মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার বাজারে বিক্রি হওয়া আটটি কোম্পানির সারে ভেজাল পেয়েছে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট। এরপর এসব সার বাজার থেকে দ্রুত তুলে নিতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে চিঠি দিয়েছে সাটুরিয়া কৃষি অফিস।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর উপজেলার কয়েকটি সার ও কীটনাশকের দোকান থেকে ১৬টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। গত ৮ সেপ্টেম্বর ফল আসে, তাতে আটটি কোম্পানির সারে ভেজাল ধরা পড়ে। নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল চরতিল্লির আলমগীর ট্রেডার্স, চর সাটুরিয়ার আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজ, দরগ্রামের কুষ্টিয়া বাজারের বারী এন্টারপ্রাইজ, বালিয়াটি বাজারের আরিফ এন্টারপ্রাইজ ও পুলক ট্রেডার্সসহ ৯টি দোকান থেকে।
ভেজাল শনাক্ত হওয়া পণ্যগুলো হলো— ব্যাবিলন এগ্রো অ্যান্ড ডেইরি লিমিটেডের ব্যাবিলন বোরন সার, ব্যাবিলন এগ্রিসায়েন্স লিমিটেডের ব্যাবিলন জিংক সালফেট মনোহাইড্রেট, নিড এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নিড সলুবোর, এগ্রো মাইন লিমিটেডের সলিড জিংক মনো, হোসেন এন্টারপ্রাইজের বিজয় জিংক সালফেট মনোহাইড্রেট, ডেলকো এগ্রোর মনো জিংক সালফেট এবং গ্রিন বাংলা এগ্রোভেটের জিবি জিংক মনোহাইড্রেট।
সাটুরিয়া উপজেলায় ৩৭ হাজার ৪৭৪ জন কৃষক রয়েছেন। তাঁরা ধান, পাট, আলু ও কপিসহ বিভিন্ন সবজিতে এসব সার ব্যবহার করেন। গবেষণাগারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব পণ্যের কার্যকরী ক্ষমতা সরকারি নির্দেশনার তুলনায় অনেক কম।
বালিয়াটি গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমার প্রজেক্টে প্রায় তিনশত বিঘা জমিতে আবাদ হয়ে থাকে। কিন্তু ফসল ফলাতে গিয়ে নানা ধরনের সার ও কীটনাশক ব্যবহার করে আগের মতো উপকার পাই না।’ রাষ্ট্রপতি পদকপ্রাপ্ত কৃষক আ.খ.ম নূরুল হক বলেন, হরগজ ইউনিয়নে প্রথম ফুলকপি চাষ শুরু করেছিলেন তিনি; তখনকার সারগুলো ভালো কাজ করত, এখনকার সার কৃষকের কাজে আসছে না।
সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসসুম জানান, ৯টি প্রতিষ্ঠান থেকে ১৬টি নমুনা পাঠানো হয়েছিল; আটটি কোম্পানির সার সরকারি নির্দেশনার চেয়ে অনেক কম কার্যকরী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সার ব্যবস্থাপনা আইন ২০০৬-এর ১৭(২)(ঘ) উপধারা অনুযায়ী এগুলো ভেজাল সার, এবং এসব সার মজুত ও ক্রয়-বিক্রয় দণ্ডনীয় অপরাধ। বিএডিসির কয়েকজন ডিলারের কাছেও এসব পণ্য পাওয়া গেছে এবং সেগুলো সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।
সাটুরিয়ার ইউএনও কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম বলেন, ভেজাল সারের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইনের আওতায় আনা হবে এবং তাদের ডিলারশিপও বাতিল হতে পারে।
সূত্র: সমকাল (প্রতিবেদন: মো. জাহাঙ্গীর আলম, সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ)





মন্তব্য
(০)