ইথিওপিয়ার কৃষি দীর্ঘদিন হেঁটেছে দড়ির ওপর দিয়ে—অনিশ্চিত বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল, ভয়াবহ খরার সামনে অরক্ষিত। ক্ষুদ্র সেচের আগের চেষ্টাগুলো, যার বেশির ভাগই সরকার-চালিত, ভেঙে পড়া অবকাঠামো আর এলোমেলো ব্যবস্থাপনায় আটকে গিয়েছিল—নির্মাতারা চলে যাওয়ার পর।
এখন চেষ্টা হচ্ছে ভিন্ন এক মডেলের। কৃষক-নেতৃত্বাধীন সেচ উন্নয়ন বা ‘ফ্লিড’-এর নেতৃত্বে আছে ইথিওপিয়ার কৃষি মন্ত্রণালয়, আর পেছনে বিশ্বব্যাংকের ‘ইথিওপিয়া ফুড সিস্টেমস রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম’। এটি পানি দেয়, কিন্তু সেই সঙ্গে বদলে দেয় সিদ্ধান্ত নেয় কে।
ফ্লিডের মূল কথা মালিকানা। ওপর থেকে নির্দেশ দেওয়ার বদলে কৃষক—এককভাবে বা দলবদ্ধভাবে—ঠিক করেন কোন ধরনের ও কত বড় সেচব্যবস্থা তাঁরা চান, এবং নিজেদের অর্থ বিনিয়োগ করতে বাধ্য থাকেন। সরকার সরাসরি বাস্তবায়ন না করে দিকনির্দেশনা ও সম্পদ দিয়ে সহায়তা করে।
খরচ ভাগ করা হয়েছে ইচ্ছাকৃতভাবেই। যন্ত্রপাতির দামের একাংশ দেয় সরকার, একাংশ কৃষক—এই কাঠামো সেচকে নাগালে রাখে, আবার নিশ্চিত করে যে পাম্প যিনি ব্যবহার করবেন, পাঁচ বছর পরও সেটি সচল থাকা নিয়ে তাঁর দায় থাকবে।
কর্মসূচিটি হুট করে বানানো নয়। ইথিওপিয়ার ভেতরের সফল পরীক্ষামূলক উদ্যোগ এবং উগান্ডাসহ অন্যান্য আফ্রিকান দেশের অভিজ্ঞতা থেকে এটি শিক্ষা নিয়েছে; বিদ্যমান সরকারি উদ্যোগের বিকল্প নয়, পরিপূরক হিসেবেই এটি সাজানো, আর লক্ষ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ সেচব্যবস্থা।
বাস্তবায়ন হবে ধাপে ধাপে। চলতি অর্থবছরে পরীক্ষামূলক পর্যায়, পরের অর্থবছরে পূর্ণ জাতীয় বিস্তার—তিনটি সুপরিকল্পিত ধাপে, যাতে কৃষক জনগোষ্ঠীর জন্য পরিবর্তনটা আকস্মিক না হয়ে মজবুত হয়।
ভিত্তিটা স্পষ্ট করে বলা দরকার, কারণ এটি কয়েক দশকের চর্চাকে উল্টে দেয়: যে কৃষক নিজে ব্যবস্থাটি বেছে নিয়েছেন এবং তার জন্য অর্থ দিয়েছেন, সেটি রক্ষণাবেক্ষণ করার কারণ তাঁর আছে। নিজেদের সেচের পরবর্তী প্রজন্ম নিয়ে ইথিওপিয়া এই বাজিটাই ধরছে।
সূত্র: বিশ্বব্যাংক





মন্তব্য
(০)