জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) অধীন ভূমধ্যসাগরীয় সাধারণ মৎস্য কমিশনের (জিএফসিএম) ‘আদ্রিয়াতিক সাগর কারিগরি ইউনিট’ উদ্বোধন করা হয়েছে ক্রোয়েশিয়ার স্প্লিটে। এর মধ্য দিয়ে আদ্রিয়াতিক ভাগ করে নেওয়া ছয়টি দেশ যৌথ মৎস্য গবেষণার একটি স্থায়ী ঘাঁটি পেল।
এফএও মৎস্য কমিটির ৩৭তম অধিবেশনের আগে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন এফএওর মহাপরিচালক কু ডংইউ, ক্রোয়েশিয়ার প্রতিমন্ত্রী ইভান মাতিয়েভিচ, সমুদ্রবিজ্ঞান ও মৎস্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক জিভানা নিনচেভিচ এবং জিএফসিএমের নির্বাহী সচিব মিগেল বার্নাল।
ইউনিটটি আলবেনিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ক্রোয়েশিয়া, ইতালি, মন্টিনিগ্রো ও স্লোভেনিয়ার মধ্যে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা জোরদার করবে, ব্যবস্থাপনা পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সহায়তা দেবে এবং সমন্বয় বাড়াবে। জিএফসিএমের সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচি ‘মেডসি৪ফিশ’-এ কারিগরি দক্ষতা ও জ্ঞান বিনিময়েও ইউনিটটি ভূমিকা রাখবে।
যে অর্জনের ওপর ভিত্তি করে ইউনিটটি হচ্ছে, তা মাপা যায়। গত এক দশকে জিএফসিএমের চুক্তিবদ্ধ পক্ষগুলো ১১টি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা ও একগুচ্ছ স্থানিক পদক্ষেপ নিয়েছে; মাছের মজুদের বায়োমাস বেড়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ, আর অতিরিক্ত আহরিত মজুদের হার ২০১৩ সালের ৮৭ শতাংশ থেকে ২০২৩ সালে নেমে এসেছে ৫২ শতাংশে। ২০১৩ সালে জিএফসিএমের প্রথম বহুবর্ষী ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনাটিও নেওয়া হয়েছিল এই আদ্রিয়াতিকেই।
কু ডংইউ বলেন, “অগ্রগতির কেন্দ্রে থাকে শক্তিশালী বিজ্ঞান।” তাঁর বক্তব্য, নির্ভরযোগ্য তথ্য, গবেষণা ও উন্নত মূল্যায়ন পদ্ধতিই জ্ঞানকে মাপযোগ্য ফলাফলে বদলে দেয়। তিনি সতর্ক করেন, জলজ খাদ্যের বাড়তি চাহিদা, মাছ ধরার বাড়তি চাপ ও জলবায়ু সংকট—সবই সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলছে; তাই দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং সিদ্ধান্ত নিতে হবে তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে।
মহাপরিচালক ইউনিটটিকে এফএওর ‘ব্লু ট্রান্সফরমেশন’ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করেন—যার লক্ষ্য শক্তিশালী মৎস্য ব্যবস্থাপনা, দায়িত্বশীল অ্যাকুয়াকালচার ও উন্নত জলজ মূল্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে জলজ খাদ্যব্যবস্থাকে আরও দক্ষ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহনশীল ও টেকসই করা।
আদ্রিয়াতিকের মৎস্যজীবী জনগোষ্ঠীর কাছে আসল প্রশ্ন একটাই—যৌথ বিজ্ঞান শেষ পর্যন্ত এমন যৌথ নিয়ম তৈরি করে কি না, যা টেকে। গত এক দশকের হিসাব, অর্থাৎ মাছ ধরা চালু রেখেও বায়োমাস বাড়া, সেই প্রশ্নেরই ইতিবাচক উত্তর হিসেবে নতুন ইউনিটটির ভিত্তি।
সূত্র: এফএও নিউজরুম





মন্তব্য
(০)