ক্ষুদ্র কৃষকের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, মূল্যশৃঙ্খল শক্তিশালী করা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নাইজেরিয়ার ‘সাসটেইনেবল অ্যাগ্রিকালচারাল ভ্যালু-চেইনস ফর গ্রোথ’ বা অ্যাগ্রো প্রকল্পের জন্য ৫০ কোটি ডলারের আইডিএ ঋণ অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক।
নাইজেরিয়ায় কর্মসংস্থানের সবচেয়ে বড় উৎস কৃষি। কিন্তু কম উৎপাদনশীলতা, মানসম্পন্ন উপকরণে সীমিত প্রবেশাধিকার, জলবায়ুজনিত ধাক্কা ও দুর্বল বাজার-সংযোগ খাতটিকে ভালো কাজ ও সস্তা খাবার দেওয়া থেকে আটকে রেখেছে। বহু ক্ষুদ্র কৃষক আটকে আছেন এমন চক্রে, যেখানে কম উৎপাদন মানে কম আয়, আর কম আয় মানে উৎপাদন বাড়ানোর উপকরণ কেনার সামর্থ্য না থাকা।
অ্যাগ্রো এই চক্রে হাত দিচ্ছে ক্রেতার দিক থেকে। ফলভিত্তিক ম্যাচিং গ্রান্ট সুবিধার মাধ্যমে প্রকল্পটি সেসব কৃষি-ব্যবসাকে সহায়তা দেবে, যারা ক্ষুদ্র কৃষকের কাছ থেকে পণ্য কেনার অঙ্গীকার করবে; মনোযোগ থাকবে সংগ্রহ, ফসল-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণে মূল্য সংযোজন এবং বাজারে উন্নত প্রবেশাধিকারে।
উপকরণের দিকেও নজর আছে। প্রকল্পটি বীজ ও সারের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা উন্নত করবে, প্রাথমিক প্রজন্মের বীজের সরবরাহ বাড়াবে, বেসরকারি খাতে মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদন উৎসাহিত করবে এবং ভূমিভিত্তিক বিনিয়োগে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা আনবে।
নাইজেরিয়ায় বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাথিউ ভার্গিস বলেন, “অ্যাগ্রো নাইজেরিয়ার কৃষির জন্য রূপান্তরকারী পদক্ষেপ—ক্ষুদ্র কৃষককে ক্ষমতায়ন, বেসরকারি খাতের নেতৃত্বে প্রবৃদ্ধির পথ খোলা এবং টেকসই উপায়ে খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করা।” প্রকল্পে ১০ লাখ পর্যন্ত ক্ষুদ্র কৃষক সুবিধা পাবেন বলে তিনি জানান।
ছয় বছরের এই কর্মসূচি চলবে ২০২৬ থেকে ২০৩২ সাল পর্যন্ত এবং বেসরকারি কৃষি-ব্যবসা থেকে আরও ২২ কোটি ডলার সংগ্রহের আশা করা হচ্ছে—অর্থাৎ পরীক্ষাটা এই যে, সরকারি ঋণ বাণিজ্যিক অর্থকে ক্ষুদ্র কৃষকের সরবরাহের পাশ কাটিয়ে নয়, বরং তার পেছনেই আনতে পারে কি না।
অ্যাগ্রো রয়েছে বিশ্বব্যাংকের বৃহত্তর ‘অ্যাগ্রিকানেক্ট’ উদ্যোগের ভেতরে—গত এক বছরে ঘানা, গিনি ও সেনেগাল যে কাঠামোর আওতায় জাতীয় কম্প্যাক্ট চালু করেছে।
সূত্র: বিশ্বব্যাংক





মন্তব্য
(০)