নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলার একটি কৃষক সংগঠন গড়ে তুলেছে 'ফসলের হাসপাতাল', যেখানে কৃষকেরা রোগাক্রান্ত শস্যের সমাধান পান বলে জানিয়েছেন এর উদ্যোক্তারা। ক্ষেতের ফসল পোকামাকড় বা রোগবালাইয়ে আক্রান্ত হলে কীটনাশক প্রয়োগ না করে প্রাকৃতিক উপায়ে দমনের পরামর্শ দেওয়াই এর কাজ।
"কৃষকরা রোগাক্রান্ত শস্যের স্যাম্পল নিয়ে আমাদের হাসপাতালে আসলে মূলত কোন রোগের জন্য কোন ঔষধ লাগবে এবং সেটা কীভাবে বানাতে ও ব্যবহার করতে হবে সেই পরামর্শ দেওয়া হয়," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন ব্যবস্থাপনায় জড়িতদের একজন আবদুল ওয়াদুদ খান। পরামর্শ দেওয়ার কাজটি করেন তাদের কৃষক সংগঠনের প্রশিক্ষিত কয়েকজন সদস্য।
উদ্যোগটির বয়স প্রায় দেড় দশক। 'বাঘড়া হাওর কৃষক সমিতি' নামের সংগঠনটি ২০১০-১১ সালের দিকে ফসলের পোকামাকড় সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে করতেই ধারণাটি পায়। "আমরা তখন মুরুব্বিদের সাথেও কথা বলি। যাদের কৃষিকাজে অনেক অভিজ্ঞতা," বলছিলেন আবদুল ওয়াদুদ খান। "এরপর আমরা ভাবলাম মানুষ কিংবা পশুর জন্য হাসপাতাল থাকলে ফসলের জন্যও হতে পারে।"
মূল উদ্দেশ্য ছিল সার বা কীটনাশক ব্যবহার না করেও ক্ষেতের ফসলকে রোগমুক্ত ও নিরাপদ রাখা যায় — এই বিষয়ে কৃষকদের উৎসাহিত করা। হাসপাতালের সঙ্গে জড়িত আরেকজন কৃষক সায়েদ আহমেদ খান বাচ্চু বলছেন, কোনো শস্য বালাই আক্রান্ত হলে সেখান থেকে যথাযথ বালাইনাশক কোনটা হবে এবং সেটি কীভাবে তৈরি করতে হবে, সেই পরামর্শ দেওয়া হয়।
কারা আসেন, তাতেও একটি ধরন আছে। উদ্যোগটিকে সহায়তা দিচ্ছে বারসিক নামের একটি বেসরকারি সংস্থা, যার নেত্রকোনা অঞ্চলের সমন্বয়ক অহিদুর রহমান বলছেন, এই হাসপাতালে সবজি চাষ করা কৃষকরাই বেশি আসেন এবং সমস্যা সমাধানে পরামর্শ ও সহায়তা পান।
ধান চাষিরা তুলনায় কম আসেন, কারণ তারা কীটনাশকের ওপরই বেশি নির্ভর করতে চান বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। তবে অন্য অনেক শস্যের ক্ষেত্রে কৃষকেরা নিয়মিতই এসে পরামর্শ নিয়ে থাকেন।
সরকারি সম্প্রসারণ বিভাগও উদ্যোগটির খবর রাখে। নেত্রকোনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম বলছেন, তারাও এই 'ফসল হাসপাতালের' কথা শুনেছেন এবং উদ্যোক্তাদের সমস্যা সমাধানে 'অথেনটিক পরামর্শ' নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা





মন্তব্য
(০)