কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার প্রায় শতবর্ষী হারবাং সংরক্ষিত বনের ভেতরে স্থানীয়দের ৬ থেকে ৮ ফুট চওড়া পুরোনো পথটি প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পাকা সড়কে রূপ নিচ্ছে, আর তার জন্য কাটা হচ্ছে পাহাড় ও টিলা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রায় ২৫ কোটি ৩ লাখ টাকার এ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পথের শুরুতেই একটি টিলা কেটে সড়কের সমান করা হয়েছে, উত্তর করমুহুরীপাড়ায় আরেকটি পাহাড় কাটার চিহ্ন। সাবানঘাটা সেতুর পর প্রায় ৬০০ ফুট এলাকায় ৫ থেকে ৯ ফুট উঁচু পাহাড় কেটে সড়ক প্রশস্ত করা হয়েছে; কাটা অংশের প্রস্থ ১০ থেকে ১২ ফুট। কয়েকটি গাছ কাটার চিহ্নও আছে।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সড়কের প্রায় ৪ কিলোমিটার গেজেটভুক্ত সংরক্ষিত বনের মধ্যে পড়েছে, যেখানে বন্যহাতির চলাচল আছে, পাশে গর্জনগাছ ও প্রায় ৫০ একর সুফল বনায়ন। বন বিভাগের দাবি, প্রকল্প নেওয়ার আগে তাদের অনুমতি নেওয়া হয়নি। ১৭ সেপ্টেম্বর পাহাড় কাটা নজরে আসার পর ২২ সেপ্টেম্বর চুনতি রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আবির হাসান এলজিইডিকে চিঠি দিয়ে কাজ বন্ধ করতে বলেন, তবে অভিযোগ আছে কাজ বন্ধ হয়নি।
প্রকল্পটি এলজিইডির দক্ষিণ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ। প্রকল্প পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম জানান, ২০২০ সালে সম্ভাব্যতা যাচাই হয়েছিল; সংরক্ষিত বনে সড়ক চলে আসায় "ভুল হতে পারে", ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি হবে না, আর বন বিভাগের চিঠির পর কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। তবে সরেজমিনে পাহাড় কাটা ও নির্মাণের আলামত বলছে, কাজ পুরোপুরি থামেনি। প্রশ্ন উঠেছে, সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে বনভূমির বিষয়টি কেন উঠে আসেনি।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, পথ পাকা ও প্রশস্ত হলে বনে মানুষ ও যানবাহনের প্রবেশ সহজ হবে, বাড়বে গাছ চুরি, শিকার ও বনভূমি দখলের আশঙ্কা। যানবাহন বাড়লে বন্যহাতির চলাচলে বাধা তৈরি হবে, আবাসস্থল সংকুচিত হলে হাতির লোকালয়ে ঢোকার ঝুঁকিও বাড়বে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল রানা বলেন, পাকা সড়ক হলে বনের ভেতর জবরদখল বাড়বে, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ঝুঁকিতে পড়বে।
প্রতিবেদনটি করেছেন দেশ রূপান্তরের চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি মো. কামাল উদ্দিন।
ছবি: AKM Emdadul Islam Bitu / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: দেশ রূপান্তর




মন্তব্য
(০)