বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) আগামী বছরের শেষ নাগাদ প্রতি মাসে চারটি, অর্থাৎ সপ্তাহে একটি করে লিভার প্রতিস্থাপনের লক্ষ্য ঠিক করেছে, যা বর্তমান হারের দ্বিগুণ। সংশ্লিষ্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. সাইফ উদ্দীন বলেন, লিভার প্রতিস্থাপন এখন নিয়মিত প্রক্রিয়া, প্রতি মাসে দুটি করে হচ্ছে। বাসসের এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে নয়া দিগন্ত।
বিএমইউর হেপাটোবিলিয়ারি, প্যানক্রিয়েটিক অ্যান্ড লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশন সার্জারি বিভাগের নেতৃত্বে ১৯টি বিভাগের একটি দল অস্ত্রোপচারগুলো করে। বিভাগীয় চেয়ারম্যান অধ্যাপক বিধান সি দাস জানান, লিভার সিরোসিসের শেষ পর্যায়, লিভার ক্যানসার আর আকস্মিক লিভার বিকলের ক্ষেত্রে প্রতিস্থাপন লাগতে পারে। ২০১০ সাল থেকে দেশে মোট ১৩টি লিভার প্রতিস্থাপন হয়েছে: বিএমইউতে আটটি, বারডেমে তিনটি, ল্যাবএইডে দুটি।
বিএমইউ ২০১৯ সালে নিজস্ব কর্মসূচি শুরু করে; আটটির ছয়টি হয়েছে ২০২৫ ও ২০২৬ সালের নিয়মিত কর্মসূচিতে। সর্বশেষ ছয়টি হয়েছে সরকারি অর্থায়নে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে, ভারতের হায়দরাবাদের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজির একটি দলের কারিগরি সহায়তায়। ছয়জন গ্রহীতার পাঁচজন বেঁচে আছেন, একজন সংক্রমণে মারা গেছেন; আগের চারজনও সুস্থ। ডা. সাইফের ভাষ্য, বিশ্বমানের কেন্দ্রে সাফল্যের হার ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ, বিএমইউতে ৯০ শতাংশ। ৩০ ও ৩১ অক্টোবর আরও দুটি প্রতিস্থাপনের কথা রয়েছে।
বাগেরহাটের শরণখোলার দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ইসমাত ইতি ৪ জুলাই বিনা মূল্যে লিভার পেয়েছেন বড় বোন আয়েশা সিদ্দিকার কাছ থেকে; দুজনই সুস্থ হয়ে সোমবার বাড়ি ফিরেছেন। নারায়ণগঞ্জের বন্দরের ২৩ বছরের সুমাইয়া কবির ৩ জুলাই বাবা হাজি কবির হোসেনকে (৬২) লিভারের অংশ দিয়েছেন; বাবা ধীরে ধীরে সেরে উঠছেন।
বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী দেশে প্রায় ৫ কোটি মানুষ লিভারের রোগে ভুগছেন, বছরে মারা যান ২২ থেকে ২৫ হাজার, আর বছরে এক হাজারের বেশি প্রতিস্থাপন দরকার। প্রতিবেশী দেশে প্যাকেজ খরচ ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা, জটিলতায় ১ কোটি পর্যন্ত; থাইল্যান্ড বা সিঙ্গাপুরে ১ থেকে ২ কোটি। বিএমইউতে সরকারি ভর্তুকিসহ খরচ শেষ পর্যন্ত ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা হতে পারে। প্রতিস্থাপনের পর আজীবন ফলো-আপ ও ওষুধ লাগে; শুরুতে মাসে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা, পরে ৪ থেকে ৫ হাজার।
বিএমইউতে এখন জীবিত দাতার লিভার নিয়ে প্রতিস্থাপন হয়; মৃত ব্যক্তির লিভার নিয়ে প্রতিস্থাপন এখনো শুরু হয়নি, তবে এ বিষয়ে সম্প্রতি আইন পাস হয়েছে বলে জানান ডা. সাইফ। নিকটাত্মীয়ের পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে 'আবেগী দাতা'ও লিভার দিতে পারেন; আর্থিক লেনদেন নেই কি না তা কঠোরভাবে যাচাই করা হয়। সাধারণত ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সী সুস্থ ব্যক্তিরা দাতা হন; বিএমইউতে এখন পর্যন্ত কোনো দাতার মৃত্যু হয়নি।
সূত্র: নয়া দিগন্ত




মন্তব্য
(০)