কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে সারের দাবিতে বামনডাঙ্গা, বেরুবাড়ী ও রামখানা ইউনিয়নে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
সকাল থেকে শত শত কৃষক অপেক্ষা করতে থাকেন বেরুবাড়ী বাজারে ডিলার নুর মোহাম্মদ, বামনডাঙ্গা আমতলা বাজারে আদম আলী ও নাখারগঞ্জ বাজারে লাভলু মণ্ডলের গুদামের সামনে। দীর্ঘক্ষণ দোকান না খোলায় তাঁরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন; ইউনিয়ন উপসহকারী কর্মকর্তাদেরও সেখানে পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে কৃষকরা অটোরিকশায় মাইক বেঁধে মিছিল বের করে রাস্তা অবরোধ করেন।
বেরুবাড়ী ইউনিয়নের চর বেরুবাড়ী কপিলের চরের গোলাম মোস্তফা জানান, তিন বিঘা জমিতে রোপা আমন চাষ করেছেন তিনি এবং তিন দিন ধরে সারের জন্য ঘুরছেন। তাঁর ভাষ্য, এ অবস্থা চলতে থাকলে মাঝপথেই ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাবে। মণ্ডলপাড়ার বাবু ইসলাম জানান, অটোরিকশা চালিয়ে তাঁর জীবিকা, কিন্তু তিন দিন ধরে অটো না চালিয়ে সারের জন্য অপেক্ষা করে ফিরে যাচ্ছেন।
বেরুবাড়ী ইউনিয়নের সার ডিলার নুর মোহাম্মদ বলেন, এবারে বন্যা না হওয়ায় অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি জমিতে রোপা আমন চাষ হয়েছে, ফলে সারের চাহিদা ব্যাপক কিন্তু জোগান কম। তাঁর ভাষ্য, সোমবার গুদামে ছিল মাত্র ৪০ বস্তা সার, আর সারের জন্য এসেছিলেন প্রায় ৬০০ কৃষক; এই অল্প সার দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন বলেই গুদাম বন্ধ রাখতে হয়েছে।
বামনডাঙ্গা ইউনিয়নে আদম আলীর গুদাম খোলা থাকলেও মজুত কম থাকায় বিতরণে জটিলতা দেখা দেয়। ইউনিয়ন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলাম জানান, পরে প্রশাসনের উপস্থিতিতে গুদামে থাকা ১৪০ বস্তা ইউরিয়া ও ১০০ বস্তা ডিএপি বিতরণ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন জানান, বামনডাঙ্গায় যা মজুত ছিল তা বিতরণ করা হয়েছে; রামখানা ও বেরুবাড়ীতে আরও সার এলে তা একসঙ্গে বিতরণ করা হবে। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে সংকট হতে পারে— এই আশঙ্কা থেকে কিছু কৃষকের মধ্যে মজুত করার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। ইউএনও মোহাম্মদ আলাউদ্দিন জানান, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে।
সূত্র: সমকাল (নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি)





মন্তব্য
(০)