দেশে ট্রাক্টর, রাইস ট্রান্সপ্লান্টার ও কম্বাইন হারভেস্টারের মতো কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার দ্রুত বাড়লেও যন্ত্র কেনার অর্থায়নে ব্যাংক প্রায় নেই। কৃষিযন্ত্র কেনার মাত্র ২ থেকে ৭ শতাংশ অর্থ আসে ব্যাংক থেকে, বাকিটা আত্মীয়স্বজন, অনানুষ্ঠানিক খাত আর এনজিওর চড়া সুদের ঋণে।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) ও আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইএফপিআরআই) যৌথ আয়োজনে উপস্থাপিত 'বাংলাদেশের খাদ্যব্যবস্থায় অর্থায়ন' গবেষণায় আইএফপিআরআইয়ের রিসার্চ ফেলো এম মেহরাব বখতিয়ার দেখিয়েছেন, মাত্র ২ শতাংশ কৃষকের নিজস্ব কৃষিযন্ত্র আছে। ৯৮ শতাংশ কৃষক ট্রাক্টর ভাড়ায় নেন; পাওয়ার টিলারের ৯৫ শতাংশ ও পাওয়ার থ্রেশারের ৯৪ শতাংশও চলে ভাড়ায়। কম্বাইন হারভেস্টারে ফসল কাটার হার ২০১৮ সালের ১ শতাংশ থেকে ২০২৩ সালে ২০ শতাংশে উঠেছে।
জরিপ অনুযায়ী, একটি হারভেস্টার কেনার অর্থের মাত্র ৬ শতাংশ আসে ব্যাংকঋণ থেকে, ৫১ শতাংশ আত্মীয়স্বজন বা অনানুষ্ঠানিক খাত থেকে এবং ২৯ শতাংশ এনজিও বা ক্ষুদ্রঋণদাতার কাছ থেকে। কৃষিঋণ নীতিমালায় অন্যের জমিতে ভাড়া খাটানোর জন্য কেনা যন্ত্র ঋণের আওতায় নেই, অথচ ৯৯ শতাংশ যন্ত্রই অন্যের জমিতে ভাড়ায় চলে। ফলে উদ্যোক্তাদের ২০ থেকে ৩১ শতাংশ সুদে ঋণ নিতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের হিসাবে দেশে কৃষিযন্ত্রের বাজার ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি, ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ মিলিয়ে তা ১২ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে; তবে দেশে তৈরি ও বিক্রির সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই।
বাংলাদেশ কৃষি যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি আলীমুল এহছান চৌধুরী বলেন, যন্ত্র ও কাঁচামাল আমদানিতে উচ্চ শুল্ক এবং যন্ত্রাংশের দুষ্প্রাপ্যতা বড় সমস্যা; সহজ শর্তে ঋণ আর কাঁচামালে শুল্ক কমালে দেশীয় উৎপাদন বাড়বে। আবেদিন ইকুইপমেন্টের প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আমির হোসেন জানান, কৃষিতে ভর্তুকি থাকলেও কৃষিযন্ত্রে ভর্তুকি বন্ধ, আর কৃষকেরা যন্ত্র কিনতে কৃষিঋণের সুবিধা পান না।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. রওশন আলম বলেন, হাওর ও উপকূলে বিশেষ সুবিধা আর সমতলে ভর্তুকি দিয়ে যন্ত্র দেওয়ার প্রকল্পটি ত্রুটির কারণে বন্ধ করা হয়েছে। এখন নতুনভাবে চাহিদাভিত্তিক যান্ত্রিকীকরণে সহায়তার পরিকল্পনা আছে, আর সেচে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়াতে কাজ চলছে।
প্রতিবেদন: শামসুল হক মোহাম্মাদ মিরাজ, প্রথম আলো
ছবি: Tanvir Rahat / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)