টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে সরকার নির্ধারিত দামে সার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা। তাঁদের ভাষ্য, ডিলাররা বাড়তি দাম চাইলেও এ বিষয়ে প্রশাসনের তেমন নজরদারি নেই।
উপজেলার পূর্বাঞ্চলের টিলার মাটিতে প্রধানত কলা, ড্রাগন, পেঁপে ও হলুদের চাষ হয়। এসব ফসলে টিএসপি ও ডিএপি সারের চাহিদা বেশি, কারণ টিএসপি মাটির ফসফরাসের ঘাটতি পূরণ করে— যা গাছের শিকড় মজবুত করে, সময়মতো ফুল ফোটায় ও ফসলের গুণগত মান বাড়ায়।
কৃষি অফিসের তথ্যমতে, উপজেলায় বিসিআইসির সার ডিলার ১৮ জন ও বিএডিসির ডিলার ২০ জন। ডিলারদের তথ্যমতে, এ মাসে ডিলারপ্রতি বরাদ্দ ছিল ইউরিয়া ৫৬০ বস্তা, টিএসপি ২৯, এমওপি ১০০ এবং ডিএপি ৫০ বস্তা।
সরকার নির্ধারিত দর অনুযায়ী ইউরিয়া ও টিএসপির ৫০ কেজির বস্তা এক হাজার ৩৫০ টাকা, এমওপি এক হাজার এবং ডিএপি এক হাজার ৫০ টাকায় ডিলারদের বিক্রি করার কথা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এই দামে কোথাও সার মিলছে না।
কুশারিয়া গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা আবু সাইদ অনিক বলেন, সরকারি দামে সার কিনতে পারলে প্রতি মাসে কৃষকের ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা বেঁচে যেত। কৃষক নাসির উদ্দিন বলেন, ‘সরকারি মূল্যে এক ছটাক সারও কেনা যাচ্ছে না।’ গত ২ সেপ্টেম্বর সাগরদীঘি বাজারের বিসিআইসি ডিলার রাজীব এন্টারপ্রাইজে গেলে টিএসপির প্রতি বস্তার দাম চাওয়া হয় এক হাজার ৮০০ টাকা, ইউরিয়া এক হাজার ৪৬০ এবং পটাশ এক হাজার ১৩০ টাকা।
গত ১১ আগস্ট ভোক্তা অধিকারের অভিযানে বেশি দামে সার বিক্রির দায়ে ওই প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। তবে মালিক সঞ্জয় সাহা বলেন, ‘আমি সারের দাম বেশি রাখি না। কৃষকের ক্ষতি হয় এমন কাজ করি না।’ ধলাপাড়া বাজারে বিএডিসির ডিলার শান্ত এন্টারপ্রাইজে প্রতি বস্তা ইউরিয়া এক হাজার ৪৮০, ডিএপি এক হাজার ৬০০ ও পটাশ এক হাজার ১০০ টাকা দাম চাওয়া হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলশাদ জাহান বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়ত সারের বাজার মনিটর করছি। কোনো ডিলার বেশি দামে সার বিক্রি করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ ইউএনও মো. মাহমাদুল হাসান বলেন, এখন পর্যন্ত কৃষকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাননি; অভিযোগ পেলে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন।
সূত্র: সমকাল (ঘাটাইল, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি)





মন্তব্য
(০)