সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৭°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৮৯%বাতাস কিমি/ঘ

আড়তে মিলছে না রেণু: চিংড়ি চাষে স্থবিরতা

শামীম হাসান বাগেরহাট সদরের কাড়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। বাবা রেখে যাওয়ায় পর ২৪ বছর বয়সেই সংসারের হাল ধরেন তিনি। বাবার ঋণ ও সংসারের খরচ মেটাতে ঋণ নিয়ে শুরু করেছিলেন চিংড়ি চাষ। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি।

মৎস্য

শামীম হাসান বাগেরহাট সদরের কাড়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। বাবা রেখে যাওয়ায় পর ২৪ বছর বয়সেই সংসারের হাল ধরেন তিনি। বাবার ঋণ ও সংসারের খরচ মেটাতে ঋণ নিয়ে শুরু করেছিলেন চিংড়ি চাষ। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি।

প্রথমে ঘেরে বাগদার পোনা ছাড়লেও সেগুলো ধরার উপযোগী হওয়ার আগেই মরণব্যাধি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এপ্রিল, মে, জুন - এই তিন মাস ঘেরে গলদার রেণু ছাড়ার মৌসুম। কিন্তু মৌসুম শেষ হতে চললেও রেণু ছাড়তে পারেনি তিনি।

আড়তে রেণুর সংকট থাকায় গিয়েও ফিরে এসেছেন কয়েকবার। সময়মতো রেণু ছাড়তে না পারলে বছর শেষে লোকসানের বোঝা টানতে হবে। বাগদা ভাইরাসে মারা যাওয়ায় এবং মৌসুমের শেষে এসেও গলদার রেণু ছাড়তে না পারায় দিশেহারার এই নতুন চিংড়িচাষি।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে ঘেরের পাড়ে বসে জাগোনিউজকে তিনি এসব কথা বলেন।

চিংড়িচাষি শামীম হাসান বলেন, 'নিজের জমি নেই। ৪০ হাজার টাকা দিয়ে জমি বন্ধক নিয়ে চিংড়ি চাষ শুরু করেছিলাম। পরে ঘের প্রস্তুত করতে আরও ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। এই সবকিছুই ঋণের টাকায়। এখন রেণু ছাড়তে না পারলে বছর শেষে লোকসান হবে। এখন ঋণের টাকা দেবো নাকি লোকসান সামলাবো—সেই চিন্তায় আছি। অন্যদিকে সংসার চলবে কীভাবে সেই দুশ্চিন্তাও পিছু ছাড়ছে না।'

মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, বাগেরহাট জেলায় ৫৪ হাজার ৮শ ৪৮টি মৎস্য ঘের রয়েছে। এ ঘেরে ৯৮ কোটি ৬০ লক্ষ রেণুর চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে রেণুর চাহিদা মেটাতে চারটি হ্যাচারিতে রেণু উৎপাদন করা হচ্ছে। যা মোট চাহিদার ৮% পূরণ হচ্ছে।

ফকিরহাটের মৌভূক এলাকার মৎস্য চাষি দীপক চৌধুরী বলেন, 'আগে রেণুর দাম ছিল ১৫শ টাকা থেকে ১৭শ টাকা। এ বছর রেণুর দাম ৩ হাজার থেকে ৩৩শ টাকা। এই দামেও পর্যাপ্ত রেণুও পাওয়া যাচ্ছে না আড়তে। আমার ১০ বিঘা ঘেরে মাত্র ৪ হাজার রেণু ছাড়তে পারছি। আরও রেণু না ছাড়লে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হবে।

চিংড়িচাষী আহাদ শেখ বলেন, '৪০ বিঘা ঘেরে মাত্র ৩৭ হাজার রেণু ছাড়তে পেরেছি। আমার দেড় লাখ রেণুর প্রয়োজন। চাহিদা অনুযায়ী রেণু পাচ্ছি না। টাকা থাকলেও রেণু মিলছে না। দক্ষিণাঞ্চলের সবাই চিংড়ি চাষের উপর নির্ভর করে জীবন যাপন করি। ঘেরে যদি রেণুই না ছাড়তে পারি তাহলে তো ঘের করে কোনো লাভ নেই।'

