পেলেট পোড়ানো তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে কৃষককে সরাসরি যুক্ত করা এবং কার্বন ক্রেডিটের সুযোগ খোঁজার কথাও বলেন তিনি। রবি শস্য বোনার আগে বেশি সময় পেতে পুসা ২০৯০ ও পিআর১২৬-এর মতো স্বল্পমেয়াদি ধানের জাত ছড়ানোর তাগিদ দেন তিনি। যাদব মাঠে টহল ও ভ্রাম্যমাণ দল চান, বিশেষ করে বিকেল ৩টার পর, যখন উপগ্রহ নজরদারির ফাঁকে আগুন ধরা পড়ে না।
উত্তর ভারতের ফসলের আগুনের ধোঁয়া প্রতি শরতে সিন্ধু-গাঙ্গেয় সমভূমিজুড়ে ছড়ায়; তাই কৃষক কত দ্রুত নাড়া না পুড়িয়ে সাশ্রয়ী বিকল্প পান, তা দিল্লির বাইরেও গুরুত্বপূর্ণ।
ছবি: CIAT / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: রুরাল ভয়েস





মন্তব্য
(০)