কৃষকেরা কৃষিপ্রযুক্তি থেকে মুখ ফেরাচ্ছেন না, তবে খামারে কোন প্রযুক্তি জায়গা পাবে তা নিয়ে অনেক বেশি বাছবিচার করছেন। McKinsey & Company (ম্যাকিনজি অ্যান্ড কোম্পানি)-র Global Farmer Insights 2026 (গ্লোবাল ফার্মার ইনসাইটস ২০২৬)-এর পাঠ এটাই—তাদের চতুর্থ দ্বিবার্ষিক জরিপ, এপ্রিল থেকে জুলাইয়ে দশ দেশের ৫,৫০০ কৃষকের ওপর, ১২০ একর বা তার কম জমির ক্ষুদ্র চাষি থেকে ৬,০০০ একরের বেশি খামার পর্যন্ত; সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত ও পেরুর কৃষকদের সাক্ষাৎকার।
অর্ধেক কৃষক এখন অন্তত একটি কৃষিপ্রযুক্তি ব্যবহার করেন—ম্যাকিনজির বিস্তৃত সংজ্ঞায় নির্ভুল গাইডেন্স, ভেরিয়েবল-রেট প্রয়োগ, সেচ নিয়ন্ত্রণ, মাঠ পর্যবেক্ষণ, ডিজিটাল কৃষিবিদ্যা, রিমোট সেন্সিং, খামার-ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার, স্বয়ংক্রিয়তা, রোবোটিক্স এবং নির্ভুল স্প্রের মতো এআই-সক্ষম টুল। কিন্তু দুবারই জরিপ হওয়া সাত দেশে ২০২৪-এর পর গ্রহণ বেড়েছে মাত্র ৪ শতাংশ পয়েন্ট, আর অন্যতম পরিণত বাজার যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ২ শতাংশ। সবচেয়ে ব্যবহৃত শ্রেণি ডিজিটাল কৃষিবিদ্যা, ৩১ শতাংশ; এরপর নির্ভুল কৃষির হার্ডওয়্যার ও রিমোট সেন্সিং; সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি রিমোট সেন্সিং ও খামার-ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যারে, আর স্বয়ংক্রিয়তা ও রোবোটিক্স এখনো অনেক কম—খরচ বেশি, বিদ্যমান কাজে খাপ খাওয়ানো কঠিন।
সতর্কতার কারণ টাকা। কৃষকেরা জানিয়েছেন, পণ্যের দাম কম অথচ সার, শ্রম, জমি, যন্ত্র ও অর্থায়নের খরচ চড়া বা অস্থির; তাই তাঁরা নগদ ধরে রাখছেন, কেনাকাটা পেছাচ্ছেন, সস্তায় নামছেন। উত্তর আমেরিকায় ৬৬ শতাংশ আগামী দুই বছরের মুনাফার শীর্ষ তিন ঝুঁকিতে উপকরণের দাম বৃদ্ধিকে রেখেছেন, ৫০ শতাংশ পণ্যমূল্যের অস্থিরতাকে। যন্ত্রপাতিতে দোলাচল স্পষ্ট: চাপে পড়লে ১৬ শতাংশ প্রথমে যন্ত্র কেনা কাটবেন, কিন্তু মুনাফা ফিরলে ৩৬ শতাংশ প্রথমে সেখানেই টাকা ঢালবেন—জমে থাকা চাহিদা, ম্যাকিনজির ইঙ্গিত। প্রযুক্তি দিয়ে কী চান, তার উত্তরে এক মার্কিন ভুট্টা-সয়াবিন চাষি: "নাইট্রোজেন দামি, আর দরকারের বেশি আমি দিতে চাই না।"
ধীর গতির ব্যতিক্রম জেনারেটিভ এআই: ১৭ শতাংশ কৃষক খামারের কাজে এটি ব্যবহার করেন (৪ শতাংশ টাকা দিয়ে), সবচেয়ে বেশি লাতিন আমেরিকা ও উত্তর আমেরিকায়, আর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ আশা করেন তিন থেকে পাঁচ বছরে এটি তাঁদের খামারে প্রভাব ফেলবে। ব্যবহার মূলত ফসল কাটার আগে—৪৩ শতাংশ পরিকল্পনায়, ৩৩ শতাংশ ফসল ব্যবস্থাপনায়—আর সমস্যা সমাধান, পণ্য তুলনা ও কৃষিবিদের জন্য প্রশ্ন সাজাতে। ব্যবহারের তুলনায় আস্থা পিছিয়ে: কেনার সিদ্ধান্তে ৫৬ শতাংশের কাছে কারিগরি কৃষিবিদ শীর্ষ প্রভাবক, বিক্রয় প্রতিনিধি ৫৬ শতাংশের (২০২৪-এ ৬৭), আর জেনারেটিভ এআই বা এআই সার্চ মাত্র ৬ শতাংশের। ফ্রান্সের এক আঙুরচাষি বলেন, খরার সময় ঘাসের আবরণ নিয়ে এআই-এর পরামর্শ "একেবারেই লক্ষ্যভ্রষ্ট" ছিল।
কৃষকেরা অনলাইনে বেশি খোঁজ করছেন—পণ্য যাচাই ও তুলনায় ৩৬ শতাংশ ডিজিটাল মাধ্যম পছন্দ করেন, ১৪ পয়েন্ট বেশি—তবে বড় পরিসরে যাওয়ার আগে পরখ করেন: জৈব পণ্যের বেশির ভাগ ব্যবহারকারী তা অর্ধেকের কম জমিতে লাগান। এক মার্কিন চাষির কথায়, "বিশ্বস্ত সুপারিশ পেলে শুরুতে অর্ধেক খেতে দিই, দু-একটা মৌসুম দেখি।" কৃষিপ্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য ম্যাকিনজির উপসংহার: গ্রহণ নির্ভর করবে খামার-পর্যায়ে—ফসল, ভূগোল ও খামারের আকারভেদে—বিনিয়োগের প্রতিদান দেখানোর ওপর, আর শুরু করার খরচ ও জটিলতা কমানোর ওপর।
সূত্র: AGDAILY


মন্তব্য
(০)