ইউরোপীয় ইউনিয়নের বন উজাড়বিরোধী বিধি (ইইউডিআর) ভাঙলে শুধু জরিমানা নয়, বেশির ভাগ সদস্যদেশে ইচ্ছাকৃত লঙ্ঘনের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের কারাদণ্ডও হতে পারে। আইনজীবীদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে FoodNavigator।
বিধি অনুযায়ী কোকো, কফি, পাম তেল, সয়াবিন, রাবার, কাঠ ও গবাদিপশুসহ নির্দিষ্ট পণ্য থাকা যেকোনো পণ্যের উৎস পর্যন্ত খোঁজ রাখা যেতে হবে। মানার শেষ সময় বর্তমানে এ বছরের ৩০ ডিসেম্বর।
ফুড ল সায়েন্স অ্যান্ড পার্টনার্সের অংশীদার কাতিয়া মের্টেন-লেন্টজ (Katia Merten-Lentz) বলেন, ইইউর পরিবেশ অপরাধ নির্দেশনা অনুযায়ী বিধি লঙ্ঘন করে এসব পণ্য বাজারে আনা বা রপ্তানি করা ফৌজদারি অপরাধ। স্কোয়ার প্যাটন বগসের টমাস দেলিল (Thomas Delille) জানান, নির্দেশনা অনুযায়ী সদস্যদেশগুলোকে এ অপরাধে সর্বোচ্চ সাজা অন্তত পাঁচ বছর রাখতে হবে। আলটিয়াসের ব্রেগট রাউস (Bregt Raus) বলেন, ইইউ পর্যায়ে ফৌজদারি সাজা একরকম করা বিরল; এতে ইইউডিআর লঙ্ঘন অবৈধ বর্জ্য চালান বা গুরুতর শিল্পদূষণের কাতারে পড়ল। আয়ারল্যান্ড ও ডেনমার্ক এই নির্দেশনার আওতায় নেই।
জার্মানির একটি খসড়া আইনে ইচ্ছাকৃতভাবে বিধিবহির্ভূত পণ্য বাজারে আনা বা রপ্তানির জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড অথবা জরিমানার কথা আছে। গুরুতর অবহেলায় তিন বছর পর্যন্ত এবং ইচ্ছাকৃত অপরাধে পরিবেশের বিশেষ গুরুতর ক্ষতি হলে দশ বছর পর্যন্ত সাজা হতে পারে। সম্পৃক্ততা অনুযায়ী পরিচালক বা ব্যবস্থাপকেরা দায়ী হতে পারেন।
আয়ারল্যান্ড নিজস্ব খসড়া তৈরি করেছে: বিধিবহির্ভূত পণ্যের ব্যবসা, পরিদর্শককে বাধা দেওয়া, যথাযথ যাচাই না করা বা প্রয়োজনীয় ঘোষণা জমা না দেওয়ায় তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে; তবে যাচাই-বিবৃতি পাঁচ বছর সংরক্ষণ না করলে শুধু জরিমানা। কোম্পানির সম্মতি বা ইচ্ছাকৃত অবহেলায় অপরাধ হলে কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে দায়ী হতে পারেন। আইরিশ আইনটি এখনো পাস হয়নি।
তবে বাস্তবে কারাদণ্ড দেওয়া হবে কি না, সেটি আলাদা প্রশ্ন। স্কোয়ার প্যাটন বগসের মারি এসকর্নেবু (Marie Escorneboueu) বলেন, ইইউডিআরের মতো ইইউ বিধি লঙ্ঘনে জাতীয় আদালতগুলোর কারাদণ্ড দেওয়ার কোনো প্রবণতা এখনো নেই, যদিও নির্দেশনাটি প্রয়োগ কঠোর করতে পারে।
ছবি: Aidenvironment / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: FoodNavigator





মন্তব্য
(০)