সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮+০.০%আদা - আমদানিকৃত১৬৭+০.০%আদা - দেশী১৫৪+০.০%আমন চাল - মাঝারি৫৬+০.০%আমন চাল - মোটা৪৮+০.০%আমন চাল - সরু৭২+০.০%আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২+০.০%কাঁচা মরিচ২১৮+০.০%খামারের মুরগী১৬২+০.০%খাসী৯০০+০.০%চিনি (দেশী)১৩২+০.০%ছোলা - গোটা৮৫+০.০%ডিম ফার্ম - লাল৪৭+০.০%পেঁয়াজ - দেশী৬০+০.০%বোরো চাল - মাঝারি৫৫+০.০%বোরো চাল - মোটা৪৭+০.০%বোরো চাল - সরু৬৬+০.০%মাংসঃ– গরু৭২৯+০.০%মুগ ডাল১২২+০.০%রসুন - আমদানিকৃত১৯২+০.০%রসুন - দেশী১৭৩+০.০%সয়াবিন তেল১৬৩+০.০%
হালনাগাদ ১ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা৩২°মূলত পরিষ্কারআর্দ্রতা ৫৫%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

৫০০ কোটি মানুষের খাদ্য ও জীবিকা বনের ওপর, তবু কৃষিনীতিতে বন উপেক্ষিত

এফএওর নতুন প্রতিবেদন বলছে, বন ও গাছ থেকে ৫০০ কোটির বেশি মানুষ খাদ্য, ওষুধ, জ্বালানি ও আয় পায়; অথচ জাতীয় কৃষি-খাদ্যনীতিতে বনের এই অবদান প্রায় অনুপস্থিত।

বিশ্বের ৫০০ কোটিরও বেশি মানুষ জীবিকার জন্য কোনো না কোনোভাবে বন ও গাছের ওপর নির্ভরশীল, আর বহু গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর খাদ্যের বড় অংশ আসে বন থেকে। অথচ জাতীয় পরিসংখ্যান কিংবা কৃষিনীতিতে এর প্রায় কিছুই ধরা পড়ে না। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে সরকারগুলোকে এই ঘাটতি দূর করার আহ্বান জানিয়েছে।

ল্যান্ডস্কেপ অ্যালায়েন্সের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি প্রতিবেদনটির নাম Forests for food: Nourishing people, sustaining the planet। এতে দেখানো হয়েছে, ক্ষুধা ও দারিদ্র্য কমাতে বনের ভূমিকা কতটা; আর বন ও কৃষিকে আলাদা দুই খাত হিসেবে না দেখে কৃষি-খাদ্যব্যবস্থার নীতিতে বনকে যুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের ভূমিকায় এফএওর মহাপরিচালক কু ডংইউ লিখেছেন, “একসঙ্গে কাজ করে এবং জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কৌশলে বনকে পুরোপুরি যুক্ত করে আমরা আরও দক্ষ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহনশীল ও টেকসই কৃষি-খাদ্যব্যবস্থা গড়তে পারি। বন সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবস্থাপনা মানুষের পুষ্টি, পৃথিবীর ভারসাম্য এবং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কল্যাণের জন্য অপরিহার্য।”

প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, খাদ্য, ওষুধসহ নানা কাজে ৫০ হাজারেরও বেশি বন্য প্রজাতি ব্যবহৃত হয়, যার অন্তত ১০ হাজার সরাসরি খাওয়া হয়। বননির্ভর কিছু জনগোষ্ঠীর দৈনিক আমিষের ৮০ শতাংশ পর্যন্ত আসে বনজ খাদ্য থেকে। বনের ফলে থাকে খনিজ ও ভিটামিন, বাদাম ও বীজে ক্যালরি, তেল ও আমিষ, কন্দ ও মূলে শর্করা; আর বন্য পাতায় থাকে ভিটামিন এ, ক্যালসিয়াম ও আয়রন, যে অণুপুষ্টিগুলোর ঘাটতিই সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর খাদ্যতালিকায়।

