সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৭°ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাআর্দ্রতা ৮৯%বাতাস ১০ কিমি/ঘবৃষ্টি ২.৮ মিমি

ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে ৫ লাখ টাকা বিক্রির আশা

৫ বছর আগেও বাণিজ্যিকভাবে ফুল বাগান ছিল না পাবনা জেলায়। এখন কয়েক হেক্টর জমিতে করা হয়েছে বাণিজ্যিক ফুল বাগান। সবজি ও অন্যান্য চাষে দফায় দফায় লোকসানে পড়েন। তবে গোলাপ বাগানে ব্যাপক সফলতা মিলেছে টেবুনিয়ার ভজেন্দ্রপুরের তিন ভাইয়ের। ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে এ মাসে ৫ লাখ টাকার গোলাপ বিক্রির আশা তাদের।

শাকসবজি

৫ বছর আগেও বাণিজ্যিকভাবে ফুল বাগান ছিল না পাবনা জেলায়। এখন কয়েক হেক্টর জমিতে করা হয়েছে বাণিজ্যিক ফুল বাগান। সবজি ও অন্যান্য চাষে দফায় দফায় লোকসানে পড়েন। তবে গোলাপ বাগানে ব্যাপক সফলতা মিলেছে টেবুনিয়ার ভজেন্দ্রপুরের তিন ভাইয়ের। ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে এ মাসে ৫ লাখ টাকার গোলাপ বিক্রির আশা তাদের।

জানা যায়, তিন ভাই খন্দকার শরিফুল আলম রানা, খন্দকার আশরাফুল হক শাহিন ও জাফরুল্লাহ। ভজেন্দ্রপুরে তাদের এ পৈতৃক জমিতে ছিল বাঁশঝাড়। অন্য জমিতে সবজি ও বিভিন্ন চাষাবাদ হতো। কোনোভাবেই নিজেদের ভাগ্য বদল সম্ভব হচ্ছিল না। উল্টো দফায় দফায় সবজি চাষে লোকসান গুনতে হয়েছে। এ অবস্থায় বড় ভাই শরিফুল আলম রানা গোলাপ বাগান করার পরামর্শ দেন। তিনি ঢাকায় দীর্ঘদিন নার্সারির সঙ্গে জড়িত। এ বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান থাকায় বাঁশঝাড় তুলে দিয়ে দেড় বিঘা জমিতে গোলাপ বাগান করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। ভারত এবং দেশের যশোর ও সাভারসহ কয়েকটি অঞ্চল থেকে ১০ হাজার চারা এনে রোপণ করা হয়।

শুরুতেই ভালো উৎপাদন ও দামের কারণে আগ্রহ বাড়ে তিন ভাইয়ের। প্রয়োজনীয় পরিচর্যায় ব্যাপক লাভ ও সফলতায় বেড়েছে বাগানের পরিসর। দেড় বিঘা জমি থেকে ৪ বিঘার তিনটি বাগানে রূপ নেয়। শুরুতে নিজেরা পরিচর্যা করলেও এখন সারাবছর কমপক্ষে ৫ জন করে শ্রমিক কাজ করেন। বাগানে জুমুলিয়া, বিউটি, ভার্গো ও বমবমসহ ৭ প্রজাতির গোলাপ আছে। এসব ফুল লাল, শেড পিংক, অরেঞ্জ, হলুদ ও সাদা রঙের।

বাগান দেখভাল ও বিপণনের দায়িত্বে থাকা ইউনুফ জানান, সারাবছরই গোলাপের কম-বেশি চাহিদা থাকে। বছরের সাধারণ সময়ে প্রতি মাসে গড়ে দেড় থেকে ২ লাখ টাকার গোলাপ বিক্রি হয়। মাসে খরচ হয় ৭০-৮০ হাজার টাকা। নভেম্বরের শেষদিক থেকে গোলাপের চাহিদা বাড়তে থাকে, দামও বাড়ে। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গোলাপের চাহিদা ব্যাপক। ফেব্রুয়ারি মাসে অসম্ভব চাহিদা। এজন্য এ মাসকে সামনে রেখে বাগানকে অতিরিক্ত যত্ন ও পরিচর্যাও করতে হয়।

তিনি জানান, সপ্তাহজুড়ে ১০০ পিস গোলাপের দাম ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকার মধ্যে আছে। সামনে ভালোবাসা দিবস। তাই দু'একদিনের মধ্যে এর দাম বেড়ে প্রতি ১০০ পিস গোলাপ সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকায় গিয়ে ঠেকবে। এদিক থেকে এ মাসে ৪-৫ লাখ টাকার ফুল বিক্রির আশা করছেন।

বাগানে কাজ করতে এসেছেন বাগান মালিক খন্দকার শরিফুল আলম রানার ছেলে সাকিব। লেখাপড়ার পাশাপাশি নিয়মিতই বাবা-চাচাদের সঙ্গে গোলাপ বাগানের কাজে সহযোগিতা করেন। তিনি বলেন, 'একদিন পর পর ফুল তোলা হয়। শীতকালে আড়াই থেকে ৪ হাজার পিস ফুল ওঠে। সবচেয়ে ঢাল সিজনেও ১২০০ থেকে ১৫০০ পিস ফুল ওঠে। ভালোবাসা দিবসসহ ফেব্রুয়ারি মাসে নানা দিবস থাকায় ফুলের চাহিদা বেড়েছে। বাগানে কাজের ব্যস্ততাও বেড়েছে।'