তিনি আরও বলেন, 'নদীতে রেণু ধরা নিষেধ থাকায় এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সরকার বিকল্প ব্যবস্থা না করেই নদী থেকে মাছ করা নিষেধ করছে। হ্যাচারির রেণুতে এমনিতেই গুণগত মান ভালো থাকে না। তারপর চাহিদার মাত্র ৮ থেকে ১০ ভাগ উৎপাদন হয়। রেণু সংকটের এর সমস্যা সমাধান না হলে চিংড়িচাষিরা ক্ষতির সম্মুখীন হবে।'

রেণুর আড়তদার সালাম শেখ বলেন, 'দক্ষিণাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ চিংড়ি চাষের উপর নির্ভর করে। ফকিরহাটের ৬০টির মতো রেণুর আড়ত রয়েছে। এখানে প্রতিদিন চিংড়িচাষিরা রেণু নিতে এসে ফিরে যাচ্ছে। হ্যাচারি থেকে যে রেণু পাচ্ছি তা চাহিদার মাত্র ৮ থেকে ১০ ভাগ। বাকি চাহিদা মেটাতে বাধ্য হয়ে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কুমিল্লা, ভোলা, পটুয়াখালী জেলার নদী ও সমুদ্র থেকে আহরিত রেণু ও ভারত থেকে আসা রেণুর উপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু সরকার নদী ও সমুদ্র থেকে আহরিত রেণু এবং ভারতীয় রেণু ক্রয় বিক্রয় নিষিদ্ধ করায় সংকট সৃষ্টি হয়েছে।'

বাগেরহাট জেলা মৎস্য অফিসার (অ:দা:) রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, 'সরকার নদী থেকে রেণু আহরণ ও বিক্রি নিষিদ্ধ করায় কঠোরভাবে নজরদারি করছি। অবৈধভাবে বাইরের দেশ থেকে যদি বাংলাদেশে কোনো রেণু আসে তাহলে গলদা চিংড়ি চাষে নতুন রোগের সম্ভাবনা থাকতে পারে। চাষিদের চাহিদা মেটাতে খুলনাতে কয়েকটি হ্যাচারি স্থাপনের কাজ চলছে। এই হ্যাচারি গুলোর উৎপাদন ক্ষমতাও অনেক। হ্যাচারিগুলো উৎপাদন লক্ষ্য পূরণ করলে রেণুর আর সংকট হবে না।'

নাহিদ ফরাজী/এএইচ/এএসএম

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

বরিশালে ইলিশের সরবরাহ দ্বিগুণ, মণে কমেছে ২০ হাজার টাকা

দীর্ঘদিনের চড়া দামের পর বরিশালের বাজারে ইলিশের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। গত কয়েক দিনে মোকামগুলোতে ইলিশের সরবরাহও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এর প্রভাবে পাইকারি বাজারে মণপ্রতি দাম কমেছে সর্বোচ্চ প্রায় ২০ হাজার টাকা।

জাগো নিউজ ২৪১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬৪ মিনিটের পড়া
মৎস্য

২ কেজির ইলিশ বিক্রি হলো ৭ হাজার টাকায়

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলে সোহরাফ গাজীর জালে ধরা পড়েছে ২ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের একটি বড় আকৃতির ইলিশ। মাছটি কুয়াকাটা মৎস্য আড়তে নিলামে প্রতি কেজি ৩ হাজার ৬২৫ টাকা দরে মোট ৭ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

জাগো নিউজ ২৪১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
মৎস্য

বাড়িতে ইলিশ মাছের কাঁটা ছাড়াবেন যেভাবে

বাঙালির পছন্দের মাছের তালিকায় ইলিশ সবসময়ই শীর্ষে। সর্ষে ইলিশ, ভাপা ইলিশ কিংবা পাতুরি খাবারের টেবিলে আলাদা আনন্দ এনে দেয়। তবে ইলিশের স্বর্গীয় স্বাদের পাশাপাশি এর অসংখ্য সরু কাঁটা অনেকের কাছেই বড় সমস্যা। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ইলিশ খাওয়াতে গেলে বাড়ির সবারই বেশ ঝামেলায় পড়তে হয়। অসাবধানতায় গলায় কাঁটা

জাগো নিউজ ২৪১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬৩ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()