‘তওবা’ আরবি শব্দ, অর্থ ফিরে আসা। ইসলামের পরিভাষায় তওবা মানে আল্লাহর নিষিদ্ধ কাজ ছেড়ে তাঁর নির্দেশিত পথে ফিরে আসা। প্রথম আলোর ধর্ম ডেস্কের লেখায় তওবা কবুল হওয়ার পাঁচটি মৌলিক শর্ত তুলে ধরা হয়েছে।
অনেকে বারবার তওবা ভেঙে আবার পাপে জড়িয়ে লজ্জা ও হতাশায় তওবা করাই ছেড়ে দেন। লেখায় তাবেয়ি হাসান বসরির (রহ.) উত্তর উদ্ধৃত করা হয়েছে, এটাই শয়তান চায়, তাই তওবা কখনো ছাড়া যাবে না। কোরআনে খাঁটি তওবার নির্দেশ আছে (সুরা তাহরিম, আয়াত ৮), আর শুধু মুখে ক্ষমা চাওয়া তওবার মূল কথা নয়, যদি না অন্তরে অনুশোচনা থাকে।
প্রথম শর্ত একনিষ্ঠতা: তওবা হবে শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, লোকলজ্জা বা প্রশংসার জন্য নয়। দ্বিতীয়, অতীতের পাপের জন্য অন্তরে গভীর অনুতাপ। তৃতীয়, পাপ তৎক্ষণাৎ ছেড়ে দেওয়া; নামাজ বা জাকাতের মতো ফরজ ছুটে থাকলে তা আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া, আর কারও সম্পদ আত্মসাৎ বা গিবতের মতো মানুষের অধিকারসংক্রান্ত পাপ হলে সম্পদ ফেরত দেওয়া বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে ক্ষমা চাওয়া।
চতুর্থ শর্ত ভবিষ্যতে আর সেই পাপ না করার দৃঢ় সংকল্প। লেখায় বলা হয়েছে, সংকল্পের পরও মানবিক দুর্বলতায় আবার ভুল হলে আগের তওবা বাতিল হয় না, তবে নতুন ভুলের জন্য নতুন করে তওবা করতে হয়।
পঞ্চম শর্ত সময় থাকতে তওবা করা। মৃত্যু উপস্থিত হওয়ার পর তওবা কবুল হয় না (সুরা নিসা, আয়াত ১৮), যেমন ডুবে যাওয়ার মুহূর্তে ফেরাউনের ইমান আনার ঘোষণা গ্রহণ করা হয়নি (সুরা ইউনুস, আয়াত ৯০-৯১)। কেয়ামতের আলামত হিসেবে পশ্চিম দিকে সূর্য ওঠার পরও তওবা গ্রহণযোগ্য হবে না (সহিহ বুখারি, হাদিস ৪৬৩৬)।
নবীজি (সা.) নিজেও প্রতিদিন তওবা ও ইস্তিগফার করতেন; সহিহ মুসলিমের হাদিসে (২৭০২) এসেছে, তিনি দিনে ১০০ বার আল্লাহর কাছে তওবা করতেন। লেখার শেষ কথা, তওবা কোনো সাময়িক আনুষ্ঠানিকতা নয়, মুমিনের সারা জীবনের অভ্যাস।
সূত্র: প্রথম আলো



মন্তব্য
(০)