বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদীকে ‘বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ’ ঘোষণার আয়োজন সম্পন্ন করেছে সরকার। ইউনেস্কোর ম্যান অ্যান্ড দ্য বায়োস্ফিয়ার (ম্যাব) কর্মসূচির আন্তর্জাতিক কমিটির কাছে মনোনয়নের নথিপত্র (ডোসিয়ার) পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। নদীর দুই পাড়ের মানুষ ও প্রাণ-প্রকৃতির মধ্যে ভারসাম্য গড়ে তোলা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়াই এর লক্ষ্য।
পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বে ম্যাবের ১৮ সদস্যের জাতীয় কমিটি প্রাথমিকভাবে হালদাকে রিজার্ভ ঘোষণা করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য নথি পাঠিয়েছে। গত ৩-৬ জুন প্যারাগুয়েতে ম্যাবের আন্তর্জাতিক কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের ৩৮তম সভায় ডোসিয়ার জমার সিদ্ধান্ত হয়; পরিবেশ অধিদপ্তর উদ্যোগ নেয়, এবং সর্বশেষ ৩১ আগস্ট ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানমের সভাপতিত্বে বৈঠকে ম্যাব বাংলাদেশ কমিটি স্বীকৃতির অনুমোদন দেয়।
কমিটির যুক্তি: হালদা এশিয়ার একমাত্র জোয়ার-ভাটার প্রাকৃতিক কার্প প্রজননক্ষেত্র; নদীতে বিরল ও বিপন্ন মাছ, ডলফিন ও অন্যান্য জলজ প্রাণী রয়েছে; তীরে লক্ষাধিক মানুষের জীবিকা ও সংস্কৃতি নদীর সঙ্গে জড়িত। স্বীকৃতি মিললে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর টেকসই জীবিকা, ইকোসিস্টেম সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক গবেষণা সহায়তা এবং মৎস্যবিজ্ঞানের গবেষণা ও শিক্ষার সুযোগ বাড়বে।
প্রস্তাবে হালদা অববাহিকার হাজারীখিল বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যকে কোর এরিয়া (২ হাজার ৭০৯ হেক্টর, ২ হাজার ৫১৪ জন বাসিন্দা), নদীপ্রবাহ ও দুই তীরের ৩০০ মিটার প্রশস্ত এলাকাকে বাফার জোন (১০ হাজার ৫৮৮ হেক্টর, ১ লাখ ২৩ হাজার ৮৩৫ জন) এবং অববাহিকার বাকি অংশকে ট্রানজিশন জোন (১ লাখ ৫৯ হাজার ৬০৬ হেক্টর, ১১ লাখ ৬৬ হাজার ৬১৪ জন) ধরা হয়েছে। চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া মূল নদী, পাহাড়ি ছড়া, উপনদী ও সংযুক্ত প্রধান খাল সবই এর অন্তর্ভুক্ত; তীরের ২০ মিটার প্রশস্ত উদ্ভিদ বেষ্টনী সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার, শিল্পদূষণের উৎস ধরে ভূমি-ব্যবহারের মানচিত্র হালনাগাদ এবং নির্ভরযোগ্য গবেষণার কথাও বলা হয়েছে।
ম্যাবের এই বৈজ্ঞানিক কর্মসূচিতে বর্তমানে ১৪৫ দেশের ৭৯৭টি এলাকা বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ হিসেবে ঘোষিত। ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম বলেন, জাতীয় কমিটি অনুমোদন দিয়েছে, সব কার্যক্রম শেষ, এখন ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক কমিটির অনুমোদন শিগগির মিলবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাঙামাটি সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা সতর্ক করেছেন, সংরক্ষণের উদ্যোগ ভালো হলেও রিজার্ভ হলে দুই তীরের নদীভাঙন, জোয়ার-ভাটা ও বন্যায় মানুষের দুর্ভোগ ঘিরে মানুষ ও পরিবেশের দ্বন্দ্ব বাড়বে এবং স্লুইসগেটসহ উন্নয়নকাজ এক রকম বন্ধ হয়ে যাবে। হালদার কার্পের ডিম ও রেণু দেশের হ্যাচারি ও পুকুরচাষের ভিত্তি, তাই সিদ্ধান্তটি মাছচাষি ও ডিম সংগ্রাহক—দুই পক্ষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনটি সমকালের।
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)