দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ ও মাছের উৎপাদন বাড়াতে সরকার কাজ করছে এবং সে লক্ষ্যেই সারা দেশে পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি চলছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার লেকে পোনা ছাড়ার অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
মৎস্য অধিদপ্তরের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কর্মসূচির আওতায় ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর জলাশয়ে পোনা অবমুক্ত করা হচ্ছে; ঢাকা জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় এদিনের আয়োজনটি বাস্তবায়ন করে। জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কিশোরগঞ্জ থেকে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন এবং তারই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় পোনা ছাড়া হচ্ছে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান।
চিড়িয়াখানার লেকে এদিন মোট ২৫০ কেজি পোনা অবমুক্ত করা হয়—১০০ কেজি রুই, ৭৫ কেজি কাতলা ও ৭৫ কেজি কালিবাউস। ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার আকারের এসব পোনার সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৫৭৫টি; এর মধ্যে রুই প্রায় ১ হাজার ১০০টি, কাতলা প্রায় ৬০০টি এবং কালিবাউস প্রায় ৮৭৫টি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনসংখ্যা বাড়লেও দেশে এখন মাছের উল্লেখযোগ্য ঘাটতি নেই; বিশেষ করে মিঠাপানির মাছের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে এবং চাষির সংখ্যাও বাড়ছে। প্রান্তিক খামারিদের উৎসাহিত করতে মৎস্যচাষিদের কৃষক কার্ডের আওতায় আনা হবে এবং সহজ শর্তে ঋণসহ নানা প্রণোদনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে উৎপাদন বাড়ে ও গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হয়।
মাছের খাদ্য ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিরাপদ মাছ উৎপাদনে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার বন্ধে খামারিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে; মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষের পরামর্শ দিচ্ছেন, যাতে উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি অপচয় ও খরচ কমে।
মানসম্মত মাছের খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে এবং নিম্নমানের ফিড উৎপাদন ও বাজারজাত রোধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে বলেও প্রতিমন্ত্রী জানান। খামারিরা যাতে মানহীন খাদ্য ব্যবহার না করেন এবং ভোক্তারা নিরাপদ মাছ পান, সে লক্ষ্যে তদারকি জোরদার করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ডা. মো. শাহিনুর আলম, মৎস্য অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের পরিচালক মো. আহসান হাসিব খান, কেন্দ্রীয় মুরগি খামারের পরিচালক জিনাত সুলতানা, চিড়িয়াখানার কিউরেটর মো. হাবিবুর রহমান ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদনটি কৃষি সংবাদের।
সূত্র: কৃষি সংবাদ




মন্তব্য
(০)