তীব্র গরম ইতিমধ্যেই গর্ভবতী নারী ও নবজাতকের ক্ষতি করছে, বলছে স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর করা নতুন এক জরিপ। পাঁচ দেশের মাতৃস্বাস্থ্যকর্মীদের প্রায় চারজনে তিনজন বলেছেন, গত পাঁচ বছরে গরমজনিত রোগী ও জটিলতা বেড়েছে, জানিয়েছে ডাউন টু আর্থ।
বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ফাউন্ডেশন ওয়েলকামের করানো জরিপটি ২০২৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর অনলাইনে হয়, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, যুক্তরাজ্য ও জিম্বাবুয়ের প্রতিটি থেকে ২০০ জন করে মোট ১,০০০ স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর। মাতৃসেবায় যুক্তদের প্রায় ৭৩ শতাংশ গর্ভবতী নারীদের মধ্যে গরমজনিত সমস্যা বাড়তে দেখেছেন, আর ৭৬ শতাংশ গর্ভের শিশু বা নবজাতকের ক্ষেত্রে। প্রায় সবাই এমন গর্ভবতী নারী (৯৮ শতাংশ) বা শিশুর (৯৯ শতাংশ) চিকিৎসা করেছেন, যাঁদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি গরমে হয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন।
তাঁরা নির্দিষ্ট সমস্যার কথাও বলেছেন: ২৩ শতাংশ বাড়তি পর্যবেক্ষণ বা চিকিৎসা লাগে এমন গর্ভকালীন জটিলতা দেখেছেন, ৩৪ শতাংশ কম ওজনের বা বৃদ্ধি ব্যাহত শিশু, ৩৬ শতাংশ নবজাতকের পানিশূন্যতা ও গরমজনিত অসুস্থতা, আর ৩৩ শতাংশ শিশুর খাওয়া, শ্বাস ও শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা। গরম চিকিৎসা পাওয়াও কঠিন করছে: ২৭ শতাংশ বলেছেন, উচ্চ তাপমাত্রায় পরিবারগুলোর পক্ষে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়া কঠিন হচ্ছে, আর ২৯ শতাংশ জরুরি রোগী বাড়ার কথা জানিয়েছেন। প্রায় ৮১ শতাংশের আশঙ্কা, ব্যবস্থা না নিলে আগামী পাঁচ বছরে এই ঝুঁকি আরও বাড়বে।
জরিপের ফল ক্রমবর্ধমান গবেষণার সঙ্গে মেলে। ওয়েলকামের উল্লেখ করা গবেষণায় দেখা গেছে, গরমের সংস্পর্শ প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে অকালপ্রসবের সম্ভাবনা প্রায় ৫ শতাংশ বাড়ে, আর তাপপ্রবাহের সংস্পর্শে প্রসূতিজনিত জটিলতার ঝুঁকি ২৫ শতাংশ বেশি।
ওয়েলকামের জলবায়ু প্রভাব ও অভিযোজন বিভাগের প্রধান ম্যাডেলিন থমসন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়তে থাকা তীব্র গরম আমাদের জীবনযাপন ও স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে, অথচ অনেক দেশ প্রস্তুত নয়; আগাম সতর্কব্যবস্থা ও ঠান্ডা ভবনের মতো সমাধান থাকলেও সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষের কাছে প্রায়ই পৌঁছায় না। জাতিসংঘের জলবায়ু সংস্থার নির্বাহী সচিব সাইমন স্টিয়েল গর্ভধারণ ও প্রসবকে বৈশ্বিক জলবায়ু সংকটের নতুন ফাটলরেখা বলেছেন।
৯-২০ নভেম্বরের কপ৩১ সম্মেলনের আগে ফিজিতে প্রাক-কপ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের প্রথম দিন, ৫ অক্টোবর, ফলাফল প্রকাশ করা হয়; এ বছর ৩৩টি দেশে রেকর্ড উষ্ণতম জুলাই গেছে। ওয়েলকাম চায়, জাতীয় জলবায়ু ও স্বাস্থ্য পরিকল্পনায় গর্ভবতী নারী, নতুন মা ও শিশুদের স্পষ্টভাবে রাখা হোক, গরম, গর্ভধারণ ও প্রসবোত্তর সময় নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রথম চিকিৎসা নির্দেশিকা তৈরি হোক এবং মাতৃস্বাস্থ্যের নজরদারিতে গরমের তথ্য যুক্ত হোক।
প্রতিবেদন: শগুন (Shagun), ডাউন টু আর্থ।
ছবি: Robert Yates / Department for International Development / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)