মাউন্ট কেনিয়ার নিচের ঢালে মেরু কাউন্টির মুরিরি বাজারে জেরেমিয়া মুইলারিয়া টাটকা ও ভাজা তেলাপিয়া বিক্রি করেন এমন এক দোকান থেকে, যা পাঁচ বছর আগেও ছিল না। স্থানীয়রা তাঁকে ডাকেন 'জেরে ওয়া সামাকি' — মাছওয়ালা জেরেমিয়া। ২০২২ সালে যখন তিনি শিক্ষকতা ছেড়ে এমন এক জনপদে মাছ বিক্রি শুরু করেন যেখানে ভাতের সঙ্গে মাছ উঠতই না, অনেকে ভেবেছিলেন তিনি মাথা খারাপ করেছেন।
তিনি বলেন, "শুরু করেছিলাম মাত্র দুই কেজি মাছ দিয়ে, দিনে ছয়টা মাছ, তা-ও অনেক সময় বিক্রি হতো না। এখন দিনে ১২ কেজি পর্যন্ত কিনি, তবু ক্রেতাদের জন্য মাছ রাখতে পারি না।" কঠিন অংশটা কখনোই সরবরাহ ছিল না, ছিল মানুষকে মাছ খাওয়ানো — গন্ধ আর কাঁটার ভয়ে বেশির ভাগই এড়িয়ে যেতেন, যতক্ষণ না যথেষ্টসংখ্যক মানুষ একবার চেখে দেখলেন এবং ফিরে এলেন।
তাঁর দোকান বড় একটি পরিবর্তনের ছোট চিহ্ন। ক্লাইমেট-রেজিলিয়েন্ট অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেমস ফর আফ্রিকা (কাসা) প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ ও ভিত্তি জরিপে দেখা গেছে, নিয়েরি, মেরু ও থারাকা নিথি কাউন্টিজুড়ে মাছের চাহিদা বাড়ছে।
জাতীয় পরিসংখ্যান দেখায় সুযোগ কতটা বাকি। কেনিয়া ফিশারিজ সার্ভিসের হিসাবে, ২০২৪ সালে দেশটির ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪২৪ টন মাছের মাত্র ১৯ শতাংশ এসেছে চাষ থেকে। ওয়ার্ল্ডফিশের নেতৃত্বে ৫ হাজার ২৫৮টি মাছচাষি পরিবারের — যার ১ হাজার ৩০৮টি মধ্য কেনিয়ায় — ওপর করা গবেষণা বলছে, উৎপাদন ও বিপণনের বাধাগুলো সরাতে পারলে পুকুরে চাষ বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ আছে।
চাহিদার নিচে আছে জলবায়ুর গল্পও। অনিশ্চিত বৃষ্টি, দীর্ঘ খরা আর কমতে থাকা ফলন মধ্য কেনিয়ার পরিবারগুলোকে ফসল ও গবাদিপশুর বাইরে তাকাতে বাধ্য করছে, আর মাছ চাষ হয়ে উঠছে লাভজনক জলবায়ু-সহনশীল বিকল্প।
৮০ কিলোমিটার দূরে থারাকা নিথি কাউন্টির চুকা শহরের উপকণ্ঠে ন্যান্সি এমবাই লাইনার দেওয়া উঁচু পুকুরে শিং-জাতীয় ক্যাটফিশ চাষ করেন এবং টাটকা, ভাজা বা মাছের তেল বানিয়ে বিক্রি করেন। প্রচারের জন্য তিনি মুখে-মুখে নয়, হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুক ব্যবহার করেন। তেলাপিয়ার বদলে ক্যাটফিশ বেছে নেওয়ার কারণ তাঁর স্পষ্ট: "একবার তেলাপিয়ায় বিনিয়োগ করেছিলাম, কিন্তু স্থানীয় হ্যাচারি থেকে পাওয়া নিম্নমানের পোনা বাজারের আকারে পৌঁছাতে অনেক সময় নিয়েছিল, ব্যবসাটা লোকসানি হয়ে গেল। তবু আমার বিশ্বাস, ভালো পোনা আর খাবার পেলে তেলাপিয়ার বিশাল বাজার আছে।"
তাঁর ধারণা পরিসংখ্যানের সঙ্গেই মেলে — ২০২৪ সালে কেনিয়ার চাষের মাছের ৭৮ শতাংশই ছিল তেলাপিয়া, ক্যাটফিশ মাত্র ১৪ শতাংশ। আর যে ঘাটতির কথা তিনি বলেন, সেটাই বলেন মুইলারিয়াও: "আমাদের দরকার নির্ভরযোগ্য পানি, মানসম্মত পোনা, সাশ্রয়ী খাবার আর কাজে লাগে এমন প্রশিক্ষণ।" তিনি নিজে মাছ চাষে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ পাননি; মাছ সামলানো, মূল্য সংযোজন ও ক্রেতা ব্যবস্থাপনা শিখেছেন ইউটিউব দেখে, সহ-ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আর বছরের পর বছর ঠেকে।
গেটস ফাউন্ডেশনের সহায়তায় ওয়ার্ল্ডফিশের চালানো কাসা প্রকল্প কাজ করছে ঠিক এই যোগসূত্রগুলো নিয়েই — উৎপাদন, অর্থায়নের সুযোগ, বাজার সংযোগ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও নীতি।
সূত্র: সিজিআইএআর (CGIAR)





মন্তব্য
(০)