কৃষির ভিত্তিও দাঁড়িয়ে আছে বনের ওপর। বড় শহরগুলোর ৮৫ শতাংশের বেশি বিশুদ্ধ পানি আসে বনাঞ্চলীয় জলাধার থেকে; পানি নিয়ন্ত্রণ, মাটির সুরক্ষা, পুষ্টিচক্র, পরাগায়ন ও পোকা দমনের মাধ্যমে বন ফসল, গবাদিপশু ও মৎস্য খাতকে টিকিয়ে রাখে। অনেক অঞ্চলে গ্রামীণ পরিবারের আয়ের ২০ শতাংশ পর্যন্ত আসে বন থেকে, ফসল মার খেলে যা নিরাপত্তাবেষ্টনীর কাজ করে। এখনো প্রায় ১৮০ কোটি মানুষ রান্নায় কাঠের জ্বালানি ব্যবহার করে এবং ১০০ কোটির বেশি মানুষ বনের ভেষজ ওষুধের ওপর নির্ভরশীল।

ক্ষতির অঙ্কও বড়। গত এক দশকে বিশ্বে প্রতিবছর গড়ে ১ কোটি ৯ লাখ হেক্টর বন হারিয়ে গেছে। প্রতিবেদনটি সতর্ক করেছে, বন উজাড় ও বনের অবক্ষয় জীববৈচিত্র্য কমায়, বাস্তুতন্ত্রের সেবা দুর্বল করে এবং শেষ পর্যন্ত কৃষি উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দেয়। জাতিসংঘের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী ২০২৫ সালে প্রায় ৬৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ দীর্ঘমেয়াদি ক্ষুধার মুখে পড়েছিল।

প্রতিবেদনে ১২টি সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রেক্ষাপট-অনুযায়ী সমন্বিত নীতি গ্রহণ, উৎপাদনব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আনা, টেকসই কৃষি ও বন ব্যবস্থাপনায় সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো, বনজ খাদ্যের তথ্যব্যবস্থা গড়া এবং সরকার, নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্ব জোরদার করা। বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা কমিটির ২০১৭ সালের সুপারিশ কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, তা-ও চীন, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র, মরক্কো, তুরস্ক ও উরুগুয়ের উদাহরণ দিয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে।

কৃষকের জন্য এর সহজ অর্থ হলো, জমির আশপাশের গাছ কৃষির প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং খাদ্যব্যবস্থার অংশ; দুই ফসলের মাঝের সময়ে ফল, গোখাদ্য, জ্বালানি, মাটির আচ্ছাদন ও আয়ের উৎস। প্রতিবেদনের বক্তব্য স্পষ্ট: গাছকে বাদ দিয়ে কৃষি পরিকল্পনা করলে জমি আসলে কী উৎপাদন করছে, তার পুরোটা কখনোই হিসাবে আসে না।

সূত্র: এফএও নিউজরুম

এফএও নিউজরুমসূত্র

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

বাংলাদেশ

AEZ-০৭: সক্রিয় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা প্লাবনভূমি, যেখানে নদী জমি গড়ে আবার কেড়েও নেয়

নদীভাঙন, নতুন চর, বালু-পলির মাটি আর অনিশ্চিত বন্যার মৌসুম। কুড়িগ্রাম থেকে মানিকগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার হেক্টরের এই অঞ্চলে কৃষিকে টেকসই করতে দরকার জমিভিত্তিক তথ্য, উপগ্রহচিত্রের পর্যবেক্ষণ আর সময়মতো পরিকল্পনা।

তানিয়া চৌধুরী১ নভেম্বর ২০২৬১৩ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

বরেন্দ্রে বছরে ০.৬ মিটার পর্যন্ত নামছে পানির স্তর, সমন্বিত পানিনীতির দাবি

রাজশাহীতে নীতি সংলাপে বিশেষজ্ঞ ও জনপ্রতিনিধিরা ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানি, খাল-বিল সংস্কার, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও কম পানির ফসলের ওপর জোর দিয়েছেন।

বাসস১ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

দুই উৎসের বর্জ্য ঠেকালে হালদার ৮০ শতাংশ দূষণ কমতে পারে, বলছেন গবেষকেরা

অনন্যা আবাসিক এলাকা হয়ে আসা সিটি করপোরেশনের বর্জ্য আর বাহির সিগন্যাল শিল্প এলাকার বর্জ্য সামলাতে পারলে হালদার দূষণ অনেকটাই কমবে; এ বছর মা-মাছের ডিম মিলেছে প্রায় ৬ হাজার কেজি।

দৈনিক বাংলা১ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)