এ পর্যন্ত পোকামাকড় বা রোগবালাইয়ের আক্রমণ না হওয়ায় ব্যাপকভাবে লাভবান হচ্ছেন বাগান মালিকরা। এতে আগ্রহ বাড়ায় সম্প্রসারণ ঘটছে বাগানের। সৃষ্টি হচ্ছে নতুন নতুন কর্মসংস্থান। বাগান যেন শ্রমজীবীদের জন্যও আশির্বাদ হয়ে এসেছে। এ ব্যাপারে বাগান শ্রমিক মোশাররফ হোসেন বলেন, 'সবকিছুই এখন মেশিনের মাধ্যমে করা হচ্ছে। এজন্য লেবারের দরকার কমে যাচ্ছে। এর মধ্যে এসব বাগান হওয়ায় আমাদের কাজের সুযোগ বেড়েছে। মাসে ১৫ হাজার টাকা বেতনে কাজ করি। বাগানে একদিন পর পর গোলাপ কাটি, মাঝে মাঝে মাটি আলগা করা, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ, সেচ দেওয়া ও কুড়ি কাটাসহ পরিচর্যামূলক সব কাজ করি।'

জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, বছর পাঁচেক আগেও জেলায় তেমন বাণিজ্যিক ফুল বাগান ছিল না। গত কয়েক বছরে ফুল বাগান বেড়েছে। পাবনা সদর, সুজানগর, চাটমোহর ও আটঘরিয়াসহ কয়েকটি উপজেলায় গোলাপ বাগান বেশি হচ্ছে। তাদের সাফল্যে আগ্রহী হয়ে অন্য উপজেলায়ও বাগান করতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন উদ্যোক্তারা। বর্তমানে জেলায় ১২ হেক্টর জমিতে ফুল বাগান হয়েছে। এর মধ্যে ২ হেক্টরে গোলাপ বাগান আছে। সময়ের সঙ্গে পরিমাণও বাড়ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো. রোকনুজ্জামান বলেন, 'কয়েকটি উপজেলায় প্রাথমিকভাবে বাণিজ্যিক গোলাপ চাষ শুরু হয়েছে। তারা ভালো লাভবানও হচ্ছেন। প্রতি একর জমিতে প্রায় ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা লাভের মুখ দেখছেন। এ কারণে অনেকেই গোলাপ চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। কৃষি বিভাগ একে দারুণ ইতিবাচক বিষয় হিসেবে দেখছে। এ ক্ষেত্রে মাঠকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া আছে। তারা মাঠপর্যায়ে চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। ভজেন্দ্রপুরের তিন ভাইয়ের মতো অন্যরাও গোলাপ চাষে ব্যাপক সফলতার মুখ দেখবেন।'

আলমগীর হোসাইন নাবিল/এসইউ/জিকেএস

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

শাকসবজি

সম্পর্কিত খবর

এগ্রোটেক

লেজারে আগাছা দমন করা Carbon Robotics-এর আয় ১০ কোটি ডলার ছাড়াল, লক্ষ্য এখন আইপিও

সিয়াটলের লেজার-আগাছানাশক যন্ত্র নির্মাতা Carbon Robotics ২০২৬ সালের মার্চে শেষ হওয়া বছরে ১০ কোটি ডলার আয় অতিক্রম করেছে, একটি নতুন অঘোষিত কৃষিযন্ত্র বানাচ্ছে এবং শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে, জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠাতা Paul Mikesell।

এজিফান্ডনিউজ ২৪৩১ আগস্ট ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
শাকসবজি

পেঁয়াজের দামে ধস, বিপাকে কৃষক

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এবারও কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না পেঁয়াজ চাষিরা। বিশেষ করে রাজশাহী ও পাবনায় বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় পেঁয়াজের দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে।

শাইখ সিরাজ১০ জুলাই ২০২৬১ মিনিটের ভিডিও
লাইভস্টক

যেভাবে ডিম রান্না করলে একবার খেলে বারবার চাইবে

ডিম আমাদের খাবারের তালিকায় পরিচিত ও সহজলভ্য খাবার। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ডিম দিয়ে তৈরি করা যায় নানা রকম সুস্বাদু পদ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ঘরোয়া রান্নায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে একটি জনপ্রিয় বিদেশি রেসিপি, চাইনিজ টমেটো এগ স্ক্র্যাম্বল। এই খাবারটি মূলত চীনের খুবই পরিচিত একটি ঘরোয়া পদ, যা এখন বাংলাদেশেও বেশ

জাগো নিউজ ২৪৬ মে ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()
ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে ৫ লাখ টাকা বিক্রির আশা | দা এগ্রো নিউজ