দেশে ইলিশ আহরণ কমছেই। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ইলিশ আহরণ ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমেছে বলে প্রাথমিক হিসাব দিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের উৎপাদনের হিসাব চূড়ান্ত না হলেও তা পাঁচ লাখ টনের নিচে নেমেছে বলে অধিদপ্তর জানিয়েছে। অর্থাৎ টানা তিন বছর উৎপাদন কমার মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে এবারের মৌসুম।
অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ইলিশ উৎপাদন সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ ৭১ হাজার টনে পৌঁছেছিল। এরপর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা কমে পাঁচ লাখ ২৯ হাজার টনে এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় পাঁচ লাখ টনে নামে।
প্রায় দুই দশক ধরে উৎপাদন বাড়ছিল। ২০০১-০২ অর্থবছরে উৎপাদন ছিল প্রায় দুই লাখ টন, ২০০৭-০৮ অর্থবছরে দুই লাখ ৯৫ হাজার টন। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা দাঁড়ায় চার লাখ ৯৬ হাজার টনে, পরের বছর প্রথমবারের মতো পাঁচ লাখ টন ছাড়িয়ে পাঁচ লাখ ১৭ হাজার টনে পৌঁছে। এরপর ধারাবাহিকভাবে বেড়ে ২০২১-২২ অর্থবছরে হয় পাঁচ লাখ ৬৬ হাজার টন।
গবেষকরা উদ্বিগ্ন। তাঁদের মতে, নদী ও মোহনায় নাব্য কমে যাওয়া, পানিপ্রবাহ হ্রাস, দূষণ, অতিরিক্ত আহরণ, ছোট ফাঁস জালের ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব একসঙ্গে ইলিশের প্রজনন ও অভিবাসনকে বাধাগ্রস্ত করছে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক আনিসুর রহমান বলেন, ‘৩৩ বছর ধরে ইলিশ নিয়ে গবেষণা করছি। কিন্তু উৎপাদন কমে যাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এতটা শঙ্কিত হইনি।’ প্রাকৃতিক কারণের পাশাপাশি অতিরিক্ত আহরণ ও ছোট ইলিশ ধরাকে তিনি বিশেষ কারণ বলে মনে করেন।
এ পরিস্থিতিতে প্রজনন সুরক্ষায় আগামী ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ থাকবে। এ সময়ে ইলিশ পরিবহন, মজুত, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ও নিষিদ্ধ। মঙ্গলবার সচিবালয়ে ইলিশসম্পদ উন্নয়ন-সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
নিষেধাজ্ঞার সময়ে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেদের ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না; বরিশাল, চাঁদপুর ও ভোলাসহ প্রধান প্রজনন এলাকায় নজরদারি ও অভিযান জোরদার হবে এবং বরফকল, আড়ত ও বাজারে নজরদারি বাড়িয়ে অবৈধভাবে ধরা ইলিশের বাজারজাত বন্ধ করতে হবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণ গবেষণার মাধ্যমে খুঁজে বের করতে হবে। উৎপাদন কমায় উল্টো ইলিশ আমদানি করতে হচ্ছে— এটিও উদ্বেগের বিষয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সূত্র: সমকাল (সমকাল প্রতিবেদক)





মন্তব্য
(০)